হ হ, বুঝছি। আপনে বর্তমান প্রজন্ম জেন-জি’র, কথা বলচেন যে, বর্তমান জেন-জি, কোনো কিছু, উড়িয়েও দিতে চায় না পুড়িয়েও দিতে চায় না...”
হ ভাই দুনিয়া অখন এআই’এর যুগ, অহন পাবলিক আর উড়ায়া-পুড়ায়া দেয় না, অহন স্রেফ সুদখোরের আবিষ্কৃত পথে জেন-জি, কেবল বুলডোজারদি গুড়ায়া দ্যায়।
আরে পাগলা আমি এই বুলডোজার কালচারের কথা বলছি না। আমি বলছি মাননীয় বেতাল পঞ্চবিংশতি বেতালের কথা।
যার কথার কোনো তাল নাই, বেতাল!
আরে না, আমি বলছিলাম, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতি থেকে বাংলায় অনুবাদ বেতাল পঞ্চবিংশতি ভূতের গল্প।
ভূত মাইনে তো অতীত, অহন আর অতীতের প্যাচাল শুনি কী লাভ হোইবো। বিগত চুয়ান্ন বছর ধরি ট্যাকা ট্যাকা করি বাঙালি জাতির ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান ব্যাবাগ পচাই অহননি আপনে আবার ভূতের কতা কন!
শোননা, বেতাল পঞ্চবিংশতির গল্প হোচ্ছে, রাজা বিক্রমাদিত্য শমী বৃক্ষ হতে, বেতাল ভূতের কঙ্কাল পেড়ে আনবে, আর পথিমধ্যে বেতাল একটা করে গল্প বলবে...
ভূতেনি, মাইনে অতীতনি, বর্তমানের গল্প কোইবো?
ধুর বাঙাল কেবল কথার মাঝে কথা বলিস...
ঠিক আছে ঠিক আছে, আর কমু না ভূতেও বর্তমানের গল্প কোইবো। নেন আন্নে আপনের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতির ভাষায় ল্যাখা বাংলায় অনুবাদ বেতাল পঞ্চবিংশতি ভূতের গল্প কন।
রাজা বিক্রমাদিত্য শমী বৃক্ষ হতে, বেতাল ভূতের কঙ্কাল পেড়ে আনবে, আর পথিমধ্যে বেতাল একটা করে গল্প বলবে...
কিন্তু প্রতিটি গল্পের শেষে বেতাল ভূত ওই গল্পের উপর বেইজ করে একটা প্রশ্ন করবে? রাজা যদি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দ্যায় তায়লে বেতাল আবার শমী বৃক্ষের উপর চলে যাবে রাজা বিক্রমাদিত্যকে আবার গাছে উঠে বেতাল ভূতের কঙ্কাল পেড়ে আনবেন, আর যদি রাজা ইচ্ছা করে ভুল উত্তর দ্যান তাহলে বেতাল ভূত রাজার ঘাড় মটকে মেরে ফেলবে।
ওম্মারে মা, সত্যি কোইলে আবার গাছে চড়ন, আর মিথ্যা কোইলে মরণ। বেতাল ভূতে তো রাজার ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান ব্যাবাগ মারি হ্যালার! তো আন্নের এই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতির ভাষায় ল্যাখা বাংলায় অনুবাদ পঞ্চবিংশতি বেতাল ভূতের গল্পের মইধ্যে বাংলাদেশের কুনো সর্ম্পক আছেনি?
সর্ম্পক আছেনি মানে কিরে, এখনতো পুরো দেশ এমনি এক বেতালের মতো চলছে।
আন্নে মিয়া চোখ থাকিতে অন্ধ! আন্নে দেখছেন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা কী সুন্দর বিশ্বমানে পৌঁছাইছে...
কী কী বললি! আইনশৃঙ্খলা বিশ্বমানে পৌঁছেছে...
ক্যান আন্নের কুনো সন্দ আছেনি?
কী ব্যাপার তুই কি গঞ্জিকা মানে গাঁজাটাঁজা টানছিস নাকি?
