সংবাদ

বসনিয়ায় অবৈধ অভিবাসী বৃদ্ধিতে ৬৮ বাংলাদেশি আটক


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

বসনিয়ায় অবৈধ অভিবাসী বৃদ্ধিতে ৬৮ বাংলাদেশি আটক

  • সীমান্ত পারাপারে ৭৫ শতাংশের বেশি অবৈধ অভিবাসী বৃদ্ধি

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় শনাক্ত হওয়া অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক গৃহিত ‘দেশটিতে অভিবাসন পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় মিশর, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তুরস্কের নাগরিকেরা বড় সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দেশটির সীমান্ত পুলিশ অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের নানা প্রচেষ্টার সময় সবমিলিয়ে ১ হাজার ১৯৩ জন অভিবাসীকে কঠোরভাবে শনাক্ত করেছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশ উদ্বেগজনক।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের এই বিপজ্জনক চেষ্টায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় শনাক্ত হয়েছেন মিশরের নাগরিকেরা, যাদের মোট সংখ্যা ১৩৬ জন। এরপরেই রয়েছে যথাক্রমে আফগানিস্তানের ১১৫ জন, পাকিস্তানের ১১৩ জন, বাংলাদেশের ৬৮ জন এবং তুরস্কের ৬৩ জন নাগরিক।

দেশটির বিদেশি নাগরিকবিষয়ক পরিষেবার সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন অভিবাসীর তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি। এসময়ে দেশটির অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত অভিবাসীর চাপও লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম তিন মাসে এসব কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৯২৪ জন অভিবাসী অবস্থান করেছেন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা গড়ে মাত্র ৫৮১ জন ছিল।

অভিবাসন পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশটিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির সংখ্যাও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে মোট ৪ হাজার ৫৬৯টি অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। এই অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার সবচেয়ে সাধারণ ও প্রধান কারণ হিসেবে কর্মসংস্থানের বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গত বছরের সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই নতুন কর্মপরিকল্পনায় সীমান্তে তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা, আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মানসম্মত আচরণসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

পাশাপাশি দেশটির রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও সুরক্ষা সংস্থার (সিপা) কার্যক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত সরকারি যানবাহন কেনা ও ব্যবহারের শর্তসংক্রান্ত একটি নতুন বিধিমালার প্রস্তাবেও পূর্ণ সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। প্রস্তাবিত এই বিধিমালায় চারটি ভিন্ন শ্রেণিতে মোট ১৮০টি বিশেষায়িত যানবাহনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রসমূহের জোট গ্রেকোর পঞ্চম মূল্যায়ন পর্বের সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সংগঠিত অপরাধ দমনের কৌশল বাস্তবায়নসংক্রান্ত প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করেছে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


বসনিয়ায় অবৈধ অভিবাসী বৃদ্ধিতে ৬৮ বাংলাদেশি আটক

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

  • সীমান্ত পারাপারে ৭৫ শতাংশের বেশি অবৈধ অভিবাসী বৃদ্ধি

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় শনাক্ত হওয়া অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক গৃহিত ‘দেশটিতে অভিবাসন পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় মিশর, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তুরস্কের নাগরিকেরা বড় সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দেশটির সীমান্ত পুলিশ অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের নানা প্রচেষ্টার সময় সবমিলিয়ে ১ হাজার ১৯৩ জন অভিবাসীকে কঠোরভাবে শনাক্ত করেছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশ উদ্বেগজনক।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের এই বিপজ্জনক চেষ্টায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় শনাক্ত হয়েছেন মিশরের নাগরিকেরা, যাদের মোট সংখ্যা ১৩৬ জন। এরপরেই রয়েছে যথাক্রমে আফগানিস্তানের ১১৫ জন, পাকিস্তানের ১১৩ জন, বাংলাদেশের ৬৮ জন এবং তুরস্কের ৬৩ জন নাগরিক।

দেশটির বিদেশি নাগরিকবিষয়ক পরিষেবার সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন অভিবাসীর তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি। এসময়ে দেশটির অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত অভিবাসীর চাপও লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম তিন মাসে এসব কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৯২৪ জন অভিবাসী অবস্থান করেছেন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা গড়ে মাত্র ৫৮১ জন ছিল।

অভিবাসন পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশটিতে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির সংখ্যাও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে মোট ৪ হাজার ৫৬৯টি অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। এই অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার সবচেয়ে সাধারণ ও প্রধান কারণ হিসেবে কর্মসংস্থানের বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গত বছরের সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই নতুন কর্মপরিকল্পনায় সীমান্তে তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা, আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মানসম্মত আচরণসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

পাশাপাশি দেশটির রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও সুরক্ষা সংস্থার (সিপা) কার্যক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত সরকারি যানবাহন কেনা ও ব্যবহারের শর্তসংক্রান্ত একটি নতুন বিধিমালার প্রস্তাবেও পূর্ণ সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। প্রস্তাবিত এই বিধিমালায় চারটি ভিন্ন শ্রেণিতে মোট ১৮০টি বিশেষায়িত যানবাহনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রসমূহের জোট গ্রেকোর পঞ্চম মূল্যায়ন পর্বের সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সংগঠিত অপরাধ দমনের কৌশল বাস্তবায়নসংক্রান্ত প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করেছে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত