দেনমোহর নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা ঐচ্ছিক উপহার নয়, এটি একজন স্ত্রীর স্বতন্ত্র আর্থিক অধিকার এবং বিয়ের মাধ্যমে স্বামীর ওপর তৈরি হওয়া একটি বাধ্যতামূলক আইনগত দায়।
সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আর্থিক অক্ষমতার অজুহাত দেখিয়ে কোনো স্বামী দেনমোহর পরিশোধের পবিত্র ও আইনগত দায়িত্ব থেকে কখনোই অব্যাহতি পেতে পারেন না। ইসলামি শরিয়ত ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিকাহনামায় দেনমোহরের নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারিত থাকলে স্বামী তা পরিশোধ করতে বাধ্য এবং এটি স্ত্রীর কাছে স্বামীর একটি অপরিশোধিত ঋণের সমতুল্য।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালে ২২ লাখ টাকা দেনমোহরে ইয়াকুব আলী ও সানজিদা নাসরিনের বিয়ে হয় এবং তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহের জেরে বিচ্ছেদ ঘটলে স্ত্রী দেনমোহর, ইদ্দতকালীন এবং মেয়ের বকেয়া ভরণপোষণ চেয়ে চট্টগ্রামের পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। ২০২২ সালে আদালত একতরফা ডিক্রিতে দেনমোহর ও ভরণপোষণ বাবদ মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। স্বামী এর বিরুদ্ধে আপিল ও পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিভিশন করলে শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিভিশন আবেদনটি খারিজ করে পারিবারিক আদালতের রায় ও ডিক্রি পুরোপুরি বহাল রাখেন।
রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেছে, স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায়, স্বাধীনভাবে ও কোনো প্রকার জবরদস্তি ছাড়া দেনমোহরের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ মওকুফ না করেন, তবে আদালতেরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেনমোহরের অর্থ কমিয়ে দেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই।
তবে রায়ে স্বামী প্রকৃত আর্থিক সংকটে পড়লে আদালতের মাধ্যমে পাওনা অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। কিন্তু এমন কিস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যেন ডিক্রিধারী স্ত্রী ও তার সন্তানের মৌলিক অধিকার ও স্বার্থ কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়। এছাড়া স্কুলগামী অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের খাবার, বাসস্থান ও শিক্ষার সার্বিক ব্যয় বিবেচনায় মাসিক ভরণপোষণের পূর্বের সিদ্ধান্তও বহাল রাখা হয়েছে।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
দেনমোহর নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা ঐচ্ছিক উপহার নয়, এটি একজন স্ত্রীর স্বতন্ত্র আর্থিক অধিকার এবং বিয়ের মাধ্যমে স্বামীর ওপর তৈরি হওয়া একটি বাধ্যতামূলক আইনগত দায়।
সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আর্থিক অক্ষমতার অজুহাত দেখিয়ে কোনো স্বামী দেনমোহর পরিশোধের পবিত্র ও আইনগত দায়িত্ব থেকে কখনোই অব্যাহতি পেতে পারেন না। ইসলামি শরিয়ত ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিকাহনামায় দেনমোহরের নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারিত থাকলে স্বামী তা পরিশোধ করতে বাধ্য এবং এটি স্ত্রীর কাছে স্বামীর একটি অপরিশোধিত ঋণের সমতুল্য।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালে ২২ লাখ টাকা দেনমোহরে ইয়াকুব আলী ও সানজিদা নাসরিনের বিয়ে হয় এবং তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহের জেরে বিচ্ছেদ ঘটলে স্ত্রী দেনমোহর, ইদ্দতকালীন এবং মেয়ের বকেয়া ভরণপোষণ চেয়ে চট্টগ্রামের পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। ২০২২ সালে আদালত একতরফা ডিক্রিতে দেনমোহর ও ভরণপোষণ বাবদ মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। স্বামী এর বিরুদ্ধে আপিল ও পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিভিশন করলে শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিভিশন আবেদনটি খারিজ করে পারিবারিক আদালতের রায় ও ডিক্রি পুরোপুরি বহাল রাখেন।
রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেছে, স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায়, স্বাধীনভাবে ও কোনো প্রকার জবরদস্তি ছাড়া দেনমোহরের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ মওকুফ না করেন, তবে আদালতেরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেনমোহরের অর্থ কমিয়ে দেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই।
তবে রায়ে স্বামী প্রকৃত আর্থিক সংকটে পড়লে আদালতের মাধ্যমে পাওনা অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। কিন্তু এমন কিস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যেন ডিক্রিধারী স্ত্রী ও তার সন্তানের মৌলিক অধিকার ও স্বার্থ কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়। এছাড়া স্কুলগামী অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের খাবার, বাসস্থান ও শিক্ষার সার্বিক ব্যয় বিবেচনায় মাসিক ভরণপোষণের পূর্বের সিদ্ধান্তও বহাল রাখা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন