সংবাদ

পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা গণমাধ্যমের জন্য অশনি সংকেত: জেজেইউ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা গণমাধ্যমের জন্য অশনি সংকেত: জেজেইউ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)। সংগঠনটি বলছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য বড় অশনি সংকেত।

রোববার (১ নভেম্বর) জেজেইউ’র আহ্বায়ক সাইফুর সাগর ও সদস্য সচিব আহসান কামরুল স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক সহনশীলতার প্রশ্নে এ ধরনের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকাশিত সংবাদ, সম্পাদকীয় অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সঙ্গে কারও দ্বিমত থাকতেই পারে। গণতান্ত্রিক সমাজে সেই দ্বিমত প্রকাশ এবং সমালোচনার অধিকার সবার রয়েছে। তবে মতপার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির প্রকাশ্যে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করা হয় বিবৃতিতে।

জেজেইউ মনে করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা নয়; বরং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ এবং মতামত তুলে ধরার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা যেমন জরুরি, তেমনি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত।

জেজেইউ আরও মনে করে, গণমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদনের জন্য কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিকারের শক্তিশালী মাধ্যম থাকলে হয়তো আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেস কাউন্সিলকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

একইসঙ্গে সম্প্রতি ‘দৈনিক আমার দেশ’ কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জেজেইউ। কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক যেন ভয়ভীতি বা চাপের মুখে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।

জেজেইউ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা গণমাধ্যমের জন্য অশনি সংকেত: জেজেইউ

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)। সংগঠনটি বলছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য বড় অশনি সংকেত।

রোববার (১ নভেম্বর) জেজেইউ’র আহ্বায়ক সাইফুর সাগর ও সদস্য সচিব আহসান কামরুল স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক সহনশীলতার প্রশ্নে এ ধরনের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকাশিত সংবাদ, সম্পাদকীয় অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সঙ্গে কারও দ্বিমত থাকতেই পারে। গণতান্ত্রিক সমাজে সেই দ্বিমত প্রকাশ এবং সমালোচনার অধিকার সবার রয়েছে। তবে মতপার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির প্রকাশ্যে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করা হয় বিবৃতিতে।

জেজেইউ মনে করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা নয়; বরং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ এবং মতামত তুলে ধরার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা যেমন জরুরি, তেমনি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত।

জেজেইউ আরও মনে করে, গণমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদনের জন্য কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিকারের শক্তিশালী মাধ্যম থাকলে হয়তো আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেস কাউন্সিলকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

একইসঙ্গে সম্প্রতি ‘দৈনিক আমার দেশ’ কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জেজেইউ। কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক যেন ভয়ভীতি বা চাপের মুখে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।

জেজেইউ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত