প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়লে জনসেবা আরও গতিশীল হবে বলে মন্তব্য করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। তিনি বলেছেন, জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার কথা গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। তাই জনদুর্ভোগ নিরসন, উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উখিয়া প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় ইউএনও এসব কথা বলেন। সভায় উখিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানো, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, উখিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং উপজেলা। এখানে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলেও প্রশাসনের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে কাজের মান উন্নত করা সম্ভব। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমার ভুল হতে পারে। কোনো সিদ্ধান্ত বা কাজে ভুলত্রুটি থাকলে আপনারা সমালোচনা করবেন। গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন। এর মাধ্যমে প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব।”
পর্যটন খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে ইউএনও বলেন, এ অঞ্চলে পর্যটনশিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি উদ্যোগে অবকাঠামো গড়ে উঠলেও পরিকল্পিত উপায়ে এ খাতকে সম্প্রসারণ করে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পার্কগুলোর মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বিভিন্ন প্রদর্শনী আয়োজনের চিন্তাভাবনা চলছে।
উখিয়ায় মাদকাসক্তদের সাশ্রয়ী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য মাদক নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি, পুলিশ ও সেনাসদস্যদের পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার, রাতের বেলায় রোহিঙ্গা যাতায়াত রোধ এবং অবৈধ বাসা ভাড়া বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে ইউএনও প্রশাসনের কাজে সাংবাদিকদের বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সিনিয়র সাংবাদিক শামসুর হক শারেক, উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুর রহিম শাহীন, প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক আমানুল হক বাবুল এবং উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ।
/

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়লে জনসেবা আরও গতিশীল হবে বলে মন্তব্য করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। তিনি বলেছেন, জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার কথা গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। তাই জনদুর্ভোগ নিরসন, উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উখিয়া প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় ইউএনও এসব কথা বলেন। সভায় উখিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানো, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, উখিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং উপজেলা। এখানে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলেও প্রশাসনের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে কাজের মান উন্নত করা সম্ভব। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমার ভুল হতে পারে। কোনো সিদ্ধান্ত বা কাজে ভুলত্রুটি থাকলে আপনারা সমালোচনা করবেন। গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন। এর মাধ্যমে প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব।”
পর্যটন খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে ইউএনও বলেন, এ অঞ্চলে পর্যটনশিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি উদ্যোগে অবকাঠামো গড়ে উঠলেও পরিকল্পিত উপায়ে এ খাতকে সম্প্রসারণ করে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পার্কগুলোর মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বিভিন্ন প্রদর্শনী আয়োজনের চিন্তাভাবনা চলছে।
উখিয়ায় মাদকাসক্তদের সাশ্রয়ী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য মাদক নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি, পুলিশ ও সেনাসদস্যদের পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার, রাতের বেলায় রোহিঙ্গা যাতায়াত রোধ এবং অবৈধ বাসা ভাড়া বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে ইউএনও প্রশাসনের কাজে সাংবাদিকদের বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সিনিয়র সাংবাদিক শামসুর হক শারেক, উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুর রহিম শাহীন, প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক আমানুল হক বাবুল এবং উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ।
/

আপনার মতামত লিখুন