আর মাত্র কয়েক দিন পর শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে নরসিংদীজুড়ে শুরু হয়েছে বর্ণিল আয়োজন ও ব্যস্ততা। জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, আর প্রতিমা শিল্পালয়গুলোতে মৃৎশিল্পীদের তুলির আঁচড়ে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার অবয়ব। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, জেলাজুড়ে ততই বাড়ছে উৎসবের আমেজ।
পঞ্জিকা মতে, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসব। ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এর আগে ১০ অক্টোবর মহালয়া বা সর্বপিতৃ অমাবস্যা পালিত হবে, যার মধ্য দিয়ে সূচিত হবে দেবীপক্ষ। শাস্ত্রীয় মতে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোড়ায় চড়ে এবং কৈলাসে প্রত্যাবর্তন হবে নৌকায়।
চলতি বছর নরসিংদী জেলার ছয়টি উপজেলায় সর্বমোট ৩৬১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচামাটি ও খড়ের কাজ শেষ করে এখন দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ নানা দেব-দেবীর মূর্তিতে রঙের প্রলেপ ও বর্ণিল সাজসজ্জার কাজ চলছে।
নরসিংদীতে বর্তমানে প্রায় ২০টি প্রতিমা শিল্পালয় রয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদী শহরে ৬টি, সদর উপজেলার পাঁচদোনায় ৪টি, শিবপুরের যোশরে ৩টি, শাষপুরে ১টি, পলাশে ২টিতে, রায়পুরায় ২টিতে ও মনোহরদীতে ২টি শিল্পালয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। দেশীয় কারিগরদের পাশাপাশি ভারত থেকেও বেশ কিছু মৃৎশিল্পী চুক্তিতে এসব শিল্পালয়ে কাজ করছেন।
পাঁচদোনা বাজারের ‘শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ প্রতিমা শিল্পালয়ের’ মালিক বলরাম পাল জানান, তাঁর কারখানায় তৈরি প্রতিমা ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে সরবরাহ করা হচ্ছে। এবার প্রতিমার চাহিদা ও দাম ভালো হলেও বাঁশ, কাঠ, খড়, মাটি ও রঙের দর বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখতে পারছেন না তারা।
অন্যদিকে শিবপুরের যোশর এলাকার প্রতিমা শিল্পী রনি পাল ও লিটন পাল জানান, টানা বৃষ্টির কারণে কাজ করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। একেকটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিমা তৈরিতে গড়ে ১৮ দিন সময় লাগে এবং আকারভেদে কারিগররা সেটপ্রতি ১৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পান।
শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপত্তাবেষ্টনীতে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে যৌথ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মনোহরদী উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মান্না দাস চৌধুরী উজ্জ্বল জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মাখন দাস বলেন, ‘সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন। আমরা প্রতি বছরের মতো এবারও নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারব বলে আশাবাদী।’

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
আর মাত্র কয়েক দিন পর শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে নরসিংদীজুড়ে শুরু হয়েছে বর্ণিল আয়োজন ও ব্যস্ততা। জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, আর প্রতিমা শিল্পালয়গুলোতে মৃৎশিল্পীদের তুলির আঁচড়ে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার অবয়ব। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, জেলাজুড়ে ততই বাড়ছে উৎসবের আমেজ।
পঞ্জিকা মতে, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসব। ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এর আগে ১০ অক্টোবর মহালয়া বা সর্বপিতৃ অমাবস্যা পালিত হবে, যার মধ্য দিয়ে সূচিত হবে দেবীপক্ষ। শাস্ত্রীয় মতে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোড়ায় চড়ে এবং কৈলাসে প্রত্যাবর্তন হবে নৌকায়।
চলতি বছর নরসিংদী জেলার ছয়টি উপজেলায় সর্বমোট ৩৬১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচামাটি ও খড়ের কাজ শেষ করে এখন দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ নানা দেব-দেবীর মূর্তিতে রঙের প্রলেপ ও বর্ণিল সাজসজ্জার কাজ চলছে।
নরসিংদীতে বর্তমানে প্রায় ২০টি প্রতিমা শিল্পালয় রয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদী শহরে ৬টি, সদর উপজেলার পাঁচদোনায় ৪টি, শিবপুরের যোশরে ৩টি, শাষপুরে ১টি, পলাশে ২টিতে, রায়পুরায় ২টিতে ও মনোহরদীতে ২টি শিল্পালয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। দেশীয় কারিগরদের পাশাপাশি ভারত থেকেও বেশ কিছু মৃৎশিল্পী চুক্তিতে এসব শিল্পালয়ে কাজ করছেন।
পাঁচদোনা বাজারের ‘শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ প্রতিমা শিল্পালয়ের’ মালিক বলরাম পাল জানান, তাঁর কারখানায় তৈরি প্রতিমা ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে সরবরাহ করা হচ্ছে। এবার প্রতিমার চাহিদা ও দাম ভালো হলেও বাঁশ, কাঠ, খড়, মাটি ও রঙের দর বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখতে পারছেন না তারা।
অন্যদিকে শিবপুরের যোশর এলাকার প্রতিমা শিল্পী রনি পাল ও লিটন পাল জানান, টানা বৃষ্টির কারণে কাজ করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। একেকটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিমা তৈরিতে গড়ে ১৮ দিন সময় লাগে এবং আকারভেদে কারিগররা সেটপ্রতি ১৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পান।
শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপত্তাবেষ্টনীতে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে যৌথ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মনোহরদী উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মান্না দাস চৌধুরী উজ্জ্বল জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মাখন দাস বলেন, ‘সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন। আমরা প্রতি বছরের মতো এবারও নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারব বলে আশাবাদী।’

আপনার মতামত লিখুন