সংবাদ

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

টাকা ছাপিয়ে ঋণ আর নয়, বেসরকারি খাত রক্ষাই সরকারের মূল নীতি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

টাকা ছাপিয়ে ঋণ আর নয়, বেসরকারি খাত রক্ষাই সরকারের মূল নীতি

  • ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে ‘ডিরেগুলেশন’ ও অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ঘোষণা

দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং বেসরকারি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার যে আত্মঘাতী প্রবণতা অতীতে ছিল, সেই পথ থেকে সরকার সরে এসেছে।

শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংস্কারের এই রূপরেখা তুলে ধরেন। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বর্তমান সংকটের উত্তরণে সরকারের নানামুখী পরিকল্পনার কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এই জায়গা থেকে আমরা সরবো না। এই ধরনের নীতিতে একদিকে সুদের হার বেড়ে যায়, অন্যদিকে বেসরকারি খাতক্রাউড আউটহয়ে পড়ে, যা কোনোভাবেই টেকসই অর্থনীতির জন্য সহায়ক নয়।

তিনি আরও যোগ করেন, “বর্তমান সরকার এমন একটি নীতিগত অবস্থানে থাকতে চায়, যেখানে উচ্চমাত্রার মুদ্রা সরবরাহ বা হাই পাওয়ার মানি তৈরি করে মূল্যস্ফীতি বাড়ানো হবে না এবং বেসরকারি খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে না। এটা আমাদের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান গাইডলাইন প্রিন্সিপাল।

আলোচনায় অর্থনীতির ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের কড়া সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের অর্থনীতি অলিগার্কদের হাতে চলে গিয়েছিল। এতে অর্থনীতি রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পড়ে। অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই সরকারডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমিবা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেফ্যামিলি কার্ডকর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন করা হচ্ছে। তার মতে, “পরিবারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নারীরাই সবচেয়ে দক্ষ, তাই তাদের হাতে অর্থ পৌঁছালে তা সাশ্রয় বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পকে অর্থনীতির মেরুদণ্ড আখ্যা দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “সবচেয়ে বড় অ্যামপ্লয়ার হচ্ছে এসএমই খাত। খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকার কাজ করছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার বেশি হলে পরিবারের জীবনমান কমে যায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে মানুষের আয় কার্যত বেড়ে যায়।

এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, “পুলিশ দিয়ে বা টিসিবি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজারকে ডিমান্ড সাপ্লাই অনুযায়ী চলতে দিতে হবে।

বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “বিনিয়োগ বাড়াতে ডিরেগুলেশন প্রয়োজন। ব্যবসা করতে এত বাধা থাকলে বিনিয়োগ আসবে না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


টাকা ছাপিয়ে ঋণ আর নয়, বেসরকারি খাত রক্ষাই সরকারের মূল নীতি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে ‘ডিরেগুলেশন’ ও অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ঘোষণা

দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং বেসরকারি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার যে আত্মঘাতী প্রবণতা অতীতে ছিল, সেই পথ থেকে সরকার সরে এসেছে।

শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংস্কারের এই রূপরেখা তুলে ধরেন। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বর্তমান সংকটের উত্তরণে সরকারের নানামুখী পরিকল্পনার কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এই জায়গা থেকে আমরা সরবো না। এই ধরনের নীতিতে একদিকে সুদের হার বেড়ে যায়, অন্যদিকে বেসরকারি খাতক্রাউড আউটহয়ে পড়ে, যা কোনোভাবেই টেকসই অর্থনীতির জন্য সহায়ক নয়।

তিনি আরও যোগ করেন, “বর্তমান সরকার এমন একটি নীতিগত অবস্থানে থাকতে চায়, যেখানে উচ্চমাত্রার মুদ্রা সরবরাহ বা হাই পাওয়ার মানি তৈরি করে মূল্যস্ফীতি বাড়ানো হবে না এবং বেসরকারি খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে না। এটা আমাদের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান গাইডলাইন প্রিন্সিপাল।

আলোচনায় অর্থনীতির ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের কড়া সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের অর্থনীতি অলিগার্কদের হাতে চলে গিয়েছিল। এতে অর্থনীতি রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পড়ে। অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই সরকারডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমিবা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেফ্যামিলি কার্ডকর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন করা হচ্ছে। তার মতে, “পরিবারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নারীরাই সবচেয়ে দক্ষ, তাই তাদের হাতে অর্থ পৌঁছালে তা সাশ্রয় বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পকে অর্থনীতির মেরুদণ্ড আখ্যা দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “সবচেয়ে বড় অ্যামপ্লয়ার হচ্ছে এসএমই খাত। খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকার কাজ করছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার বেশি হলে পরিবারের জীবনমান কমে যায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে মানুষের আয় কার্যত বেড়ে যায়।

এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, “পুলিশ দিয়ে বা টিসিবি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজারকে ডিমান্ড সাপ্লাই অনুযায়ী চলতে দিতে হবে।

বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “বিনিয়োগ বাড়াতে ডিরেগুলেশন প্রয়োজন। ব্যবসা করতে এত বাধা থাকলে বিনিয়োগ আসবে না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত