সংবাদ

পোশাক খাতের সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান বিজিএমইএ’র


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

পোশাক খাতের সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান বিজিএমইএ’র

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা জোরদার এবং বিআরপিডি সার্কুলার-০৭/২০২৫ এর আওতায় আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ’র একটি প্রতিনিধিদল এই আহ্বান জানায়। বিজিএমইএ’র পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদলে সংগঠনটির সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তপাদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
​সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল বিআরপিডি সার্কুলার-০৭/২০২৫ এর আওতায় নীতি সহায়তার জন্য খেলাপী হিসাবের সময়সীমা নভেম্বর ২০২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেয়।
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সময়সীমা বাড়ানো হলে নতুনভাবে অনেক রুগ্ন ও সমস্যাগ্রস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান নীতি সহায়তার আওতায় আসতে পারবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে, তেমনি ব্যাংকিং খাতে অ-পরিশোধিত ঋণ (এনপিএল) হ্রাস পাবে এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।
​আলোচনায় বিজিএমইএ নেতারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত নীতি সহায়তা অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যথাসময়ে ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছে না। ফলে অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠান সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নীতি সহায়তার শর্তসমূহ যথাযথভাবে পালনের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কার্যকর ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানায় প্রতিনিধিদল।
তারা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা নিশ্চিত করা গেলে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় লাভজনক অবস্থায় ফিরে এসে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
​এ সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করে বিজিএমইএ।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিনিধি দলটি জানায়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো জরুরি। এতে একটি বাস্তবভিত্তিক ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন সম্ভব হবে, যা কার্যকর পুনর্বাসন ও পুনরুজ্জীবন কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
​বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলের উত্থাপিত বিষয়গুলো মনোযোগ সহকারে শুনে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। শিল্প খাতের সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


পোশাক খাতের সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান বিজিএমইএ’র

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা জোরদার এবং বিআরপিডি সার্কুলার-০৭/২০২৫ এর আওতায় আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ’র একটি প্রতিনিধিদল এই আহ্বান জানায়। বিজিএমইএ’র পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদলে সংগঠনটির সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তপাদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
​সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল বিআরপিডি সার্কুলার-০৭/২০২৫ এর আওতায় নীতি সহায়তার জন্য খেলাপী হিসাবের সময়সীমা নভেম্বর ২০২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেয়।
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সময়সীমা বাড়ানো হলে নতুনভাবে অনেক রুগ্ন ও সমস্যাগ্রস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান নীতি সহায়তার আওতায় আসতে পারবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে, তেমনি ব্যাংকিং খাতে অ-পরিশোধিত ঋণ (এনপিএল) হ্রাস পাবে এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।
​আলোচনায় বিজিএমইএ নেতারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত নীতি সহায়তা অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যথাসময়ে ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছে না। ফলে অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠান সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নীতি সহায়তার শর্তসমূহ যথাযথভাবে পালনের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কার্যকর ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানায় প্রতিনিধিদল।
তারা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা নিশ্চিত করা গেলে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় লাভজনক অবস্থায় ফিরে এসে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
​এ সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করে বিজিএমইএ।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিনিধি দলটি জানায়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো জরুরি। এতে একটি বাস্তবভিত্তিক ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন সম্ভব হবে, যা কার্যকর পুনর্বাসন ও পুনরুজ্জীবন কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
​বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলের উত্থাপিত বিষয়গুলো মনোযোগ সহকারে শুনে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। শিল্প খাতের সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত