সংবাদ

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য উৎস বাড়ানোর তাগিদ


জেলা বার্তা পরিবেশক, ময়মনসিংহ
জেলা বার্তা পরিবেশক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য উৎস বাড়ানোর তাগিদ
ময়মনসিংহে পরিবেশবাদী সংগঠন এফইডি ও অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের সংবাদ সম্মেলন। ছবি : সংবাদ

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সঠিক নীতি, দূরদর্শী পরিকল্পনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে টেকসই, নিরাপদ এবং স্বনির্ভর জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ময়মনসিংহের পরিবেশবাদীরা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (এফইডি) ও ‘অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন’ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এফইডির পরিচালক খায়রুল আলম তুহিন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বর্তমানে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে দূরে থাকলেও আমদানিনির্ভরতার কারণে গভীর অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে জ্বালানি আমদানি স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

বক্তারা বলেন, দেশে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি ও পেট্রোলিয়ামের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি আমদানির কারণে এই রিজার্ভ চাপের মুখে রয়েছে। এ ছাড়া ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৩০ সাল নাগাদ জ্বালানি আমদানিতে বছরে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জ্বালানি সংকট নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গঠন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে কর ও শুল্ক প্রত্যাহার, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির দ্রুত বাস্তবায়ন, জ্বালানি বাজেটের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য খাতে বরাদ্দ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত চালু করা।

অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের সভাপতি সেলিনা রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় ও অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।

বক্তারা মনে করেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট যেমন সতর্কবার্তা দিচ্ছে, তেমনি এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগও তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য উৎস বাড়ানোর তাগিদ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সঠিক নীতি, দূরদর্শী পরিকল্পনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে টেকসই, নিরাপদ এবং স্বনির্ভর জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ময়মনসিংহের পরিবেশবাদীরা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (এফইডি) ও ‘অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন’ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এফইডির পরিচালক খায়রুল আলম তুহিন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বর্তমানে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে দূরে থাকলেও আমদানিনির্ভরতার কারণে গভীর অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে জ্বালানি আমদানি স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

বক্তারা বলেন, দেশে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি ও পেট্রোলিয়ামের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি আমদানির কারণে এই রিজার্ভ চাপের মুখে রয়েছে। এ ছাড়া ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৩০ সাল নাগাদ জ্বালানি আমদানিতে বছরে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জ্বালানি সংকট নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গঠন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে কর ও শুল্ক প্রত্যাহার, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির দ্রুত বাস্তবায়ন, জ্বালানি বাজেটের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য খাতে বরাদ্দ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত চালু করা।

অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের সভাপতি সেলিনা রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় ও অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।

বক্তারা মনে করেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট যেমন সতর্কবার্তা দিচ্ছে, তেমনি এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগও তৈরি করেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত