আজ থেকে বসছে ভারতের সংসদের বিশেষ অধিবেশন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বসা এই অধিবেশনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল- ১৩১তম সংবিধান সংশোধন বিল, ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬ এবং ইউনিয়ন টেরিটোরিজ লজ (সংশোধনী) বিল ২০২৬।
সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই কার্যকর করা ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ।
এই বিল পাস হলে লোকসভার চেহারায় আসতে পারে বড়সড় পরিবর্তন। বর্তমানে ৫৪৩টি আসনের লোকসভা বেড়ে হতে পারে ৮৫০ আসনের। এর মধ্যে ৮১৫ জন সাংসদ আসবেন রাজ্যগুলি থেকে এবং ৩৫ জন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৭৩টি আসন সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের জন্য।
তবে এই বিল ঘিরে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ডিলিমিটেশন বা এলাকা পুনর্বিন্যাস নিয়ে। মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করেছেন, এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের কাঠামো ভেঙে ফেলা হতে পারে এবং ধাপে ধাপে এনআরসি চালুর পথ তৈরি করা হচ্ছে।
আইন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পর নতুন সেন্সাসের ভিত্তিতে এলাকা পুনর্বিন্যাস হওয়ার কথা থাকলেও, কেন্দ্র সরকার সেই পথ এড়িয়ে ২০১১ সালের সেন্সাসের তথ্যের ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করতে চাইছে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
বিরোধীদের দাবি, যখন এই আইন ২০২৯ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা, তখন কেন হঠাৎ করে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের আবহে এই বিল আনা হচ্ছে? পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ভোটের আগে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই বিল পাশ করানোর চেষ্টা আদর্শ নির্বাচন বিধির পরিপন্থী।
এদিকে, বিরোধী শিবিরও নিজেদের কৌশল সাজাতে ব্যস্ত। বিরোধীরা মহিলা সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও ডিলিমিটেশন যেভাবে আনা হচ্ছে, তার বিরোধিতা করা হবে বলছে অনেকেই। সব অবিজেপি দল একজোট হয়ে এই বিল আটকানোর চেষ্টা করবে বলেও ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের নামে কি নতুন ভোটের অঙ্ক কষছে কেন্দ্র? নাকি সত্যিই বড় সামাজিক পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে দেশ? সেই উত্তর মিলবে সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন থেকেই।

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
আজ থেকে বসছে ভারতের সংসদের বিশেষ অধিবেশন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বসা এই অধিবেশনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল- ১৩১তম সংবিধান সংশোধন বিল, ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬ এবং ইউনিয়ন টেরিটোরিজ লজ (সংশোধনী) বিল ২০২৬।
সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই কার্যকর করা ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ।
এই বিল পাস হলে লোকসভার চেহারায় আসতে পারে বড়সড় পরিবর্তন। বর্তমানে ৫৪৩টি আসনের লোকসভা বেড়ে হতে পারে ৮৫০ আসনের। এর মধ্যে ৮১৫ জন সাংসদ আসবেন রাজ্যগুলি থেকে এবং ৩৫ জন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৭৩টি আসন সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের জন্য।
তবে এই বিল ঘিরে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ডিলিমিটেশন বা এলাকা পুনর্বিন্যাস নিয়ে। মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করেছেন, এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের কাঠামো ভেঙে ফেলা হতে পারে এবং ধাপে ধাপে এনআরসি চালুর পথ তৈরি করা হচ্ছে।
আইন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পর নতুন সেন্সাসের ভিত্তিতে এলাকা পুনর্বিন্যাস হওয়ার কথা থাকলেও, কেন্দ্র সরকার সেই পথ এড়িয়ে ২০১১ সালের সেন্সাসের তথ্যের ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করতে চাইছে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
বিরোধীদের দাবি, যখন এই আইন ২০২৯ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা, তখন কেন হঠাৎ করে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের আবহে এই বিল আনা হচ্ছে? পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ভোটের আগে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই বিল পাশ করানোর চেষ্টা আদর্শ নির্বাচন বিধির পরিপন্থী।
এদিকে, বিরোধী শিবিরও নিজেদের কৌশল সাজাতে ব্যস্ত। বিরোধীরা মহিলা সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও ডিলিমিটেশন যেভাবে আনা হচ্ছে, তার বিরোধিতা করা হবে বলছে অনেকেই। সব অবিজেপি দল একজোট হয়ে এই বিল আটকানোর চেষ্টা করবে বলেও ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের নামে কি নতুন ভোটের অঙ্ক কষছে কেন্দ্র? নাকি সত্যিই বড় সামাজিক পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে দেশ? সেই উত্তর মিলবে সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন থেকেই।

আপনার মতামত লিখুন