সংবাদ

বাসভাড়া বেড়েছে কিলোমিটারে ১১ পয়সা, দ্বিগুণ নেয়ার অভিযোগ যাত্রীদের


রেজাউল করিম
রেজাউল করিম
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯ এএম

বাসভাড়া বেড়েছে কিলোমিটারে ১১ পয়সা, দ্বিগুণ নেয়ার অভিযোগ যাত্রীদের

প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা করে বাস ভাড়া বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে নতুন করে বিশৃঙ্খলার শুরু হয়েছে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে বাস কন্ডাক্টররা। নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ঘাটতির কারণে এই ভাড়া অরাজকতা শুরু করেছে পরিবহনগুলো।

আনোয়ার হোসেন নামের একজন যাত্রী নিয়মিত মহাখালী থেকে পুরানা পল্টনে যাতায়াত করেন। তিনি সংবাদকে বলেন, ‘এই রুটে নিয়মিত ভাড়া ২০ টাকা। আগে কেউ কেউ জোর জবরদোস্তী করে ২৫ টাকা আদায় করতো। সেটাও অন্যায়। এবার নতুন করে সরকার প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাস ভাড়া বাড়িয়েছে। সেই অজুহাতে পরিবহনগুলো এখন ৪০ টাকা ভাড়া দাবি করছে। সরকারের নজরদারির অভাবে বাস মালিকরা জনগণকে এক ধরনের জিম্মি করে ফেলেছে।’

মিরপুর ১০ থেকে গুলিস্তান যাতায়াত করেন এনায়েত হোসেন নামের একজন যাত্রী। তিনি সংবাদকে বলেন, ‘এই রুটে আমি নিয়মিত যাতায়াত করি। কখনো ২৫ কখনো ৩০ টাকা ভাড়া নেয়। নতুন করে বাস ভাড়া বাড়ার অজুহাতে আজ ভাড়া চায় ৫০ টাকা। এই বাড়তি ভাড়া নিয়ে কন্ডাক্টরের সঙ্গে আমি গন্ডগোল পর্যন্ত করলাম। কিন্তু প্রতিদিনই কি আমি গন্ডগোল করবো? তারা এমন করতে করতে এই বাড়তি ভাড়াকে স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলবে। যাত্রীরা তো তাদের কাছে জিম্মি।’

শুধু এই দুটি রুটই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন রুটে এমন একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীরা বলছেন, অনেক বাসে নির্ধারিত হারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে। বিশেষ করে ভাড়া নির্ধারণ তালিকা না থাকা বা তালিকা মানার কারণে এই অনিয়ম বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে কন্ডাক্টররা মুখে মুখেই ভাড়া নির্ধারণ করে নিচ্ছেন। তারা কোনো স্পষ্ট হিসাব বা সরকারি চার্ট অনুসরণ করছে না। কোনো রুটে দুই থেকে তিন গুণ বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে পরিবহনগুলো।
এই অবস্থায় কম দূরত্বেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে অফিসগামী কর্মজীবী, শিক্ষার্থী এবং নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। নির্ধারিত ১১ পয়সা বৃদ্ধির বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয় বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে বা বিকল্প পরিবহন না থাকলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাড়া নির্ধারণের পর কার্যকর তদারকি না থাকায় কিছু পরিবহন অপারেটর এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। অনেক বাসে ভাড়া তালিকা না থাকায় বা থাকলেও তা অনুসরণ না করায় যাত্রীদের সঙ্গে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ভাড়া বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত আদায় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে শুধু যাতায়াত খরচই নয়, সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য এটি বড় ধরনের চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যাত্রী অধিকার সংগঠন ও সাধারণ মানুষ কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত ভাড়া মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু ভাড়া নির্ধারণ করলেই হবে না, বরং মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে নির্ধারিত ভাড়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর হবে না এবং ভাড়া অরাজকতা আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মনিটরিং কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বৃহস্পতিবার তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ইতিপূর্বে এ ধরনের ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও মালিক শ্রমিকরা তা তোয়াক্কা না করে তাদের ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছেন। বিআরটিএ, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন সেখানে নিরব দর্শকের ভুমিকায় ছিলেন। তাই ভাড়া আদায় কার্যকর ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ভাড়ার চার্ট প্রস্তুতের আগে অনেক গণপরিবহণ বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু করে দিয়েছে। এসব রুটে বর্তমানে নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায় হচ্ছে কিনা তা বিশেষ নজরদারি দরকার। নতুন ভাড়ার তালিকা তৈরিতে কোন ধরনের জালিয়াতি, বিভিন্ন রুটে কিলোমিটার বেশি দেখানো, গুরুত্বপূর্ণ উঠানামা পয়েন্টে স্টপেজ না দেখিয়ে সর্বশেষ গন্তব্যের ভাড়া আদায়ের নামে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অপকৌশল কঠোর ভাবে বন্ধ করতে হবে। ডিজেল চালিত গণপরিবহণের পাশাপাশি সিএনজিচালিত বাসে ডিজেল চালিত বাসের হারে বর্ধিত ভাড়া আদায় হচ্ছে কিনা তাও কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।’