কিয়ের গঞ্জিকা মানে গাঁজাটাঁজা টানছিস নাকি! আপনে দ্যাখেন নাই জার্মানি পর্যটকের ল্যাপটপ মাত্র চাইর দিনে উদ্ধার।
আর ওই যে, ধানমন্ডির সামনে এক মানসিক ভারসাম্যহীন, ব্যাডারে হিডি, লাত্থিমারি হোতাই ফ্যালার, হেই বিচারের রায় দ্রুত সময়ে কার্যকর! বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থান অহন পিরথীবির যে কুনো সভ্য দেশের চেয়েও সভ্য। আর আন্নে মিয়া কন, আপনের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতির ভাষায় ল্যাখা বাংলায় অনুবাদ বেতাল পঞ্চবিংশতি ভূতের মতুন দেশ চলের। আসলেই বাঙ্গালী নিজের ভালো নিজে দ্যাখা পারে না!
আচ্ছা তুই বল মানসিক ভারসাম্যহীন লোকের বিচার কি স্বভাবিক অপরাধীদের মতো বিচার হবে?
হাগলনি কোনো! হাগলের বিচার মাইনে, মানসিক অপরাধীদের প্রথমে আপনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞর পরামর্শ লোই, হ্যাতারে ভালো করি তারপর না বিচার। কিন্তু স্যার আপনে যে তখন থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতি থেকে বাংলায় অনুবাদ বেতাল পঞ্চবিংশতি ভূতের গল্পের মতো বাংলাদেশ চলের বোলচেন, সেটার মাজেজা কী?
আচ্ছা তোকে একটা বেতালের গল্প বলি...
বলেন বলেন ভূতের গল্প আমার খুবই মজা লাগে।
এসব ভূতের গল্প মজার না, বোধের।
আরে প্যাচাল কম পাড়েন, গল্পটা কন।
শোন বলি বেতালের গল্প। সে বহু বহু দিন আগের কথা, মা’দূর্গার এক তরুণী ভক্ত বাসর রাতের পর স্বামী ও স্বামীর বন্ধুর সাথে শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছে। এমন সময় পথিমধ্যে ডাকাতের তলোয়ারের আঘাতে স্বামী ও স্বামীর বন্ধুর মাথা ধড় থেকে আলাদা হয়ে পড়ে থাকে। জিনিসপত্র লুঠ করে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। নববধূ তখন স্বামীর শোকে আত্মহত্যা করতে যাবে এমন সময় মা দূর্গা এসে বলেন “ওহে তরুণী ভক্ত তোমার আত্মহত্যার প্রয়োজন নেই আমি এঁদের জীবিত করে দিচ্ছি, তুমি জলদি দেহের সাথে মাথা জুড়ে দাও।
নতুন বৌ কি স্বামীরে ফিরি পাইবো?
আরে শোন তো...
কন কন বেতালের গল্প কন।
নতুন বৌ মরা স্বামী ফিরে পাবে, এই খুশিতে তাড়াতাড়ি দুই ধড়ের সাথে মাথা জুড়ে দিলো। সাথে সাথে দুই যুবা পুরুষ যেন ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন, এই ভাবে জেগে উঠলো। সবাই খুব খুশী। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করে দেখে যে, তাড়াহুড়ায় নতুন বৌ স্বামীর দেহে জুড়েছে বন্ধুর মাথা আর বন্ধুর দেহে জুড়েছে স্বামীর মাথা। এখন কে এই তরুণীর সাথে ঘর করবে?
আপনে কি বলচেন যে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেতাল পঞ্চবিংশতি ভূতের গল্পের মতো বাংলাদেশের মাথা পাল্টে গেচে! বাংলাদেশের বডিতে অন্য মাথা লেগেচে যে...
আমারতো তাই মনে হয়, না হলে নিজের দেশের লোকের হাজার সেল ফোন, ল্যাপটপ চুরি হলে বছর কা বছর পাওয়া যায় না আর বিদেশির ল্যাপটপ চারদিনে উদ্ধার! বিষয়টা ভাববার বিষয়।
কিন্তু যুদি বাংলাদেশের সব চুরি চাইর দিনে ধরা পড়ে, সব বিচার যুদি লগে লগে সমাধা হয় তায়লে বাংলাদেশের বডিতে অন্য মাথা লাগলেও আমি হেই মাথারে স্বাগতম জানামু...
সেই ভালো, চল দেশের ভালোর জন্য আমরা সবের মাথা পাল্টাই...
