সংবাদ

নদীর পাড় কেটে ৫ কোটির বালু লুট, জনপ্রতিনিধিসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা


প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ
প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

নদীর পাড় কেটে ৫ কোটির বালু লুট, জনপ্রতিনিধিসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি : সংবাদ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় মরাচেলা (সোনালী চেলা) নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে দোয়ারাবাজার থানায় মামলাটি করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনালী চেলা নদীসংলগ্ন শ্রীপুর মৌজার সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে যান পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের সত্যতা মেলে এবং নদীর পাড় কাটার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ধরনের ছাড়পত্র ছাড়াই ড্রেজার ও অবৈধ যন্ত্রপাতি দিয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করছিলেন। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকার পরিবেশ ও পরিবেশগত প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে আনুমানিক ২৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হয়েছে। উত্তোলিত এই বালুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।

মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন মেম্বার, জিয়াউর রহমান বোঘ, জহর মেম্বার, আব্দুল হেকিম চেয়ারম্যান, ধন মিয়া মেম্বারসহ নামীয় ৩৭ জন। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ঙ), ১২ ও ১৫(১) ধারায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় এ মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক সংবাদকে বলেন, ‘অভিযুক্তরা সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে নদীর পাড় কেটে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে পরিবেশ ও প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শেষে আদালতে দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


নদীর পাড় কেটে ৫ কোটির বালু লুট, জনপ্রতিনিধিসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় মরাচেলা (সোনালী চেলা) নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে দোয়ারাবাজার থানায় মামলাটি করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনালী চেলা নদীসংলগ্ন শ্রীপুর মৌজার সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে যান পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের সত্যতা মেলে এবং নদীর পাড় কাটার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ধরনের ছাড়পত্র ছাড়াই ড্রেজার ও অবৈধ যন্ত্রপাতি দিয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করছিলেন। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকার পরিবেশ ও পরিবেশগত প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে আনুমানিক ২৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হয়েছে। উত্তোলিত এই বালুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।

মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন মেম্বার, জিয়াউর রহমান বোঘ, জহর মেম্বার, আব্দুল হেকিম চেয়ারম্যান, ধন মিয়া মেম্বারসহ নামীয় ৩৭ জন। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ঙ), ১২ ও ১৫(১) ধারায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় এ মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক সংবাদকে বলেন, ‘অভিযুক্তরা সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে নদীর পাড় কেটে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে পরিবেশ ও প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শেষে আদালতে দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত