সংবাদ

ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত রংপুর


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত রংপুর
ছবি : সংবাদ

রংপুর বিভাগে একদিকে তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম; সর্বত্রই বিদ্যুতের এই সংকট এখন চরমে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ছোট ছোট কলকারখানা। স্থবিরতা নেমে এসেছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভাগীয় শহর রংপুরে দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। কখনো এক ঘণ্টা পর পর, আবার কখনো টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে এলাকা। বুধবার ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর অধিকাংশ এলাকায় আধা ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং চলতে দেখা গেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতা কমে গেছে। চার্জ হতে না পারায় কাজ করছে না আইপিএসও।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। অসহনীয় গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরীক্ষার্থী মোসলেমা তাবাসসুম বলেন, ‘পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে বসলে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠি। বার বার অনুরোধ করার পরও পরীক্ষার সময় কেন লোডশেডিং কমানো হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’

রংপুর নগরীর তুলনায় উপজেলার পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন উপজেলাগুলোয় সারাদিনই বিদ্যুৎ থাকছে না। গ্রাম পর্যায়ে মধ্যরাতের পর কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পরই আবার চলে যায়।

নগরীর জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সালাম ও সোলায়মান আলী জানান, ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানে বসে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গ্রাহক নেই, আবার আইপিএসও চার্জ হচ্ছে না। ফলে দোকানের সামনে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। একই অবস্থা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকারও। সেখানে তিন দিন ধরে লোডশেডিং চলায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন ঘটছে।

বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসির (নেসকো) রংপুরের সহকারী প্রকৌশলী আমিন উদ্দিন বলেন, ন্যাশনাল গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে নেসকোর রংপুরের প্রধান প্রকৌশলীসহ একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত রংপুর

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রংপুর বিভাগে একদিকে তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম; সর্বত্রই বিদ্যুতের এই সংকট এখন চরমে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ছোট ছোট কলকারখানা। স্থবিরতা নেমে এসেছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভাগীয় শহর রংপুরে দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। কখনো এক ঘণ্টা পর পর, আবার কখনো টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে এলাকা। বুধবার ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর অধিকাংশ এলাকায় আধা ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং চলতে দেখা গেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতা কমে গেছে। চার্জ হতে না পারায় কাজ করছে না আইপিএসও।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। অসহনীয় গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরীক্ষার্থী মোসলেমা তাবাসসুম বলেন, ‘পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে বসলে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠি। বার বার অনুরোধ করার পরও পরীক্ষার সময় কেন লোডশেডিং কমানো হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’

রংপুর নগরীর তুলনায় উপজেলার পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন উপজেলাগুলোয় সারাদিনই বিদ্যুৎ থাকছে না। গ্রাম পর্যায়ে মধ্যরাতের পর কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পরই আবার চলে যায়।

নগরীর জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সালাম ও সোলায়মান আলী জানান, ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানে বসে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গ্রাহক নেই, আবার আইপিএসও চার্জ হচ্ছে না। ফলে দোকানের সামনে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। একই অবস্থা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকারও। সেখানে তিন দিন ধরে লোডশেডিং চলায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন ঘটছে।

বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসির (নেসকো) রংপুরের সহকারী প্রকৌশলী আমিন উদ্দিন বলেন, ন্যাশনাল গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে নেসকোর রংপুরের প্রধান প্রকৌশলীসহ একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত