কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এই বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত আয় ও মুনাফা কতটা আসবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে। বৃহস্পতিবার বড় দরপতনের মুখে পড়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, অ্যামাজন ও ইনটেল।
এক দিনের লেনদেনে অ্যালফাবেটের শেয়ারদর ১২ শতাংশের বেশি কমেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য কমেছে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার। একই দিনে অ্যামাজনের শেয়ারদর নেমেছে ৭ শতাংশের বেশি। আর ইনটেলের দরপতনের পরিমাণ প্রায় ২৩ শতাংশ।
তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশের পর অ্যালফাবেটের শেয়ারে বড় ধাক্কা লাগে। প্রতিষ্ঠানটির আয় ও মুনাফা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এর পাশাপাশি এআই অবকাঠামো তৈরিতে বিপুল ব্যয় নগদ অর্থের প্রবাহে চাপ তৈরি করছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যালফাবেটের মূলধনী ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। অথচ ২০২৫ সালের পুরো বছরে এ খাতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় ছিল ৯১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। বিনিয়োগের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
অ্যালফাবেটের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে গুগলের সার্চ বিজ্ঞাপন ব্যবসা। ব্যবহারকারীদের একাংশ প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনের বদলে এআই চ্যাটবটের দিকে ঝুঁকলে বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে এআই খাতে নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অ্যামাজনের শেয়ারদরও ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির এআই অবকাঠামো তৈরিতে বড় অঙ্কের ব্যয় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে কতটা আয় ও মুনাফা আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ইনটেলের শেয়ারদর কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বাজারে অস্থিরতা, উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যা এবং কারখানা সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের ব্যয় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
প্রযুক্তি খাতে এআই নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামো ও উন্নয়ন খাতে ব্যয়ও বাড়ছে। কিন্তু এই বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় নিশ্চিত না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।
বাজারের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, শুধু এআই প্রযুক্তিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করাই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। সেই বিনিয়োগ থেকে আয় ও মুনাফা বাড়ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রত্যাশিত আর্থিক সুফল না এলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এই বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত আয় ও মুনাফা কতটা আসবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে। বৃহস্পতিবার বড় দরপতনের মুখে পড়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, অ্যামাজন ও ইনটেল।
এক দিনের লেনদেনে অ্যালফাবেটের শেয়ারদর ১২ শতাংশের বেশি কমেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য কমেছে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার। একই দিনে অ্যামাজনের শেয়ারদর নেমেছে ৭ শতাংশের বেশি। আর ইনটেলের দরপতনের পরিমাণ প্রায় ২৩ শতাংশ।
তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশের পর অ্যালফাবেটের শেয়ারে বড় ধাক্কা লাগে। প্রতিষ্ঠানটির আয় ও মুনাফা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এর পাশাপাশি এআই অবকাঠামো তৈরিতে বিপুল ব্যয় নগদ অর্থের প্রবাহে চাপ তৈরি করছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যালফাবেটের মূলধনী ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। অথচ ২০২৫ সালের পুরো বছরে এ খাতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় ছিল ৯১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। বিনিয়োগের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
অ্যালফাবেটের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে গুগলের সার্চ বিজ্ঞাপন ব্যবসা। ব্যবহারকারীদের একাংশ প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনের বদলে এআই চ্যাটবটের দিকে ঝুঁকলে বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে এআই খাতে নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অ্যামাজনের শেয়ারদরও ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির এআই অবকাঠামো তৈরিতে বড় অঙ্কের ব্যয় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে কতটা আয় ও মুনাফা আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ইনটেলের শেয়ারদর কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বাজারে অস্থিরতা, উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যা এবং কারখানা সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের ব্যয় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
প্রযুক্তি খাতে এআই নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামো ও উন্নয়ন খাতে ব্যয়ও বাড়ছে। কিন্তু এই বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় নিশ্চিত না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।
বাজারের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, শুধু এআই প্রযুক্তিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করাই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। সেই বিনিয়োগ থেকে আয় ও মুনাফা বাড়ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রত্যাশিত আর্থিক সুফল না এলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন