দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত এক মাসে (১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল) হাম বা হামের লক্ষণ নিয়ে সারাদেশে অন্তত ২০৬ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমানে ৩ হাজারেরও বেশি শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে দেশে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
শনিবার
রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির সফিকুল কবির মিলনায়তনে ডক্টরস
প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ
(ডিপিপিএইচ) আয়োজিত ‘হামে শিশুমৃত্যু: জনস্বাস্থ্যের
জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক
এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য ও
দাবি জানানো হয়।
সংবাদ
সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন
করেন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন।
তিনি বলেন, “হামের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং টিকাদান কর্মসূচির
বড় ধরনের ঘাটতিকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। এটি
কেবল একটি রোগ নয়,
বরং একটি জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়।”
বক্তারা
অভিযোগ করেন, টিকাদান কর্মসূচিতে গাফিলতির কারণেই আজ এত শিশুর
প্রাণ যাচ্ছে। যারা এই অবহেলার
জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত
করার দাবি জানানো হয়।
সম্মেলনের শুরুতে মৃত শিশুদের প্রতি
শোক এবং তাদের শোকসন্তপ্ত
পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
সংবাদ
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিএমএ এর
সাবেক সভাপতি ও প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক
অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০
দফা জরুরি দাবি পেশ করা
হয়।
দাবিগুলো
হলো -
গণটিকাদান
কর্মসূচি: অবিলম্বে সারাদেশে বিশেষ গণটিকাদান শুরু করতে হবে।
বস্তি, দুর্গম ও প্রান্তিক অঞ্চলের
শিশুদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
হাম
কর্নার স্থাপন: উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের
প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষ ‘হাম কর্নার’
চালু এবং পর্যাপ্ত ওষুধ
ও ভিটামিন-এ সরবরাহ নিশ্চিত
করতে হবে।
জরুরি
স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা: বর্তমান অবস্থাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করা।
নজরদারি
বৃদ্ধি: শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা
ও দ্রুত মোকাবিলা কার্যক্রম চালু করা।
ভ্যাকসিন
স্বয়ংসম্পূর্ণতা: আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনে
জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো এবং আইপিএইচ-এর
ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র পুনরায় সক্রিয় করা।
স্ট্যান্ডিং
অর্ডার: ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ
মোকাবিলায় ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার অন পাবলিক হেলথ
ইমার্জেন্সি’ প্রবর্তন করা।
সচেতনতা
বৃদ্ধি: টিকা নিয়ে গুজব
ও ভুল ধারণা দূর
করতে ব্যাপক প্রচার চালানো।
বিকেন্দ্রীকরণ:
প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মহানগরে সেবা
কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা।
কৌশলপত্র
পুনরুজ্জীবন: স্থবির হয়ে পড়া ‘হাম
নির্মূল কৌশলপত্র’ পুনরায় সক্রিয়
করা।
সমন্বিত
পদক্ষেপ: অভিভাবক, গণমাধ্যম ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে
সাথে নিয়ে সমন্বিত প্রতিরোধ
গড়ে তোলা।
অধ্যাপক
ডা. শাকিল আখতারের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন
ডা. ফয়জুল হাকিম লালা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এ এম
জাকির হোসেন, অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল
ইসলাম, অধ্যাপক ডা. হারুন-অর-রশিদ, অধ্যাপক ডা. এম এইচ
ফারুকী এবং ডা. মনীষা
চক্রবর্তী।
বিশেষজ্ঞরা
সতর্ক করে বলেন, এখনই
কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি
আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ
নেওয়ার আহ্বান জানান যাতে আর কোনো
শিশুকে প্রতিরোধযোগ্য এই রোগে প্রাণ
হারাতে না হয়।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত এক মাসে (১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল) হাম বা হামের লক্ষণ নিয়ে সারাদেশে অন্তত ২০৬ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমানে ৩ হাজারেরও বেশি শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে দেশে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
শনিবার
রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির সফিকুল কবির মিলনায়তনে ডক্টরস
প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ
(ডিপিপিএইচ) আয়োজিত ‘হামে শিশুমৃত্যু: জনস্বাস্থ্যের
জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক
এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য ও
দাবি জানানো হয়।
সংবাদ
সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন
করেন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন।
তিনি বলেন, “হামের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং টিকাদান কর্মসূচির
বড় ধরনের ঘাটতিকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। এটি
কেবল একটি রোগ নয়,
বরং একটি জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়।”
বক্তারা
অভিযোগ করেন, টিকাদান কর্মসূচিতে গাফিলতির কারণেই আজ এত শিশুর
প্রাণ যাচ্ছে। যারা এই অবহেলার
জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত
করার দাবি জানানো হয়।
সম্মেলনের শুরুতে মৃত শিশুদের প্রতি
শোক এবং তাদের শোকসন্তপ্ত
পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
সংবাদ
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিএমএ এর
সাবেক সভাপতি ও প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক
অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০
দফা জরুরি দাবি পেশ করা
হয়।
দাবিগুলো
হলো -
গণটিকাদান
কর্মসূচি: অবিলম্বে সারাদেশে বিশেষ গণটিকাদান শুরু করতে হবে।
বস্তি, দুর্গম ও প্রান্তিক অঞ্চলের
শিশুদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
হাম
কর্নার স্থাপন: উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের
প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষ ‘হাম কর্নার’
চালু এবং পর্যাপ্ত ওষুধ
ও ভিটামিন-এ সরবরাহ নিশ্চিত
করতে হবে।
জরুরি
স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা: বর্তমান অবস্থাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করা।
নজরদারি
বৃদ্ধি: শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা
ও দ্রুত মোকাবিলা কার্যক্রম চালু করা।
ভ্যাকসিন
স্বয়ংসম্পূর্ণতা: আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনে
জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো এবং আইপিএইচ-এর
ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র পুনরায় সক্রিয় করা।
স্ট্যান্ডিং
অর্ডার: ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ
মোকাবিলায় ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার অন পাবলিক হেলথ
ইমার্জেন্সি’ প্রবর্তন করা।
সচেতনতা
বৃদ্ধি: টিকা নিয়ে গুজব
ও ভুল ধারণা দূর
করতে ব্যাপক প্রচার চালানো।
বিকেন্দ্রীকরণ:
প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মহানগরে সেবা
কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা।
কৌশলপত্র
পুনরুজ্জীবন: স্থবির হয়ে পড়া ‘হাম
নির্মূল কৌশলপত্র’ পুনরায় সক্রিয়
করা।
সমন্বিত
পদক্ষেপ: অভিভাবক, গণমাধ্যম ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে
সাথে নিয়ে সমন্বিত প্রতিরোধ
গড়ে তোলা।
অধ্যাপক
ডা. শাকিল আখতারের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন
ডা. ফয়জুল হাকিম লালা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এ এম
জাকির হোসেন, অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল
ইসলাম, অধ্যাপক ডা. হারুন-অর-রশিদ, অধ্যাপক ডা. এম এইচ
ফারুকী এবং ডা. মনীষা
চক্রবর্তী।
বিশেষজ্ঞরা
সতর্ক করে বলেন, এখনই
কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি
আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ
নেওয়ার আহ্বান জানান যাতে আর কোনো
শিশুকে প্রতিরোধযোগ্য এই রোগে প্রাণ
হারাতে না হয়।

আপনার মতামত লিখুন