সংবাদ

পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার


প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার
ছবি : সংবাদ

শুধু রমজানকে কেন্দ্র করে নয়, বছরজুড়েই নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে মাল্টাসহ সব ধরনের ফল আমদানিতে শুল্ককাঠামো দ্রুত যুক্তিসঙ্গত করার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশ্বাস দেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এ সভার আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বছর দেশে সব পণ্যের দাম একই অবস্থায় থাকবে—এ বিষয় নিয়ে আগে কেউ সমন্বিতভাবে কাজ করেনি। আমরা এখন সেটি নিয়ে কাজ করছি। মৌসুমের বাইরেও যাতে পণ্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শুল্ক কাঠামোতে যে পরিবর্তন আনা হবে, তা শুধু রমজানকে সামনে রেখে নয়, সারা বছরের জন্যই করা হবে।’

আসন্ন রমজানে পণ্যসংকটের কোনো আশঙ্কা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রমজানের বাকি এখনও প্রায় তিন মাস। এ পর্যন্ত পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। যে পরিমাণ ঋণপত্র (এলসি) ও আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) খোলা হয়েছে, তাতে রমজানে পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না এবং দামও স্থিতিশীল থাকবে।’

কৃষি ও আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পৃথিবী এখন আগের জায়গায় নেই, আধুনিক প্রযুক্তিতে ‘গ্রীন ফার্মিং’ হচ্ছে। বাংলাদেশেও কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। যেমন সিলেট অঞ্চলে আগে তরমুজ চাষ না হলেও এখন হচ্ছে। তবে বর্ষাকাল সবজি চাষের মূল মৌসুম নয়। সে সময় সবজির দাম কম রাখা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে; বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি বুঝতে হবে।’

পোর্ট ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মো. আমিরুল হক। তিনি বলেন, ‘রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমাদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় ছিল। আমাদের কাছে বাজারের সুনির্দিষ্ট চাহিদার হিসাব রয়েছে, তাই কোনো তথ্যের আড়ালের সুযোগ নেই।’

সভাপতির বক্তব্যে আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘আইপি, আইআরসি কিংবা বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন নেওয়ার নামে তৈরি প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত দূর করা দরকার। সাধারণ মাছের পোনা আমদানির জন্যও খামারবাড়িতে যেতে হয়। এসব অপ্রয়োজনীয় নিয়মনীতির কারণে ব্যবসায় বাণিজ্যিক দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।’

সভায় খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুস সালাম, বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান, বিএসবিআরএ সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল আলমসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শুধু রমজানকে কেন্দ্র করে নয়, বছরজুড়েই নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে মাল্টাসহ সব ধরনের ফল আমদানিতে শুল্ককাঠামো দ্রুত যুক্তিসঙ্গত করার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশ্বাস দেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এ সভার আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বছর দেশে সব পণ্যের দাম একই অবস্থায় থাকবে—এ বিষয় নিয়ে আগে কেউ সমন্বিতভাবে কাজ করেনি। আমরা এখন সেটি নিয়ে কাজ করছি। মৌসুমের বাইরেও যাতে পণ্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শুল্ক কাঠামোতে যে পরিবর্তন আনা হবে, তা শুধু রমজানকে সামনে রেখে নয়, সারা বছরের জন্যই করা হবে।’

আসন্ন রমজানে পণ্যসংকটের কোনো আশঙ্কা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রমজানের বাকি এখনও প্রায় তিন মাস। এ পর্যন্ত পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। যে পরিমাণ ঋণপত্র (এলসি) ও আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) খোলা হয়েছে, তাতে রমজানে পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না এবং দামও স্থিতিশীল থাকবে।’

কৃষি ও আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পৃথিবী এখন আগের জায়গায় নেই, আধুনিক প্রযুক্তিতে ‘গ্রীন ফার্মিং’ হচ্ছে। বাংলাদেশেও কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। যেমন সিলেট অঞ্চলে আগে তরমুজ চাষ না হলেও এখন হচ্ছে। তবে বর্ষাকাল সবজি চাষের মূল মৌসুম নয়। সে সময় সবজির দাম কম রাখা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে; বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি বুঝতে হবে।’

পোর্ট ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মো. আমিরুল হক। তিনি বলেন, ‘রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমাদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় ছিল। আমাদের কাছে বাজারের সুনির্দিষ্ট চাহিদার হিসাব রয়েছে, তাই কোনো তথ্যের আড়ালের সুযোগ নেই।’

সভাপতির বক্তব্যে আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘আইপি, আইআরসি কিংবা বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন নেওয়ার নামে তৈরি প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত দূর করা দরকার। সাধারণ মাছের পোনা আমদানির জন্যও খামারবাড়িতে যেতে হয়। এসব অপ্রয়োজনীয় নিয়মনীতির কারণে ব্যবসায় বাণিজ্যিক দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।’

সভায় খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুস সালাম, বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান, বিএসবিআরএ সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল আলমসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত