সংবাদ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট কেন?


প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ এএম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট কেন?

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চৌরঙ্গী কলেজের মাঠে সপ্তাহে দুদিন বসছে পেঁয়াজ ও পশুর হাট। হাটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, বন্ধ থাকছে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কলেজ খোলা থাকার কথা। অথচ হাটের দিন দুপুর ১টার পরই কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অধ্যক্ষ নিজেই স্বীকার করেছেন, হাটের কারণে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কলেজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষতি করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নেই।

স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তিন মাসের জন্য অস্থায়ী পশুহাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। গত ৩ আগস্ট সেই মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপরও কলেজের মাঠে হাট চলছে। হাটের জন্য বাঁশের খুঁটি পুঁতে রাখায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় তরুণেরাও খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কলেজের পাশেই নতুন জায়গা প্রস্তুত করা হচ্ছে, দ্রুত হাট সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে শুধু আশ্বাসে সমস্যার সমাধান হবে না। উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কীভাবে হাট চলছে, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কলেজ খোলা রাখা এবং নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। তবে তার জন্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ন করা যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ কোনোভাবেই স্থায়ী বা অস্থায়ী বাণিজ্যিক হাটের জায়গা হতে পারে না। চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ের মাঠ অবিলম্বে হাটমুক্ত করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট কেন?

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চৌরঙ্গী কলেজের মাঠে সপ্তাহে দুদিন বসছে পেঁয়াজ ও পশুর হাট। হাটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, বন্ধ থাকছে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কলেজ খোলা থাকার কথা। অথচ হাটের দিন দুপুর ১টার পরই কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অধ্যক্ষ নিজেই স্বীকার করেছেন, হাটের কারণে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কলেজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষতি করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নেই।

স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তিন মাসের জন্য অস্থায়ী পশুহাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। গত ৩ আগস্ট সেই মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপরও কলেজের মাঠে হাট চলছে। হাটের জন্য বাঁশের খুঁটি পুঁতে রাখায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় তরুণেরাও খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কলেজের পাশেই নতুন জায়গা প্রস্তুত করা হচ্ছে, দ্রুত হাট সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে শুধু আশ্বাসে সমস্যার সমাধান হবে না। উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কীভাবে হাট চলছে, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কলেজ খোলা রাখা এবং নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। তবে তার জন্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ন করা যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ কোনোভাবেই স্থায়ী বা অস্থায়ী বাণিজ্যিক হাটের জায়গা হতে পারে না। চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ের মাঠ অবিলম্বে হাটমুক্ত করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত