সংবাদ

১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার দাবি পরিবারের


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২ এএম

১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার দাবি পরিবারের
ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন শিশুটির স্বজনরা। পরিবারের দাবি, শিশুটি বর্তমানে প্রায় ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রীর দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে তার স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত নূর আলম (৩৫) শ্যামনগর উপজেলার গুমানতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং গুমানতলী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শিক্ষক। শিশুটির বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলায়। পড়াশোনার জন্য সে শ্যামনগরে নানার বাড়িতে থাকত এবং নূর আলমের স্ত্রীর কাছে প্রাইভেট পড়ত।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শিশুটিকে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। এ ছাড়া হযরত (১৭) নামের এক কিশোরের বিরুদ্ধে শিশুটির গোসলের ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ রয়েছে। আরেক কিশোর আবু হাসানের (১৪) বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, নূর আলমের স্ত্রীর কাছে প্রাইভেট পড়ার সময় তিনি ভিক্টিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করতেন। একদিন জ্বরের সময় তাকে একটি জুস দেওয়া হয়। সেটি খাওয়ার পর সে ঘুমিয়ে পড়ে এবং পরে খাটের পাশে নূর আলমকে বসে থাকতে দেখে বলে জানায়।

শিশুটির নানি বলেন, তার নাতনি প্রায় তিন বছর ধরে তার কাছে থাকত। নাতনির এই অবস্থার বিষয়ে তিনি আগে কিছু বুঝতে পারেননি। নানি আরও জানান, শিশুটি নূর আলম ও হযরত নামের দুজনের কথা বলেছে, তবে তিনি নিজে কোনো ঘটনা দেখেননি।

সৌদি আরবে থাকা শিশুটির মা বলেন, মেয়ের কাছ থেকেই তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তার অভিযোগ, গোসলের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোয় মেয়ে ভয়ে কাউকে কিছু জানাতে পারেনি। তার দাবি, শিশুটির বয়স প্রায় সাড়ে ১১ বছর।

অন্যদিকে অভিযুক্ত নূর আলমের স্ত্রী জেসমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিশুর নানির সঙ্গে কিছুদিন আগে তাদের পারিবারিক বিরোধ হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরেই তার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

গত রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটির স্বজনরা তাকে নিয়ে শ্যামনগর থানায় যান। এ সময় নূর আলম ছাড়াও মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী আবু হাসান ও হযরতের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার দাবি পরিবারের

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন শিশুটির স্বজনরা। পরিবারের দাবি, শিশুটি বর্তমানে প্রায় ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রীর দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে তার স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত নূর আলম (৩৫) শ্যামনগর উপজেলার গুমানতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং গুমানতলী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শিক্ষক। শিশুটির বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলায়। পড়াশোনার জন্য সে শ্যামনগরে নানার বাড়িতে থাকত এবং নূর আলমের স্ত্রীর কাছে প্রাইভেট পড়ত।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শিশুটিকে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। এ ছাড়া হযরত (১৭) নামের এক কিশোরের বিরুদ্ধে শিশুটির গোসলের ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ রয়েছে। আরেক কিশোর আবু হাসানের (১৪) বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, নূর আলমের স্ত্রীর কাছে প্রাইভেট পড়ার সময় তিনি ভিক্টিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করতেন। একদিন জ্বরের সময় তাকে একটি জুস দেওয়া হয়। সেটি খাওয়ার পর সে ঘুমিয়ে পড়ে এবং পরে খাটের পাশে নূর আলমকে বসে থাকতে দেখে বলে জানায়।

শিশুটির নানি বলেন, তার নাতনি প্রায় তিন বছর ধরে তার কাছে থাকত। নাতনির এই অবস্থার বিষয়ে তিনি আগে কিছু বুঝতে পারেননি। নানি আরও জানান, শিশুটি নূর আলম ও হযরত নামের দুজনের কথা বলেছে, তবে তিনি নিজে কোনো ঘটনা দেখেননি।

সৌদি আরবে থাকা শিশুটির মা বলেন, মেয়ের কাছ থেকেই তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তার অভিযোগ, গোসলের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোয় মেয়ে ভয়ে কাউকে কিছু জানাতে পারেনি। তার দাবি, শিশুটির বয়স প্রায় সাড়ে ১১ বছর।

অন্যদিকে অভিযুক্ত নূর আলমের স্ত্রী জেসমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিশুর নানির সঙ্গে কিছুদিন আগে তাদের পারিবারিক বিরোধ হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরেই তার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

গত রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটির স্বজনরা তাকে নিয়ে শ্যামনগর থানায় যান। এ সময় নূর আলম ছাড়াও মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী আবু হাসান ও হযরতের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত