সংবাদ

শ্রমিকদের বিক্ষোভে অস্থির শিল্পাঞ্চল, ৮০ কারখানায় ছুটি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

শ্রমিকদের বিক্ষোভে অস্থির শিল্পাঞ্চল, ৮০ কারখানায় ছুটি
কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পোশাক কারখানার গোডাউনে অগ্নিসংযোগ।

টানা কয়েকদিন ধরে চলা পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ অন্যান্য দাবিতে সৃষ্টি হওয়া অস্থিরতার জেরে রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভার ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে রোববার (১ নভেম্বর) অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এর মধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও সাভারের বেশ কিছু এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং আগুন দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়ার বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুধুমাত্র সাভারেই অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, কালিয়াকৈরসহ আশপাশের অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে অধিকাংশ কারখানায় কাজ স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকাল পৌনে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন কয়েকটি কারখানার একদল শ্রমিক। এ সময় তারা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

পরে শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ করলে তারা সড়কের একপাশে অবস্থান নেন। এ সময় শারমিন গ্রুপের শ্রমিকরা অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদেরও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শারমিন গ্রুপের কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি একই এলাকার হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজসহ আশপাশের একাধিক কারখানাতেও ছুটি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন জানান, দাবির বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কেউ শ্রমিকদের সঙ্গে এখনো কোনো আলোচনায় বসেনি। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ধোঁয়াশা রয়েছে। তিনি দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানান।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ তীব্র আকার নেয়। সকালে রতনপুর এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন।

এই অস্থিরতার সুযোগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে এবং ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে গেলে বিক্ষোভরত শ্রমিকেরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বাধা দেন বলে জানা গেছে।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনের কারণে আমরা ঘটনাস্থলে যেতে পারছি না।’

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বেতন বৈষম্য দূরীকরণ এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা আন্দোলন করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিনে সাভার ও গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নতুন মাত্রা পায়। আজকের বিক্ষোভ তারই অংশ।

শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পাঞ্চলের সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


শ্রমিকদের বিক্ষোভে অস্থির শিল্পাঞ্চল, ৮০ কারখানায় ছুটি

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

টানা কয়েকদিন ধরে চলা পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ অন্যান্য দাবিতে সৃষ্টি হওয়া অস্থিরতার জেরে রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভার ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে রোববার (১ নভেম্বর) অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এর মধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও সাভারের বেশ কিছু এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং আগুন দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়ার বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুধুমাত্র সাভারেই অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, কালিয়াকৈরসহ আশপাশের অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে অধিকাংশ কারখানায় কাজ স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকাল পৌনে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন কয়েকটি কারখানার একদল শ্রমিক। এ সময় তারা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

পরে শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ করলে তারা সড়কের একপাশে অবস্থান নেন। এ সময় শারমিন গ্রুপের শ্রমিকরা অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদেরও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শারমিন গ্রুপের কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি একই এলাকার হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজসহ আশপাশের একাধিক কারখানাতেও ছুটি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন জানান, দাবির বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কেউ শ্রমিকদের সঙ্গে এখনো কোনো আলোচনায় বসেনি। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ধোঁয়াশা রয়েছে। তিনি দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানান।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ তীব্র আকার নেয়। সকালে রতনপুর এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন।

এই অস্থিরতার সুযোগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে এবং ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে গেলে বিক্ষোভরত শ্রমিকেরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বাধা দেন বলে জানা গেছে।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনের কারণে আমরা ঘটনাস্থলে যেতে পারছি না।’

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বেতন বৈষম্য দূরীকরণ এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা আন্দোলন করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিনে সাভার ও গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নতুন মাত্রা পায়। আজকের বিক্ষোভ তারই অংশ।

শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পাঞ্চলের সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত