শখের আংটি কিংবা বিয়ের আংটি দীর্ঘদিন আঙুলে পরে থাকেন অনেকেই। তবে একসময় আংটি খুললে দেখা যায়, সেটির নিচের ত্বকের রং আশপাশের অংশের তুলনায় ভিন্ন। কোথাও ত্বক ফিকে, আবার কোথাও গাঢ় দাগ দেখা যায়। এমন পরিবর্তন নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হলেও এর পেছনে থাকতে পারে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস ও ত্বকের প্রতিক্রিয়া।
আংটির নিচে ঘাম, সাবান, পানি ও ময়লা জমে থাকলে ত্বকে অস্বস্তি, শুষ্কতা কিংবা জ্বালাপোড়া হতে পারে। আবার আংটির ধাতুতে অ্যালার্জি থাকলেও দেখা দিতে পারে চুলকানি, লালচে ভাব ও ত্বকের বিবর্ণতা। এ ছাড়া আংটিতে ঢাকা অংশে সূর্যের আলো কম পৌঁছানোর কারণে আশপাশের ত্বকের সঙ্গে রঙের পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
তবে এ ধরনের দাগ দূর করতে ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা নানা প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস মেনে চললে আঙুলের ত্বক পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ রাখা সম্ভব।
দীর্ঘ সময় আংটি পরে থাকলে এর নিচে ঘাম, সাবান ও ময়লা আটকে থাকতে পারে। তাই প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য আংটি খুলে আঙুল ও আংটির ভেতরের অংশ পরিষ্কার করা প্রয়োজন। গোসল, হাত ধোয়া কিংবা ঘরের কাজের সময় আংটি খুলে রাখলে এর নিচে ময়লা জমার ঝুঁকি কমে।
হাত ধোয়ার পর আঙুল ও আংটির নিচের অংশ ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। ভেজা ত্বকে আংটি পরে থাকলে সেখানে আর্দ্রতা আটকে থেকে ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। আংটি পরিষ্কারের জন্য কোমল সাবান ও পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পরিষ্কারের সময় ধারালো বস্তু দিয়ে ঘষাঘষি করা থেকে বিরত থাকুন।
বারবার হাত ধোয়া বা সাবান ব্যবহারে আঙুলের ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে হাত ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া ভালো। আংটি পরার আগে ক্রিম বা লোশন ত্বকে ভালোভাবে শোষিত হতে দিন।
আংটির নিচে তৈরি হওয়া দাগ দূর করতে অনেকে স্ক্রাবার বা শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করেন। কিন্তু ত্বকে জোরে ঘষাঘষি করলে জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ বাড়তে পারে। তাই আঙুলের ত্বক পরিষ্কারে কোমল পদ্ধতি অনুসরণ করুন। দাগ দূর করার জন্য লেবুর রস, ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অতিরিক্ত ঘর্ষণযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত নয়।
আংটিতে ঢাকা অংশে সূর্যের আলো কম পৌঁছানোর কারণে হাতের খোলা অংশের সঙ্গে রঙের পার্থক্য দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাইরে যাওয়ার আগে হাত ও আঙুলে অন্তত এসপিএফ ৩০ যুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।
আংটি পরার পর একই জায়গায় বারবার চুলকানি, লালচে ভাব, ফুসকুড়ি বা ত্বক খসখসে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে ধাতব অ্যালার্জির বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে আংটি খুলে রাখুন। সমস্যা না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে আংটির ধাতু পরিবর্তনের বিষয়েও চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।
আংটি খোলার পর শুধু রঙের পার্থক্য দেখা দিলে সব সময় উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এর সঙ্গে ত্বক ফুলে যাওয়া, ব্যথা, ফোসকা, ফাটল বা তীব্র চুলকানি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই আংটি ব্যবহারের পর বারবার এমন সমস্যা হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
আঙুলের ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং অ্যালার্জির লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয় আংটি ব্যবহারের পাশাপাশি তাই ত্বকের যত্নেও নজর দিন।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
শখের আংটি কিংবা বিয়ের আংটি দীর্ঘদিন আঙুলে পরে থাকেন অনেকেই। তবে একসময় আংটি খুললে দেখা যায়, সেটির নিচের ত্বকের রং আশপাশের অংশের তুলনায় ভিন্ন। কোথাও ত্বক ফিকে, আবার কোথাও গাঢ় দাগ দেখা যায়। এমন পরিবর্তন নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হলেও এর পেছনে থাকতে পারে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস ও ত্বকের প্রতিক্রিয়া।
আংটির নিচে ঘাম, সাবান, পানি ও ময়লা জমে থাকলে ত্বকে অস্বস্তি, শুষ্কতা কিংবা জ্বালাপোড়া হতে পারে। আবার আংটির ধাতুতে অ্যালার্জি থাকলেও দেখা দিতে পারে চুলকানি, লালচে ভাব ও ত্বকের বিবর্ণতা। এ ছাড়া আংটিতে ঢাকা অংশে সূর্যের আলো কম পৌঁছানোর কারণে আশপাশের ত্বকের সঙ্গে রঙের পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
তবে এ ধরনের দাগ দূর করতে ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা নানা প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস মেনে চললে আঙুলের ত্বক পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ রাখা সম্ভব।
দীর্ঘ সময় আংটি পরে থাকলে এর নিচে ঘাম, সাবান ও ময়লা আটকে থাকতে পারে। তাই প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য আংটি খুলে আঙুল ও আংটির ভেতরের অংশ পরিষ্কার করা প্রয়োজন। গোসল, হাত ধোয়া কিংবা ঘরের কাজের সময় আংটি খুলে রাখলে এর নিচে ময়লা জমার ঝুঁকি কমে।
হাত ধোয়ার পর আঙুল ও আংটির নিচের অংশ ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। ভেজা ত্বকে আংটি পরে থাকলে সেখানে আর্দ্রতা আটকে থেকে ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। আংটি পরিষ্কারের জন্য কোমল সাবান ও পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পরিষ্কারের সময় ধারালো বস্তু দিয়ে ঘষাঘষি করা থেকে বিরত থাকুন।
বারবার হাত ধোয়া বা সাবান ব্যবহারে আঙুলের ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে হাত ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া ভালো। আংটি পরার আগে ক্রিম বা লোশন ত্বকে ভালোভাবে শোষিত হতে দিন।
আংটির নিচে তৈরি হওয়া দাগ দূর করতে অনেকে স্ক্রাবার বা শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করেন। কিন্তু ত্বকে জোরে ঘষাঘষি করলে জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ বাড়তে পারে। তাই আঙুলের ত্বক পরিষ্কারে কোমল পদ্ধতি অনুসরণ করুন। দাগ দূর করার জন্য লেবুর রস, ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অতিরিক্ত ঘর্ষণযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত নয়।
আংটিতে ঢাকা অংশে সূর্যের আলো কম পৌঁছানোর কারণে হাতের খোলা অংশের সঙ্গে রঙের পার্থক্য দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাইরে যাওয়ার আগে হাত ও আঙুলে অন্তত এসপিএফ ৩০ যুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।
আংটি পরার পর একই জায়গায় বারবার চুলকানি, লালচে ভাব, ফুসকুড়ি বা ত্বক খসখসে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে ধাতব অ্যালার্জির বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে আংটি খুলে রাখুন। সমস্যা না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে আংটির ধাতু পরিবর্তনের বিষয়েও চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।
আংটি খোলার পর শুধু রঙের পার্থক্য দেখা দিলে সব সময় উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এর সঙ্গে ত্বক ফুলে যাওয়া, ব্যথা, ফোসকা, ফাটল বা তীব্র চুলকানি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই আংটি ব্যবহারের পর বারবার এমন সমস্যা হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
আঙুলের ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং অ্যালার্জির লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয় আংটি ব্যবহারের পাশাপাশি তাই ত্বকের যত্নেও নজর দিন।

আপনার মতামত লিখুন