গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের সংক্রমণের ধারায় শনিবার পর্যন্ত মোট ২১৩ জন শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ৩৫ জন এবং হামের উপসর্গ বা সন্দেহজনক অবস্থায় মারা গেছে ১৭৮ জন শিশু। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে।
এই সময়ে নতুন করে
আরও ১ হাজার ২৮
জন হামে আক্রান্ত হওয়ার
খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সন্দেহজনক
রোগী ৯৪২ জন এবং
নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জন শিশু।
সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত
হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৬৮৭
জনে।
স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে
দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায়
বিভাগ ভিত্তিক আক্রান্তের তালিকায় ঢাকা বিভাগ শীর্ষে
রয়েছে। এখানে ৫০৬ জন শিশু
আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২০৮ জন, চট্টগ্রামে
৯২ জন, বরিশালে ৫০
জন, খুলনায় ৪৫ জন, সিলেটে
৩৩ জন, ময়মনসিংহে ৫
জন এবং রংপুরে ৩
জন নতুন রোগী পাওয়া
গেছে। একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২৪ জন শিশু।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা
যাওয়া ৪ শিশুর মধ্যে
দুইজন বরিশালের এবং দুইজন ঢাকার
বাসিন্দা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে
করছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে
পারে। কারণ অনেক শিশু
হাসপাতালে না এসে ব্যক্তিগত
চেম্বারে বা বাসায় চিকিৎসা
নিচ্ছে, যাদের তথ্য সরকারি হিসেবে
যুক্ত হচ্ছে না।
হামের
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মহাখালী সংক্রামক
ব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আরিফুল বাসার
বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ আগের চেয়ে
কিছুটা কমলেও এখনো ৪২ জন
শিশু ভর্তি আছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন
গড়ে ১০ থেকে ১২
জন হামের রোগী চিকিৎসা নিতে
আসছে। বর্তমানে যে টিকা দেওয়া
হচ্ছে, তার পূর্ণ কার্যকারিতা
শুরু হতে অন্তত এক
মাস সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে,
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক ডা. সাইফ উল্লাহ
মুন্সী জানান, হামের এই প্রকোপ আগামী
মে মাসের শেষ বা জুন
পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অন্তত
৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারলে সংক্রমণ
কমবে। তবে টিকা দেওয়ার
১৫ দিন পর থেকে
এর প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।
সংক্রমণ
নিয়ন্ত্রণে শিশুদের যত্নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা শিশু হাসপাতাল
ও ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি জানান, হাসপাতালে এখনো নিয়মিত হামের
রোগী আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আক্রান্ত শিশুদের স্কুলে না পাঠানোই ভালো।
পাশাপাশি প্রতিটি শিশুকে অবশ্যই ভ্যাকসিন দিতে হবে এবং
তাদের ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ডি
ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে।
আইসিইউ
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হাম
থেকে শিশুদের নিউমোনিয়া বা ব্রেন ইনফেকশন
হলে অবস্থা সংকটাপন্ন হতে পারে। চৈত্র
ও বৈশাখ মাসের গরম হাম ও
জলবসন্তের জন্য অনুকূল পরিবেশ
তৈরি করে, তাই বৃষ্টি
না হওয়া পর্যন্ত সংক্রমণের
এই ধারা অব্যাহত থাকতে
পারে। তবে সব হাসপাতালে
আলাদাভাবে হামের চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় সংক্রামক ব্যাধি
হাসপাতালের ওপর চাপ কিছুটা
কমেছে।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের সংক্রমণের ধারায় শনিবার পর্যন্ত মোট ২১৩ জন শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ৩৫ জন এবং হামের উপসর্গ বা সন্দেহজনক অবস্থায় মারা গেছে ১৭৮ জন শিশু। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে।
এই সময়ে নতুন করে
আরও ১ হাজার ২৮
জন হামে আক্রান্ত হওয়ার
খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সন্দেহজনক
রোগী ৯৪২ জন এবং
নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জন শিশু।
সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত
হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৬৮৭
জনে।
স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে
দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায়
বিভাগ ভিত্তিক আক্রান্তের তালিকায় ঢাকা বিভাগ শীর্ষে
রয়েছে। এখানে ৫০৬ জন শিশু
আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২০৮ জন, চট্টগ্রামে
৯২ জন, বরিশালে ৫০
জন, খুলনায় ৪৫ জন, সিলেটে
৩৩ জন, ময়মনসিংহে ৫
জন এবং রংপুরে ৩
জন নতুন রোগী পাওয়া
গেছে। একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২৪ জন শিশু।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা
যাওয়া ৪ শিশুর মধ্যে
দুইজন বরিশালের এবং দুইজন ঢাকার
বাসিন্দা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে
করছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে
পারে। কারণ অনেক শিশু
হাসপাতালে না এসে ব্যক্তিগত
চেম্বারে বা বাসায় চিকিৎসা
নিচ্ছে, যাদের তথ্য সরকারি হিসেবে
যুক্ত হচ্ছে না।
হামের
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মহাখালী সংক্রামক
ব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আরিফুল বাসার
বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ আগের চেয়ে
কিছুটা কমলেও এখনো ৪২ জন
শিশু ভর্তি আছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন
গড়ে ১০ থেকে ১২
জন হামের রোগী চিকিৎসা নিতে
আসছে। বর্তমানে যে টিকা দেওয়া
হচ্ছে, তার পূর্ণ কার্যকারিতা
শুরু হতে অন্তত এক
মাস সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে,
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক ডা. সাইফ উল্লাহ
মুন্সী জানান, হামের এই প্রকোপ আগামী
মে মাসের শেষ বা জুন
পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অন্তত
৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারলে সংক্রমণ
কমবে। তবে টিকা দেওয়ার
১৫ দিন পর থেকে
এর প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।
সংক্রমণ
নিয়ন্ত্রণে শিশুদের যত্নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা শিশু হাসপাতাল
ও ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি জানান, হাসপাতালে এখনো নিয়মিত হামের
রোগী আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আক্রান্ত শিশুদের স্কুলে না পাঠানোই ভালো।
পাশাপাশি প্রতিটি শিশুকে অবশ্যই ভ্যাকসিন দিতে হবে এবং
তাদের ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ডি
ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে।
আইসিইউ
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হাম
থেকে শিশুদের নিউমোনিয়া বা ব্রেন ইনফেকশন
হলে অবস্থা সংকটাপন্ন হতে পারে। চৈত্র
ও বৈশাখ মাসের গরম হাম ও
জলবসন্তের জন্য অনুকূল পরিবেশ
তৈরি করে, তাই বৃষ্টি
না হওয়া পর্যন্ত সংক্রমণের
এই ধারা অব্যাহত থাকতে
পারে। তবে সব হাসপাতালে
আলাদাভাবে হামের চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় সংক্রামক ব্যাধি
হাসপাতালের ওপর চাপ কিছুটা
কমেছে।

আপনার মতামত লিখুন