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
হ হ, বুঝছি। আপনে বর্তমান প্রজন্ম জেন-জি’র, কথা বলচেন যে, বর্তমান জেন-জি, কোনো কিছু, উড়িয়েও দিতে চায় না পুড়িয়েও দিতে চায় না...”
হ ভাই দুনিয়া অখন এআই’এর যুগ, অহন পাবলিক আর উড়ায়া-পুড়ায়া দেয় না, অহন স্রেফ সুদখোরের আবিষ্কৃত পথে জেন-জি, কেবল বুলডোজারদি গুড়ায়া দ্যায়।
আরে পাগলা আমি এই বুলডোজার কালচারের কথা বলছি না। আমি বলছি মাননীয় বেতাল পঞ্চবিংশতি বেতালের কথা।
যার কথার কোনো তাল নাই, বেতাল!
আরে না, আমি বলছিলাম, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতি থেকে বাংলায় অনুবাদ বেতাল পঞ্চবিংশতি ভূতের গল্প।
ভূত মাইনে তো অতীত, অহন আর অতীতের প্যাচাল শুনি কী লাভ হোইবো। বিগত চুয়ান্ন বছর ধরি ট্যাকা ট্যাকা করি বাঙালি জাতির ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান ব্যাবাগ পচাই অহননি আপনে আবার ভূতের কতা কন!
শোননা, বেতাল পঞ্চবিংশতির গল্প হোচ্ছে, রাজা বিক্রমাদিত্য শমী বৃক্ষ হতে, বেতাল ভূতের কঙ্কাল পেড়ে আনবে, আর পথিমধ্যে বেতাল একটা করে গল্প বলবে...
ভূতেনি, মাইনে অতীতনি, বর্তমানের গল্প কোইবো?
ধুর বাঙাল কেবল কথার মাঝে কথা বলিস...
ঠিক আছে ঠিক আছে, আর কমু না ভূতেও বর্তমানের গল্প কোইবো। নেন আন্নে আপনের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতির ভাষায় ল্যাখা বাংলায় অনুবাদ বেতাল পঞ্চবিংশতি ভূতের গল্প কন।
রাজা বিক্রমাদিত্য শমী বৃক্ষ হতে, বেতাল ভূতের কঙ্কাল পেড়ে আনবে, আর পথিমধ্যে বেতাল একটা করে গল্প বলবে...
কিন্তু প্রতিটি গল্পের শেষে বেতাল ভূত ওই গল্পের উপর বেইজ করে একটা প্রশ্ন করবে? রাজা যদি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দ্যায় তায়লে বেতাল আবার শমী বৃক্ষের উপর চলে যাবে রাজা বিক্রমাদিত্যকে আবার গাছে উঠে বেতাল ভূতের কঙ্কাল পেড়ে আনবেন, আর যদি রাজা ইচ্ছা করে ভুল উত্তর দ্যান তাহলে বেতাল ভূত রাজার ঘাড় মটকে মেরে ফেলবে।
ওম্মারে মা, সত্যি কোইলে আবার গাছে চড়ন, আর মিথ্যা কোইলে মরণ। বেতাল ভূতে তো রাজার ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান ব্যাবাগ মারি হ্যালার! তো আন্নের এই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতির ভাষায় ল্যাখা বাংলায় অনুবাদ পঞ্চবিংশতি বেতাল ভূতের গল্পের মইধ্যে বাংলাদেশের কুনো সর্ম্পক আছেনি?
সর্ম্পক আছেনি মানে কিরে, এখনতো পুরো দেশ এমনি এক বেতালের মতো চলছে।
আন্নে মিয়া চোখ থাকিতে অন্ধ! আন্নে দেখছেন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা কী সুন্দর বিশ্বমানে পৌঁছাইছে...
কী কী বললি! আইনশৃঙ্খলা বিশ্বমানে পৌঁছেছে...
ক্যান আন্নের কুনো সন্দ আছেনি?
কী ব্যাপার তুই কি গঞ্জিকা মানে গাঁজাটাঁজা টানছিস নাকি?