এর আগে, সম্প্রতি সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম বাড়ার প্রভাবেই বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ত‌বে ২০২২ সালের ৫ আগস্ট তৎকা‌লিন সরকার এক ঘোষণায় জ্বালানি তেলের দাম বড় আকারে বাড়িয়ে দেয়। সে সময় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৪ টাকা করা হয়। অকটেনের দাম ৮৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রলের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ শতাংশ হারে এটি প্রায় প্রায় ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। অবশ্য সেই মাসের শেষের দিকে দাম কিছুটা কমে।
তখন সরকার ঘোষণা দিয়ে দূরপাল্লার বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। আর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধি ছিল তুলনামূলক কম, প্রায় ১৬ শতাংশ। ঢাকার ক্ষেত্রে আগে যেখানে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ছিল ২ টাকা ১৫ পয়সা, তা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ভাড়াও ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা করা হয় যা স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রেও ভাড়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। আগে প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৮০ পয়সা ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও তা বাড়িয়ে ২ টাকা ২০ পয়সা করা হয়।
তখনকার সময় এই সিদ্ধান্ত এতটাই আকস্মিক ও বড় ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও ভোক্তা বাজারে এক ধরনের ধাক্কা সৃষ্টি হয়। বাস ও ট্রাক ভাড়া দ্রুত বেড়ে যায়। এর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়তে শুরু করে। কৃষি খাতে সেচের জন্য ব্যবহৃত ডিজেলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে খাদ্যের বাজারে। একই সঙ্গে শিল্প খাতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যের দাম বাড়ে এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় বিদ্যুৎ খরচ বাড়ার চাপ তৈরি হয়। আর এই দাম বৃদ্ধির চক্র সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দেয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


বাসভাড়া বেড়েছে কিলোমিটারে ১১ পয়সা, দ্বিগুণ নেয়ার অভিযোগ যাত্রীদের

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা করে বাস ভাড়া বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে নতুন করে বিশৃঙ্খলার শুরু হয়েছে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে বাস কন্ডাক্টররা। নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ঘাটতির কারণে এই ভাড়া অরাজকতা শুরু করেছে পরিবহনগুলো।

আনোয়ার হোসেন নামের একজন যাত্রী নিয়মিত মহাখালী থেকে পুরানা পল্টনে যাতায়াত করেন। তিনি সংবাদকে বলেন, ‘এই রুটে নিয়মিত ভাড়া ২০ টাকা। আগে কেউ কেউ জোর জবরদোস্তী করে ২৫ টাকা আদায় করতো। সেটাও অন্যায়। এবার নতুন করে সরকার প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাস ভাড়া বাড়িয়েছে। সেই অজুহাতে পরিবহনগুলো এখন ৪০ টাকা ভাড়া দাবি করছে। সরকারের নজরদারির অভাবে বাস মালিকরা জনগণকে এক ধরনের জিম্মি করে ফেলেছে।’

মিরপুর ১০ থেকে গুলিস্তান যাতায়াত করেন এনায়েত হোসেন নামের একজন যাত্রী। তিনি সংবাদকে বলেন, ‘এই রুটে আমি নিয়মিত যাতায়াত করি। কখনো ২৫ কখনো ৩০ টাকা ভাড়া নেয়। নতুন করে বাস ভাড়া বাড়ার অজুহাতে আজ ভাড়া চায় ৫০ টাকা। এই বাড়তি ভাড়া নিয়ে কন্ডাক্টরের সঙ্গে আমি গন্ডগোল পর্যন্ত করলাম। কিন্তু প্রতিদিনই কি আমি গন্ডগোল করবো? তারা এমন করতে করতে এই বাড়তি ভাড়াকে স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলবে। যাত্রীরা তো তাদের কাছে জিম্মি।’

শুধু এই দুটি রুটই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন রুটে এমন একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীরা বলছেন, অনেক বাসে নির্ধারিত হারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে। বিশেষ করে ভাড়া নির্ধারণ তালিকা না থাকা বা তালিকা মানার কারণে এই অনিয়ম বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে কন্ডাক্টররা মুখে মুখেই ভাড়া নির্ধারণ করে নিচ্ছেন। তারা কোনো স্পষ্ট হিসাব বা সরকারি চার্ট অনুসরণ করছে না। কোনো রুটে দুই থেকে তিন গুণ বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে পরিবহনগুলো।
এই অবস্থায় কম দূরত্বেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে অফিসগামী কর্মজীবী, শিক্ষার্থী এবং নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। নির্ধারিত ১১ পয়সা বৃদ্ধির বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয় বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে বা বিকল্প পরিবহন না থাকলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাড়া নির্ধারণের পর কার্যকর তদারকি না থাকায় কিছু পরিবহন অপারেটর এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। অনেক বাসে ভাড়া তালিকা না থাকায় বা থাকলেও তা অনুসরণ না করায় যাত্রীদের সঙ্গে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ভাড়া বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত আদায় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে শুধু যাতায়াত খরচই নয়, সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য এটি বড় ধরনের চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যাত্রী অধিকার সংগঠন ও সাধারণ মানুষ কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত ভাড়া মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু ভাড়া নির্ধারণ করলেই হবে না, বরং মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে নির্ধারিত ভাড়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর হবে না এবং ভাড়া অরাজকতা আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মনিটরিং কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বৃহস্পতিবার তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ইতিপূর্বে এ ধরনের ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও মালিক শ্রমিকরা তা তোয়াক্কা না করে তাদের ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছেন। বিআরটিএ, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন সেখানে নিরব দর্শকের ভুমিকায় ছিলেন। তাই ভাড়া আদায় কার্যকর ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ভাড়ার চার্ট প্রস্তুতের আগে অনেক গণপরিবহণ বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু করে দিয়েছে। এসব রুটে বর্তমানে নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায় হচ্ছে কিনা তা বিশেষ নজরদারি দরকার। নতুন ভাড়ার তালিকা তৈরিতে কোন ধরনের জালিয়াতি, বিভিন্ন রুটে কিলোমিটার বেশি দেখানো, গুরুত্বপূর্ণ উঠানামা পয়েন্টে স্টপেজ না দেখিয়ে সর্বশেষ গন্তব্যের ভাড়া আদায়ের নামে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অপকৌশল কঠোর ভাবে বন্ধ করতে হবে। ডিজেল চালিত গণপরিবহণের পাশাপাশি সিএনজিচালিত বাসে ডিজেল চালিত বাসের হারে বর্ধিত ভাড়া আদায় হচ্ছে কিনা তাও কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।’

এর আগে, সম্প্রতি সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম বাড়ার প্রভাবেই বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ত‌বে ২০২২ সালের ৫ আগস্ট তৎকা‌লিন সরকার এক ঘোষণায় জ্বালানি তেলের দাম বড় আকারে বাড়িয়ে দেয়। সে সময় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৪ টাকা করা হয়। অকটেনের দাম ৮৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রলের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ শতাংশ হারে এটি প্রায় প্রায় ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। অবশ্য সেই মাসের শেষের দিকে দাম কিছুটা কমে।
তখন সরকার ঘোষণা দিয়ে দূরপাল্লার বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। আর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধি ছিল তুলনামূলক কম, প্রায় ১৬ শতাংশ। ঢাকার ক্ষেত্রে আগে যেখানে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ছিল ২ টাকা ১৫ পয়সা, তা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ভাড়াও ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা করা হয় যা স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রেও ভাড়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। আগে প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৮০ পয়সা ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও তা বাড়িয়ে ২ টাকা ২০ পয়সা করা হয়।
তখনকার সময় এই সিদ্ধান্ত এতটাই আকস্মিক ও বড় ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও ভোক্তা বাজারে এক ধরনের ধাক্কা সৃষ্টি হয়। বাস ও ট্রাক ভাড়া দ্রুত বেড়ে যায়। এর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়তে শুরু করে। কৃষি খাতে সেচের জন্য ব্যবহৃত ডিজেলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে খাদ্যের বাজারে। একই সঙ্গে শিল্প খাতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যের দাম বাড়ে এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় বিদ্যুৎ খরচ বাড়ার চাপ তৈরি হয়। আর এই দাম বৃদ্ধির চক্র সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দেয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত