ধারাবাহিক লোকসান, নগদ অর্থের সংকট ও ঋণের বোঝায় চাপে পড়েছে হার্লি-ডেভিডসনের বিদ্যুচ্চালিত মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড লাইভওয়্যার। বিক্রি বাড়লেও আর্থিক দুরবস্থা কাটছে না প্রতিষ্ঠানটির। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা চালু রাখতে নতুন বিনিয়োগকারী ও কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে কোম্পানিটি।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাইভওয়্যার নিজেদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে। সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, পরিচালন লোকসান, ঋণাত্মক নগদ প্রবাহ এবং সীমিত আর্থিক সক্ষমতা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অথচ বিক্রির দিক থেকে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতিও রয়েছে কোম্পানিটির। ৫০ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতার অন-রোড বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের বাজারে তাদের দখল ৮০ শতাংশ। এরপরও আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি মিলছে না।
আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘স্পেশাল রিস্ট্রাকচারিং কমিটি’ গঠন করেছে লাইভওয়্যার। নতুন অর্থায়ন সংগ্রহ, কোম্পানি বিক্রি, ব্যবসার পুনর্গঠন কিংবা কৌশলগত অংশীদারত্ব - সম্ভাব্য সব পথ খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
এদিকে ২০২৬ সালে পরিচালন ব্যয় বাবদ ৭ কোটি থেকে ৮ কোটি ডলার লোকসানের যে পূর্বাভাস আগে দেওয়া হয়েছিল, সেটিও প্রত্যাহার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২২ সালে স্পেশাল পারপাস অ্যাকুইজিশন কোম্পানি বা ‘স্প্যাক’-এর সঙ্গে একীভূত হয়ে স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে যাত্রা শুরু করে লাইভওয়্যার। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির ৭৪ শতাংশ শেয়ার ছিল হার্লি-ডেভিডসনের হাতে।
আর্থিক সংকটের মধ্যেই তুলনামূলক সাশ্রয়ী ই-বাইক বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে লাইভওয়্যার। পাঁচ হাজার ডলারের কম দামে ‘এসফোর হাঞ্চো’ সিরিজের মোটরসাইকেল বাজারে আনছে প্রতিষ্ঠানটি।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ‘এসফোর হাঞ্চো ট্রেইল’ মডেলটির সরবরাহ শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে ‘এসফোর হাঞ্চো স্ট্রিট’ সংস্করণটি শোরুমে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর বাইরে ‘ডাস্ট স্পার’ নামে নতুন আরেকটি মডেল উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্বজুড়ে বিদ্যুচ্চালিত মোটরসাইকেলের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মর্দোর ইন্টেলিজেন্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে রেকর্ড ১ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার ইউনিট ই-বাইক বিক্রি হয়েছে।
তবে বাজারের এই প্রবৃদ্ধির পরও মোটরসাইকেল বিক্রিতে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহনের আধিপত্য রয়েছে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, মোট বিক্রির প্রায় ৮৮ শতাংশ ছিল এ ধরনের মোটরসাইকেল।
ই-বাইকের বাজার সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকা। ২০২৫ সালে অঞ্চল দুটিতে ই-বাইকের বিক্রি বেড়েছে যথাক্রমে ৮৩ শতাংশ ও ৮৬ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে উত্তর আমেরিকার বাজারে বিক্রি বৃদ্ধির হার ছিল ২৭ শতাংশ।
হার্লি-ডেভিডসনের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুচ্চালিত মোটরসাইকেল ব্যবসার জন্য লাইভওয়্যারের আর্থিক সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। নতুন মডেল বাজারে আনা এবং বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সামনে এখন নগদ অর্থের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা ও আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের প্রশ্নও রয়েছে।
নতুন বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক পুনর্গঠন কিংবা কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে কোম্পানিটি। সাশ্রয়ী নতুন মডেলগুলো বিক্রি ও নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়াতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তার ওপরও নির্ভর করছে লাইভওয়্যারের ভবিষ্যৎ।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