কিয়ের গঞ্জিকা মানে গাঁজাটাঁজা টানছিস নাকি! আপনে দ্যাখেন নাই জার্মানি পর্যটকের ল্যাপটপ মাত্র চাইর দিনে উদ্ধার।
আর ওই যে, ধানমন্ডির সামনে এক মানসিক ভারসাম্যহীন, ব্যাডারে হিডি, লাত্থিমারি হোতাই ফ্যালার, হেই বিচারের রায় দ্রুত সময়ে কার্যকর! বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থান অহন পিরথীবির যে কুনো সভ্য দেশের চেয়েও সভ্য। আর আন্নে মিয়া কন, আপনের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতির ভাষায় ল্যাখা বাংলায় অনুবাদ বেতাল পঞ্চবিংশতি ভূতের মতুন দেশ চলের। আসলেই বাঙ্গালী নিজের ভালো নিজে দ্যাখা পারে না!
আচ্ছা তুই বল মানসিক ভারসাম্যহীন লোকের বিচার কি স্বভাবিক অপরাধীদের মতো বিচার হবে?
হাগলনি কোনো! হাগলের বিচার মাইনে, মানসিক অপরাধীদের প্রথমে আপনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞর পরামর্শ লোই, হ্যাতারে ভালো করি তারপর না বিচার। কিন্তু স্যার আপনে যে তখন থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতি থেকে বাংলায় অনুবাদ বেতাল পঞ্চবিংশতি ভূতের গল্পের মতো বাংলাদেশ চলের বোলচেন, সেটার মাজেজা কী?
আচ্ছা তোকে একটা বেতালের গল্প বলি...
বলেন বলেন ভূতের গল্প আমার খুবই মজা লাগে।
এসব ভূতের গল্প মজার না, বোধের।
আরে প্যাচাল কম পাড়েন, গল্পটা কন।
শোন বলি বেতালের গল্প। সে বহু বহু দিন আগের কথা, মা’দূর্গার এক তরুণী ভক্ত বাসর রাতের পর স্বামী ও স্বামীর বন্ধুর সাথে শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছে। এমন সময় পথিমধ্যে ডাকাতের তলোয়ারের আঘাতে স্বামী ও স্বামীর বন্ধুর মাথা ধড় থেকে আলাদা হয়ে পড়ে থাকে। জিনিসপত্র লুঠ করে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। নববধূ তখন স্বামীর শোকে আত্মহত্যা করতে যাবে এমন সময় মা দূর্গা এসে বলেন “ওহে তরুণী ভক্ত তোমার আত্মহত্যার প্রয়োজন নেই আমি এঁদের জীবিত করে দিচ্ছি, তুমি জলদি দেহের সাথে মাথা জুড়ে দাও।
নতুন বৌ কি স্বামীরে ফিরি পাইবো?
আরে শোন তো...
কন কন বেতালের গল্প কন।
নতুন বৌ মরা স্বামী ফিরে পাবে, এই খুশিতে তাড়াতাড়ি দুই ধড়ের সাথে মাথা জুড়ে দিলো। সাথে সাথে দুই যুবা পুরুষ যেন ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন, এই ভাবে জেগে উঠলো। সবাই খুব খুশী। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করে দেখে যে, তাড়াহুড়ায় নতুন বৌ স্বামীর দেহে জুড়েছে বন্ধুর মাথা আর বন্ধুর দেহে জুড়েছে স্বামীর মাথা। এখন কে এই তরুণীর সাথে ঘর করবে?
আপনে কি বলচেন যে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেতাল পঞ্চবিংশতি ভূতের গল্পের মতো বাংলাদেশের মাথা পাল্টে গেচে! বাংলাদেশের বডিতে অন্য মাথা লেগেচে যে...
আমারতো তাই মনে হয়, না হলে নিজের দেশের লোকের হাজার সেল ফোন, ল্যাপটপ চুরি হলে বছর কা বছর পাওয়া যায় না আর বিদেশির ল্যাপটপ চারদিনে উদ্ধার! বিষয়টা ভাববার বিষয়।
কিন্তু যুদি বাংলাদেশের সব চুরি চাইর দিনে ধরা পড়ে, সব বিচার যুদি লগে লগে সমাধা হয় তায়লে বাংলাদেশের বডিতে অন্য মাথা লাগলেও আমি হেই মাথারে স্বাগতম জানামু...
সেই ভালো, চল দেশের ভালোর জন্য আমরা সবের মাথা পাল্টাই...
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

আপনার মতামত লিখুন