রাজবাড়ী জেলার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকাকর্মী, লেখক, আইনজীবী ও সংগঠক দেবাহুতি চক্রবর্তী আজ চলে গেলেন অনন্ত পরপারে। তাঁর জন্মভূমি রাজবাড়ী জেলায় তাঁর মতো এতটা প্রাজ্ঞ-জ্ঞানী, বিদূষী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব তাঁর প্রজন্মে আর কেউ আছে বলে আমার জানা নেই। সারা পৃথিবীর বাঙালিদের মধ্যে তাঁকে চেনেন না এমনজন খুব কম আছেন। তিনি দৈনিক সংবাদ ও লিটল ম্যাগাজিন শালুক-এ নিয়মিত লিখতেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার একটি লেখা ‘প্রেম যুগে যুগে’ আজ সংবাদ সাময়িকীর অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হলো।
না, প্রেম সে কোন ছিপছিপে নৌকো নয়,
ভেঙে আসা জাহাজের পাটাতন নয়, দারুচিনি দ্বীপ নয়,
দ্রীপ্র বাহুর সাঁতার নয়; খড়কুটো? তাও নয়।
—শহীদ কাদরী
প্রেম তাহলে কী? জীবজগতের অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষ হিসেবে মানুষের বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় থেকেই অন্তহীন এই প্রশ্ন, অন্তহীন তার উত্তর। ভাষা যখন ভাবকে প্রকাশের সম্পূর্ণ ধারণ ক্ষমতা অর্জন করেনি, তার বহু আগে থেকে মানুষের প্রেমভাব প্রকাশ পেয়েছে চিত্রকলা আর স্থাপত্য শিল্পে। ভারতীয় ভূ-খণ্ডে প্রাচীন গুহাচিত্র মন্দির স্থাপত্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এখনও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তার অজস্র প্রমাণ। নর-নারীর সম্পর্ক প্রকাশ পেয়েছে সেযুগের অজস্র কামকলার অলংকারণে।
বৈদিক সাহিত্যের যুগ থেকে পৌরাণিক সাহিত্যের যুগ ও নানাভাবে ধারণ করেছে নর-নারীর সম্পর্ক। প্রেম শব্দটি যদিও শুধু নর-নারীর সম্পর্ক ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় না। প্রকৃতি প্রেম, মানব প্রেম, দেশপ্রেম, ঈশ্বর প্রেম নানা ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। রবীন্দ্র গীতিমাল্যে বিভিন্ন প্রেমকে পৃথক পৃথকভাবে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও এই ভাগ পৃথক থাকেনি। অনেক ক্ষেত্রেই পুজো প্রকৃতি প্রেম মিলে-মিশে একাকার হয়ে গেছে। মূলত নর-নারীর সম্পর্কজনিত প্রেমকে ঘিরেই এই আলোচনার অবতারণা। আদি ভারতীয় জনমানসে প্রেম আর কাম অনেক ক্ষেত্রেই সমার্থক হয়ে ধরা দিয়েছে। বাৎসায়ন রচিত কামশাস্ত্র দেশ-বিদেশে বহু আলোচিত সমালোচিত গ্রন্থ। তার উত্তরসূরি গুরু দেবদত্ত নিছক দেহতত্ত্বে বিশ্বাস করেননি মর্মে শোনা যায়। তার মতে যে কাম চর্চাযোগ্য তাতে দর্শন নেই। যে কামে দর্শন আছে তা পরাবাস্তব। কামশাস্ত্র কামর্চচার ব্যাকরণ হতে পারে, কিন্তু সেখানে মন অনুপস্থিত। মনহীন কাম নিপাতনে সিদ্ধ হিসেবে মানব সমাজ মেনে নিতে পারে না। “কবিতার অনুপ্রেরণা আর সম্ভোগের নিয়ন্তাও এমন এক উন্মাদনা যার শাস্ত্র হয় না।... জনে জনে তা পৃথক।” অরণ্যের উপান্তে বসে অরণ্যের অন্ধকারকে অনুমান করা যেতে পারে। কামারণ্যে প্রবেশ আর নিস্ক্রান্তের কামচর্চা শুধুই জৈবিক আর যান্ত্রিক। একরাশ রহস্য ও স্বপ্নবিলাসে বিহ্বল করা ব্যঞ্জনার উদ্ভাস কল্পনাতেই সম্ভব —যা দেহের অতিরিক্ত অন্য কিছু। দেবদত্ত প্রথম যৌবনে ভালোবেসেছিলেন তার আচার্য বিহ্নদেবের ঔরসজাত ভানুপ্রিয়াকে। ভানুপ্রিয়াও মন দিয়েছিলেন দেবদত্তকে। কিন্তু, দেহমনে এক হতে পারা সম্ভব হয়নি। উভলিঙ্গ নিয়ে জন্মানো ভানুপ্রিয়া দেবদত্তর হৃদয়ের কামনা-বাসনার আকাঙ্ক্ষার উত্তরে বলেছিলেন— “এখন হৃদয় দিলাম নাথ, দেহ দেব সতীদাহে।” মৃত্যুশয্যায়ও দেবদত্ত অপেক্ষায় ছিলেন ভানুপ্রিয়ার। সহজীবন না পাওয়ার বেদনা ও কষ্টে উভয়ের ভার লাঘব করে লোকাতীত সঙ্গমে মিলিত হন ভানুপ্রিয়া। আর তা সহমরণে। প্রেম নিঃসন্দেহে এখানে দৈহিক কামনা-বাসনার অতিরিক্ত আরও কিছু।
রামায়ণে দশরথ-কৈকেয়ী, ভীম-শূর্পনখা, লহ্মণ-উর্মিলা, দশরথ পিতা অজ আর ইন্দ্রাবতীর প্রেম, রাম এর জন্য শরীর প্রেম সবাইকে ছাপিয়ে রাম-সীতার প্রণয় কাহিনী নানাভাবে বিবৃত হয়েছে। সমাজ অনুশাসনের কাছে শেষ পর্যন্ত প্রেমিক রাম এর পরাজয় ধিকৃত হয়ে চলেছে কাল থেকে কালে। ক্রৌঞ্চবিরহী কাতর মহাকবি বাল্মিকী যেখানে শেষ করেছেন কবি ভবভূতি সেখান থেকে প্রেমিক রামকে আত্মঅনুশোচনায় দগ্ধ কাতর বিরহী হিসেবে দেখিয়েছেন উত্তররামচরিত গ্রন্থে। এখানে প্রেম সম্পূর্ণই মানসলোকের রসানুভূতির বিষয়। মহাকবি কালীদাস-এর হাতে বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্রের প্রেমবিলাস বর্ণনায় কবির বক্তব্য— “সঙ্গম বিরহকল্পে বরমিহ বিরহঃ— মিলন আর বিরহের মধ্যে বিরহই আমার কাছে শ্রেয়, মিলন নয়, কেননা মিলনে শুধু তোমাকে পাই একান্তে, কিন্তু বিরহে তোমাকে পাই সমগ্র বিশ্বে—।” এই বোধজাত মেঘদূত— তাই চিরকালীন বিরহী প্রেমের প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে। যুগে যুগে প্রেম বিশ্লেষিত নিয়ন্ত্রিত হয়েছে সমসাময়িক সামাজিক প্রেক্ষাপটে। বৈদিক সাহিত্যে দেখা যায় মনের মানুষ খুঁজে পাওয়ার জন্য একটা উৎসব চালু ছিল। যার নাম ‘সমন’। সারা রাত মেয়েরা অভিসারিকা সেজে বাইরে আসত। পুরুষরা খুঁজে নিত তার প্রেমিকাকে। বেদের ঋষি ভোরের আকাশ রাঙানো ঊষাকে সৌভাগ্য গর্বিত যুবতী আর তার পেছনে চলা সূর্যকে পৌরুষের প্রতীক হিসেবে বর্ণিত করেছেন।
—মহাভারত জুড়ে রয়েছে অজস্র প্রেমকাহিনী। সমসাময়িক সমাজ, সমাজের গতি প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রেমিকজনের প্রকৃতির পরিবর্তন অবশ্যই লক্ষণীয়। ভারত প্রেমকথা’র আধুনিক স্রষ্টা সুবোধ ঘোষ তার গ্রন্থভূমিকায় লিখেছেন— “আকাশ লোকের ওই কালপুরুষ অরুন্ধতী রোহিনী চন্দ্র বুধ ও কৃত্তিকা কতকগুলি জ্যোতিষ্কের নামমাত্র নয়— ওরা সকলেই এক একটি কাহিনীর এক একটি প্রীতিভক্তি ও রোমান্সের নায়ক-নায়িকা। গঙ্গা যমুনা নর্মদা ও কৃষ্ণবেলা কতকগুলি নদীর নাম মাত্র নয়, তারাও কাহিনী। বট অশোক শাল্মলী করবী ও কণিকা উদ্ভিদ মাত্র নয়, তারাও সবাই এক একটি কাহিনীর নায়ক ও নায়িকা। নৈসর্গিক রহস্য ও মেরুজ্যোতির অভ্যন্তরে কাহিনী আছে সমুদ্র বাড়বানলের অন্তরালে কাহিনী আছে, সপ্তাশ্বযোজিত রথে আসীন সূর্যের উদয়াচল থেকে শুরু করে অস্তাচল পর্যন্ত অভিমানের সঙ্গে সঙ্গে কাহিনী আছে। মহাভারতীয় কাহিনীর নায়ক-নায়িকার নাম হলো ভারতের শত শত গিরি পর্বত নদ-নদীও হ্রদের নাম—” এই অজস্র প্রেমকাহিনীতে দেহ যেমন বাস্তব, মন সেখানে অনুপস্থিত নয়।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আলো-আঁধারী সময়ে রচিত চর্যাপদেও রয়েছে তৎকালীন সমাজের প্রেমের বর্ণনা। পরবর্তী বাংলা লোকসাহিত্যে চণ্ডীদাস রজকিনী, রাধাকৃষ্ণ লায়লী-মজনু, ইউসুফ-জোলেখা, ময়মনসিংহ গীতিকা, চন্দ্রাবতীর রামায়ণ সর্বত্রই নরনারীর প্রেমকাহিনী আজও মানুষকে বিমুগ্ধ করে। বাংলা ভাষা সাহিত্যের মধ্যযুগে প্রায় পাঁচশো বছর বৈষ্ণব প্রেম সাহিত্য আজও অপার বিস্ময় গাথা হয়ে রচিত রয়েছে মানুষের মনে।
খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে রচিত ‘গাহাসওসই’র (গাথা সপ্তশতী) কবির প্রাকৃত শ্লোকের চিত্রকল্পে আধুনিক প্রেমচেতনার উদ্ভাস দেখা যায় যেভাবেই আসুক, প্রেমই সত্য। সেই সত্যকে বরণ করেছেন।
‘নমো নমো তস্স পেম্মসস’ নমস্কার সেই প্রেমকে।
মনুর অনুশাসন মিলনোন্মুখ প্রেমিক-প্রেমিকাকে একে অন্যের কাছে দুর্লভ এবং দণ্ডনীয় করে তোলে রসশাস্ত্রকররা মনু নিষিদ্ধ পুকুরে, নদীঘাটে, পথে, জনহীন ঝোপঝাপ ইত্যাদি স্থানসমূহে নর-নারীর বাক্যালাপকে অগ্রাহ্য করে বলেছেন, এসব বাদেও রয়েছে ক্ষেত, বাগানবাড়ি, ভাঙা দেউল, বন্ধুর বাড়ি, এমনকি শ্মশান। প্রেম কখনই কোথাও বাধা মানেনি। বাঁধা পড়েনি। সামাজিক অনুশাসনে পিষ্ট অষ্টাদশ, ঊনবিংশ শতকের নরনারীর অজস্র প্রেমকাহিনীতে পূর্ণ আমাদের শিল্প-সাহিত্য। প্রতিবন্ধকতা পদে পদে। কিন্তু প্রেম ক্রমশই স্থূল শরীরবৃত্তি থেকে পৃথক হয়ে মননবৃত্তিকেই প্রাধান্য দিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ বাঙালির মনসিজ প্রেমকে অধিকতর শতদলমুখী করে তুলেছেন। আজও বাঙালির মন, বাংলা ভাষা সাহিত্য সেই বলয়কে সম্পূর্ণ অতিক্রম করতে পারেনি। “কামনার মায়া ফুরিয়ে যায় তবু হৃদয় দিয়ে সেই ভালবাসতে পারে চিরকাল। হৃদয়ের বন্ধনে ভালোবাসা চিরন্তন হয়।”
কিন্তু এই উপলব্ধির জগতটাও বড়সড় ঝাঁকুনির মুখে আজকের একবিংশ শতকে। সমাজ পরির্বতনের সাথে সাথে প্রেম সম্পর্কিত ধারণার পরিবর্তনের কথা আগেই বলা হয়েছে। আত্মেন্দ্রিয় প্রীতিকে এক সময় নিছক কাম মনে করা হতো। সময় দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। আত্মপ্রতিষ্ঠার আত্মকেন্দ্রিক চর্চার কাছে প্রেমের ভাবগত দিকের পরিবর্তন আজ অনেক বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। মনের গভীর সমুদ্রে ঐশ্বর্য আহরণের জন্য ডুবুরীর মত হাতড়ে বেড়ানোর অবকাশ এই প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের অনেক কম। বিশ্বায়নের নিয়ত প্রতিযোগিতার তাড়নায় হৃদয়হীন শরীরবাদ প্রধান হয়ে উঠছে। সম্পর্ক ভাঙা-গড়া ক্ষণিকের বিষয়। শুধু কোন ইনবক্স থেকে ডিলিট করে দেওয়ার মতো এক মুহূর্তের বিষয় মাত্র। সম্পর্কের সাময়িক বোঝা-পড়ার দায়বদ্ধতা অনেকটাই কম। রুচি ও মতের সাথে সমঝোতার চেষ্টা নেই বললেই চলে। যুগে যুগে প্রেমের চেহারাটা কেমন হবে তার মূল নির্ণয়সূচক আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অবস্থা-অবস্থান এবং গতি প্রকৃতির পরিবর্তন। বর্তমান সমাজে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে নারী এখন এক তরফা ত্যাগের ভূমিকা পালনে অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্য নয়। নারী ও সংস্কার মুক্ত, যুগপৎ শরীর ও মনের আনন্দ সন্ধানে অনেকটাই সাহসী।
একবিংশ শতকে “আমি নারী, আমি স্বতন্ত্র মানব সত্তা” এই বোধটা নারীর মধ্যে যতটা বিকশিত হয়েছে পুরুষ শাসিত সমাজ অন্তরে অন্তরে ততটাই পিছিয়ে রয়েছে। ফলে প্রেমের বদলে নারী নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। সাইবার প্রেম জগত অনেক ক্ষেত্রেই তরুণ-তরুণীদের মানসিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সব ক্ষেত্রে অবশ্যই নয়। বিশ্বাসের অস্তিবোধ মানুষকে কল্যাণের পথ দেখায়। বিশ্বাসের অস্বস্তিবোধে আসে অবসাদ, বিষাদ। বাস্তব জীবনে প্রেমজ সম্পর্কের নান্দনিকতার পরবির্তে আধুনিক ভাষার স্তুতিতে পরিবর্তন এসেছে। প্রেমের রূপ, প্রকৃতি ও অধিষ্ঠান সমাজ, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, দেশীয়-বিদেশী, রাজনীতি, ধ্যান-ধারণা দিয়ে স্পষ্টতই আজ বাঁকের মুখে। সাইবার জগতের সাইবার লাভ তৈরি হয় সহজে, ভাঙেও সহজে। কিন্তু আমাদের মত দেশে অহংবোধ সম্পন্ন পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা মেয়েদের ক্ষেত্রে আজও আশা করে থাকে বাধ্যতামূলক সহনশীলতার। প্রেম এক পর্যায়ে তাই পরিণত হয় সংঘাতে। বিবাহপূর্ব ও বিবাহোত্তর উভয় ক্ষেত্রেই এই সংঘাত আর একদিকে বাঁক নিচ্ছে। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রেমকে অনড়-অটল আমাদের পুরানো ধ্যান-ধারণায় সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। এ যুগের মত করেই এ যুগের তরুণ-তরুণী, নর-নারীর মাঝে প্রেম বহমান থাকবে। মানুষের বেঁচে থাকার অতি আবশ্যকীয় শারীরিক মানসিক বৃত্তির মতই প্রেমও অবিচ্ছেদ্য রয়ে যাবে। আমাদের পুরানো মন নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। প্রেম এমন একটি শব্দ যাকে হনন করা যায় না, যাবে না, চিরকাল মানুষ ভাষা পাল্টে বলবে, “ন হন্যতে”। প্রেমের সাথে মানব জাতির অবিচ্ছেদ্য প্রেম আমাদের বিশ্বাস করতে শেখায়— “প্রেম আমাদিগকে ভিতর হইতে বাহিরে লইয়া যায়, আপন হইতে অন্যের দিকে লইয়া যায়, এক হইতে আরেকের দিকে অগ্রসর করিয়া দেয়। এই জন্যই তাহাকে পথের আলো বলি” রবীন্দ্রনাথ।
প্রেমালোকের এই ঝর্নাধারায় যুগে যুগে— সিক্ত হবে মানবসভ্যতা, মানুষ আবিষ্কার করবে নিজেকে অপরের মধ্যে।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
রাজবাড়ী জেলার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকাকর্মী, লেখক, আইনজীবী ও সংগঠক দেবাহুতি চক্রবর্তী আজ চলে গেলেন অনন্ত পরপারে। তাঁর জন্মভূমি রাজবাড়ী জেলায় তাঁর মতো এতটা প্রাজ্ঞ-জ্ঞানী, বিদূষী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব তাঁর প্রজন্মে আর কেউ আছে বলে আমার জানা নেই। সারা পৃথিবীর বাঙালিদের মধ্যে তাঁকে চেনেন না এমনজন খুব কম আছেন। তিনি দৈনিক সংবাদ ও লিটল ম্যাগাজিন শালুক-এ নিয়মিত লিখতেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার একটি লেখা ‘প্রেম যুগে যুগে’ আজ সংবাদ সাময়িকীর অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হলো।
না, প্রেম সে কোন ছিপছিপে নৌকো নয়,
ভেঙে আসা জাহাজের পাটাতন নয়, দারুচিনি দ্বীপ নয়,
দ্রীপ্র বাহুর সাঁতার নয়; খড়কুটো? তাও নয়।
—শহীদ কাদরী
প্রেম তাহলে কী? জীবজগতের অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষ হিসেবে মানুষের বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় থেকেই অন্তহীন এই প্রশ্ন, অন্তহীন তার উত্তর। ভাষা যখন ভাবকে প্রকাশের সম্পূর্ণ ধারণ ক্ষমতা অর্জন করেনি, তার বহু আগে থেকে মানুষের প্রেমভাব প্রকাশ পেয়েছে চিত্রকলা আর স্থাপত্য শিল্পে। ভারতীয় ভূ-খণ্ডে প্রাচীন গুহাচিত্র মন্দির স্থাপত্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এখনও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তার অজস্র প্রমাণ। নর-নারীর সম্পর্ক প্রকাশ পেয়েছে সেযুগের অজস্র কামকলার অলংকারণে।
বৈদিক সাহিত্যের যুগ থেকে পৌরাণিক সাহিত্যের যুগ ও নানাভাবে ধারণ করেছে নর-নারীর সম্পর্ক। প্রেম শব্দটি যদিও শুধু নর-নারীর সম্পর্ক ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় না। প্রকৃতি প্রেম, মানব প্রেম, দেশপ্রেম, ঈশ্বর প্রেম নানা ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। রবীন্দ্র গীতিমাল্যে বিভিন্ন প্রেমকে পৃথক পৃথকভাবে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও এই ভাগ পৃথক থাকেনি। অনেক ক্ষেত্রেই পুজো প্রকৃতি প্রেম মিলে-মিশে একাকার হয়ে গেছে। মূলত নর-নারীর সম্পর্কজনিত প্রেমকে ঘিরেই এই আলোচনার অবতারণা। আদি ভারতীয় জনমানসে প্রেম আর কাম অনেক ক্ষেত্রেই সমার্থক হয়ে ধরা দিয়েছে। বাৎসায়ন রচিত কামশাস্ত্র দেশ-বিদেশে বহু আলোচিত সমালোচিত গ্রন্থ। তার উত্তরসূরি গুরু দেবদত্ত নিছক দেহতত্ত্বে বিশ্বাস করেননি মর্মে শোনা যায়। তার মতে যে কাম চর্চাযোগ্য তাতে দর্শন নেই। যে কামে দর্শন আছে তা পরাবাস্তব। কামশাস্ত্র কামর্চচার ব্যাকরণ হতে পারে, কিন্তু সেখানে মন অনুপস্থিত। মনহীন কাম নিপাতনে সিদ্ধ হিসেবে মানব সমাজ মেনে নিতে পারে না। “কবিতার অনুপ্রেরণা আর সম্ভোগের নিয়ন্তাও এমন এক উন্মাদনা যার শাস্ত্র হয় না।... জনে জনে তা পৃথক।” অরণ্যের উপান্তে বসে অরণ্যের অন্ধকারকে অনুমান করা যেতে পারে। কামারণ্যে প্রবেশ আর নিস্ক্রান্তের কামচর্চা শুধুই জৈবিক আর যান্ত্রিক। একরাশ রহস্য ও স্বপ্নবিলাসে বিহ্বল করা ব্যঞ্জনার উদ্ভাস কল্পনাতেই সম্ভব —যা দেহের অতিরিক্ত অন্য কিছু। দেবদত্ত প্রথম যৌবনে ভালোবেসেছিলেন তার আচার্য বিহ্নদেবের ঔরসজাত ভানুপ্রিয়াকে। ভানুপ্রিয়াও মন দিয়েছিলেন দেবদত্তকে। কিন্তু, দেহমনে এক হতে পারা সম্ভব হয়নি। উভলিঙ্গ নিয়ে জন্মানো ভানুপ্রিয়া দেবদত্তর হৃদয়ের কামনা-বাসনার আকাঙ্ক্ষার উত্তরে বলেছিলেন— “এখন হৃদয় দিলাম নাথ, দেহ দেব সতীদাহে।” মৃত্যুশয্যায়ও দেবদত্ত অপেক্ষায় ছিলেন ভানুপ্রিয়ার। সহজীবন না পাওয়ার বেদনা ও কষ্টে উভয়ের ভার লাঘব করে লোকাতীত সঙ্গমে মিলিত হন ভানুপ্রিয়া। আর তা সহমরণে। প্রেম নিঃসন্দেহে এখানে দৈহিক কামনা-বাসনার অতিরিক্ত আরও কিছু।
রামায়ণে দশরথ-কৈকেয়ী, ভীম-শূর্পনখা, লহ্মণ-উর্মিলা, দশরথ পিতা অজ আর ইন্দ্রাবতীর প্রেম, রাম এর জন্য শরীর প্রেম সবাইকে ছাপিয়ে রাম-সীতার প্রণয় কাহিনী নানাভাবে বিবৃত হয়েছে। সমাজ অনুশাসনের কাছে শেষ পর্যন্ত প্রেমিক রাম এর পরাজয় ধিকৃত হয়ে চলেছে কাল থেকে কালে। ক্রৌঞ্চবিরহী কাতর মহাকবি বাল্মিকী যেখানে শেষ করেছেন কবি ভবভূতি সেখান থেকে প্রেমিক রামকে আত্মঅনুশোচনায় দগ্ধ কাতর বিরহী হিসেবে দেখিয়েছেন উত্তররামচরিত গ্রন্থে। এখানে প্রেম সম্পূর্ণই মানসলোকের রসানুভূতির বিষয়। মহাকবি কালীদাস-এর হাতে বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্রের প্রেমবিলাস বর্ণনায় কবির বক্তব্য— “সঙ্গম বিরহকল্পে বরমিহ বিরহঃ— মিলন আর বিরহের মধ্যে বিরহই আমার কাছে শ্রেয়, মিলন নয়, কেননা মিলনে শুধু তোমাকে পাই একান্তে, কিন্তু বিরহে তোমাকে পাই সমগ্র বিশ্বে—।” এই বোধজাত মেঘদূত— তাই চিরকালীন বিরহী প্রেমের প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে। যুগে যুগে প্রেম বিশ্লেষিত নিয়ন্ত্রিত হয়েছে সমসাময়িক সামাজিক প্রেক্ষাপটে। বৈদিক সাহিত্যে দেখা যায় মনের মানুষ খুঁজে পাওয়ার জন্য একটা উৎসব চালু ছিল। যার নাম ‘সমন’। সারা রাত মেয়েরা অভিসারিকা সেজে বাইরে আসত। পুরুষরা খুঁজে নিত তার প্রেমিকাকে। বেদের ঋষি ভোরের আকাশ রাঙানো ঊষাকে সৌভাগ্য গর্বিত যুবতী আর তার পেছনে চলা সূর্যকে পৌরুষের প্রতীক হিসেবে বর্ণিত করেছেন।
—মহাভারত জুড়ে রয়েছে অজস্র প্রেমকাহিনী। সমসাময়িক সমাজ, সমাজের গতি প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রেমিকজনের প্রকৃতির পরিবর্তন অবশ্যই লক্ষণীয়। ভারত প্রেমকথা’র আধুনিক স্রষ্টা সুবোধ ঘোষ তার গ্রন্থভূমিকায় লিখেছেন— “আকাশ লোকের ওই কালপুরুষ অরুন্ধতী রোহিনী চন্দ্র বুধ ও কৃত্তিকা কতকগুলি জ্যোতিষ্কের নামমাত্র নয়— ওরা সকলেই এক একটি কাহিনীর এক একটি প্রীতিভক্তি ও রোমান্সের নায়ক-নায়িকা। গঙ্গা যমুনা নর্মদা ও কৃষ্ণবেলা কতকগুলি নদীর নাম মাত্র নয়, তারাও কাহিনী। বট অশোক শাল্মলী করবী ও কণিকা উদ্ভিদ মাত্র নয়, তারাও সবাই এক একটি কাহিনীর নায়ক ও নায়িকা। নৈসর্গিক রহস্য ও মেরুজ্যোতির অভ্যন্তরে কাহিনী আছে সমুদ্র বাড়বানলের অন্তরালে কাহিনী আছে, সপ্তাশ্বযোজিত রথে আসীন সূর্যের উদয়াচল থেকে শুরু করে অস্তাচল পর্যন্ত অভিমানের সঙ্গে সঙ্গে কাহিনী আছে। মহাভারতীয় কাহিনীর নায়ক-নায়িকার নাম হলো ভারতের শত শত গিরি পর্বত নদ-নদীও হ্রদের নাম—” এই অজস্র প্রেমকাহিনীতে দেহ যেমন বাস্তব, মন সেখানে অনুপস্থিত নয়।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আলো-আঁধারী সময়ে রচিত চর্যাপদেও রয়েছে তৎকালীন সমাজের প্রেমের বর্ণনা। পরবর্তী বাংলা লোকসাহিত্যে চণ্ডীদাস রজকিনী, রাধাকৃষ্ণ লায়লী-মজনু, ইউসুফ-জোলেখা, ময়মনসিংহ গীতিকা, চন্দ্রাবতীর রামায়ণ সর্বত্রই নরনারীর প্রেমকাহিনী আজও মানুষকে বিমুগ্ধ করে। বাংলা ভাষা সাহিত্যের মধ্যযুগে প্রায় পাঁচশো বছর বৈষ্ণব প্রেম সাহিত্য আজও অপার বিস্ময় গাথা হয়ে রচিত রয়েছে মানুষের মনে।
খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে রচিত ‘গাহাসওসই’র (গাথা সপ্তশতী) কবির প্রাকৃত শ্লোকের চিত্রকল্পে আধুনিক প্রেমচেতনার উদ্ভাস দেখা যায় যেভাবেই আসুক, প্রেমই সত্য। সেই সত্যকে বরণ করেছেন।
‘নমো নমো তস্স পেম্মসস’ নমস্কার সেই প্রেমকে।
মনুর অনুশাসন মিলনোন্মুখ প্রেমিক-প্রেমিকাকে একে অন্যের কাছে দুর্লভ এবং দণ্ডনীয় করে তোলে রসশাস্ত্রকররা মনু নিষিদ্ধ পুকুরে, নদীঘাটে, পথে, জনহীন ঝোপঝাপ ইত্যাদি স্থানসমূহে নর-নারীর বাক্যালাপকে অগ্রাহ্য করে বলেছেন, এসব বাদেও রয়েছে ক্ষেত, বাগানবাড়ি, ভাঙা দেউল, বন্ধুর বাড়ি, এমনকি শ্মশান। প্রেম কখনই কোথাও বাধা মানেনি। বাঁধা পড়েনি। সামাজিক অনুশাসনে পিষ্ট অষ্টাদশ, ঊনবিংশ শতকের নরনারীর অজস্র প্রেমকাহিনীতে পূর্ণ আমাদের শিল্প-সাহিত্য। প্রতিবন্ধকতা পদে পদে। কিন্তু প্রেম ক্রমশই স্থূল শরীরবৃত্তি থেকে পৃথক হয়ে মননবৃত্তিকেই প্রাধান্য দিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ বাঙালির মনসিজ প্রেমকে অধিকতর শতদলমুখী করে তুলেছেন। আজও বাঙালির মন, বাংলা ভাষা সাহিত্য সেই বলয়কে সম্পূর্ণ অতিক্রম করতে পারেনি। “কামনার মায়া ফুরিয়ে যায় তবু হৃদয় দিয়ে সেই ভালবাসতে পারে চিরকাল। হৃদয়ের বন্ধনে ভালোবাসা চিরন্তন হয়।”
কিন্তু এই উপলব্ধির জগতটাও বড়সড় ঝাঁকুনির মুখে আজকের একবিংশ শতকে। সমাজ পরির্বতনের সাথে সাথে প্রেম সম্পর্কিত ধারণার পরিবর্তনের কথা আগেই বলা হয়েছে। আত্মেন্দ্রিয় প্রীতিকে এক সময় নিছক কাম মনে করা হতো। সময় দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। আত্মপ্রতিষ্ঠার আত্মকেন্দ্রিক চর্চার কাছে প্রেমের ভাবগত দিকের পরিবর্তন আজ অনেক বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। মনের গভীর সমুদ্রে ঐশ্বর্য আহরণের জন্য ডুবুরীর মত হাতড়ে বেড়ানোর অবকাশ এই প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের অনেক কম। বিশ্বায়নের নিয়ত প্রতিযোগিতার তাড়নায় হৃদয়হীন শরীরবাদ প্রধান হয়ে উঠছে। সম্পর্ক ভাঙা-গড়া ক্ষণিকের বিষয়। শুধু কোন ইনবক্স থেকে ডিলিট করে দেওয়ার মতো এক মুহূর্তের বিষয় মাত্র। সম্পর্কের সাময়িক বোঝা-পড়ার দায়বদ্ধতা অনেকটাই কম। রুচি ও মতের সাথে সমঝোতার চেষ্টা নেই বললেই চলে। যুগে যুগে প্রেমের চেহারাটা কেমন হবে তার মূল নির্ণয়সূচক আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অবস্থা-অবস্থান এবং গতি প্রকৃতির পরিবর্তন। বর্তমান সমাজে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে নারী এখন এক তরফা ত্যাগের ভূমিকা পালনে অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্য নয়। নারী ও সংস্কার মুক্ত, যুগপৎ শরীর ও মনের আনন্দ সন্ধানে অনেকটাই সাহসী।
একবিংশ শতকে “আমি নারী, আমি স্বতন্ত্র মানব সত্তা” এই বোধটা নারীর মধ্যে যতটা বিকশিত হয়েছে পুরুষ শাসিত সমাজ অন্তরে অন্তরে ততটাই পিছিয়ে রয়েছে। ফলে প্রেমের বদলে নারী নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। সাইবার প্রেম জগত অনেক ক্ষেত্রেই তরুণ-তরুণীদের মানসিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সব ক্ষেত্রে অবশ্যই নয়। বিশ্বাসের অস্তিবোধ মানুষকে কল্যাণের পথ দেখায়। বিশ্বাসের অস্বস্তিবোধে আসে অবসাদ, বিষাদ। বাস্তব জীবনে প্রেমজ সম্পর্কের নান্দনিকতার পরবির্তে আধুনিক ভাষার স্তুতিতে পরিবর্তন এসেছে। প্রেমের রূপ, প্রকৃতি ও অধিষ্ঠান সমাজ, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, দেশীয়-বিদেশী, রাজনীতি, ধ্যান-ধারণা দিয়ে স্পষ্টতই আজ বাঁকের মুখে। সাইবার জগতের সাইবার লাভ তৈরি হয় সহজে, ভাঙেও সহজে। কিন্তু আমাদের মত দেশে অহংবোধ সম্পন্ন পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা মেয়েদের ক্ষেত্রে আজও আশা করে থাকে বাধ্যতামূলক সহনশীলতার। প্রেম এক পর্যায়ে তাই পরিণত হয় সংঘাতে। বিবাহপূর্ব ও বিবাহোত্তর উভয় ক্ষেত্রেই এই সংঘাত আর একদিকে বাঁক নিচ্ছে। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রেমকে অনড়-অটল আমাদের পুরানো ধ্যান-ধারণায় সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। এ যুগের মত করেই এ যুগের তরুণ-তরুণী, নর-নারীর মাঝে প্রেম বহমান থাকবে। মানুষের বেঁচে থাকার অতি আবশ্যকীয় শারীরিক মানসিক বৃত্তির মতই প্রেমও অবিচ্ছেদ্য রয়ে যাবে। আমাদের পুরানো মন নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। প্রেম এমন একটি শব্দ যাকে হনন করা যায় না, যাবে না, চিরকাল মানুষ ভাষা পাল্টে বলবে, “ন হন্যতে”। প্রেমের সাথে মানব জাতির অবিচ্ছেদ্য প্রেম আমাদের বিশ্বাস করতে শেখায়— “প্রেম আমাদিগকে ভিতর হইতে বাহিরে লইয়া যায়, আপন হইতে অন্যের দিকে লইয়া যায়, এক হইতে আরেকের দিকে অগ্রসর করিয়া দেয়। এই জন্যই তাহাকে পথের আলো বলি” রবীন্দ্রনাথ।
প্রেমালোকের এই ঝর্নাধারায় যুগে যুগে— সিক্ত হবে মানবসভ্যতা, মানুষ আবিষ্কার করবে নিজেকে অপরের মধ্যে।

আপনার মতামত লিখুন