ধারাবাহিক লোকসান, নগদ অর্থের সংকট ও ঋণের বোঝায় চাপে পড়েছে হার্লি-ডেভিডসনের বিদ্যুচ্চালিত মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড লাইভওয়্যার। বিক্রি বাড়লেও আর্থিক দুরবস্থা কাটছে না প্রতিষ্ঠানটির। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা চালু রাখতে নতুন বিনিয়োগকারী ও কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে কোম্পানিটি।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাইভওয়্যার নিজেদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে। সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, পরিচালন লোকসান, ঋণাত্মক নগদ প্রবাহ এবং সীমিত আর্থিক সক্ষমতা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অথচ বিক্রির দিক থেকে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতিও রয়েছে কোম্পানিটির। ৫০ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতার অন-রোড বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের বাজারে তাদের দখল ৮০ শতাংশ। এরপরও আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি মিলছে না।
আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘স্পেশাল রিস্ট্রাকচারিং কমিটি’ গঠন করেছে লাইভওয়্যার। নতুন অর্থায়ন সংগ্রহ, কোম্পানি বিক্রি, ব্যবসার পুনর্গঠন কিংবা কৌশলগত অংশীদারত্ব - সম্ভাব্য সব পথ খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
এদিকে ২০২৬ সালে পরিচালন ব্যয় বাবদ ৭ কোটি থেকে ৮ কোটি ডলার লোকসানের যে পূর্বাভাস আগে দেওয়া হয়েছিল, সেটিও প্রত্যাহার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২২ সালে স্পেশাল পারপাস অ্যাকুইজিশন কোম্পানি বা ‘স্প্যাক’-এর সঙ্গে একীভূত হয়ে স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে যাত্রা শুরু করে লাইভওয়্যার। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির ৭৪ শতাংশ শেয়ার ছিল হার্লি-ডেভিডসনের হাতে।
আর্থিক সংকটের মধ্যেই তুলনামূলক সাশ্রয়ী ই-বাইক বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে লাইভওয়্যার। পাঁচ হাজার ডলারের কম দামে ‘এসফোর হাঞ্চো’ সিরিজের মোটরসাইকেল বাজারে আনছে প্রতিষ্ঠানটি।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ‘এসফোর হাঞ্চো ট্রেইল’ মডেলটির সরবরাহ শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে ‘এসফোর হাঞ্চো স্ট্রিট’ সংস্করণটি শোরুমে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর বাইরে ‘ডাস্ট স্পার’ নামে নতুন আরেকটি মডেল উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্বজুড়ে বিদ্যুচ্চালিত মোটরসাইকেলের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মর্দোর ইন্টেলিজেন্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে রেকর্ড ১ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার ইউনিট ই-বাইক বিক্রি হয়েছে।
তবে বাজারের এই প্রবৃদ্ধির পরও মোটরসাইকেল বিক্রিতে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহনের আধিপত্য রয়েছে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, মোট বিক্রির প্রায় ৮৮ শতাংশ ছিল এ ধরনের মোটরসাইকেল।
ই-বাইকের বাজার সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকা। ২০২৫ সালে অঞ্চল দুটিতে ই-বাইকের বিক্রি বেড়েছে যথাক্রমে ৮৩ শতাংশ ও ৮৬ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে উত্তর আমেরিকার বাজারে বিক্রি বৃদ্ধির হার ছিল ২৭ শতাংশ।
হার্লি-ডেভিডসনের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুচ্চালিত মোটরসাইকেল ব্যবসার জন্য লাইভওয়্যারের আর্থিক সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। নতুন মডেল বাজারে আনা এবং বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সামনে এখন নগদ অর্থের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা ও আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের প্রশ্নও রয়েছে।
নতুন বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক পুনর্গঠন কিংবা কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে কোম্পানিটি। সাশ্রয়ী নতুন মডেলগুলো বিক্রি ও নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়াতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তার ওপরও নির্ভর করছে লাইভওয়্যারের ভবিষ্যৎ।

আপনার মতামত লিখুন