ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ড বিশ্বকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। লিমনের রুমমেট সন্দেহভাজন হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ শুধু হত্যাই করেননি; হত্যার তিন দিন আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে নানা প্রশ্ন করেছিলেন। জিজ্ঞাসা করেছিলেন-‘কোনো ব্যক্তিকে কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হতে পারে?’
টাম্পা বে টাইমস ও আদালতের নথি সূত্রে এসব চমকপ্রদ তথ্য জানা গেছে। তদন্ত সূত্র জানায়, লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে গত ১৩ এপ্রিল চ্যাটজিপিটিকে ওই প্রশ্ন করেন হিশাম। চ্যাটবটের জবাব ছিল- ‘এটি বিপজ্জনক শোনাচ্ছে।’
কিন্তু সেখানেই থামেননি হিশাম। তিনি ফলোআপ প্রশ্ন করেন, ‘তারা কীভাবে জানতে পারবে?’খুনের মাত্র এক দিন আগে তিনি আরও দুটি সাজেশন চেয়েছিলেন চ্যাটজিপিটি থেকে। প্রশ্ন করেছিলেন, ‘গাড়ির ভিআইএন নম্বর কীভাবে পরিবর্তন করা যায়?’ এবং ‘লাইসেন্স ছাড়া কি বাড়িতে বন্দুক রাখা যায়?’
লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার হত্যার ১১ দিন পর গেল শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে কয়েকটি কালো আবর্জনার ব্যাগের ভিতর উদ্ধার করা হয় লিমনের মরদেহ।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না। একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন মিলেছে।
সেই ঘটনার তিন দিন পরেও থামেননি হিশাম। গেল ১৯ এপ্রিল তিনি আবারও চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান, ‘কেউ কি স্নাইপারের গুলিতে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর বেঁচে যেতে পারে?’ আরও জানতে চান, ‘আমার প্রতিবেশীরা কি আমার বন্দুকের শব্দ শুনতে পাবে?’
চ্যাটবট কী উত্তর দিয়েছিল- তা এখনো নথিতে উল্লেখ নেই। তবে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন, এই প্রশ্নগুলো লিমন-বৃষ্টি হত্যার সময়সীমার মধ্যেই করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজের পরপরই ফরেনসিক টিম লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের চিহ্ন, রক্তমাখা কাপড়ের টুকরো, লিমনের মানিব্যাগ ও চশমা এবং একটি গোলাপি আইফোন কভার উদ্ধার করে। সেটি বৃষ্টির বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপর নজরদারি বাড়ানো হয়।
গত ১৬ এপ্রিল গভীর রাতে গাড়ি নিয়ে কর্নি ক্যাম্পবেল কজওয়ে পেরিয়ে স্যান্ড কি পার্কের দিকে যান হিশাম। আর লিমনের মোবাইলের সিগন্যালের গতিপথ ঠিক সেই পথেই মিলেছে। কিছুক্ষণ পরই সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যায়।
গত শুক্রবার উত্তর টাম্পার লেক ফরেস্ট এলাকায় সোয়াট টিমের অভিযানে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খালি গায়ে, কোমরে শুধু একটা তোয়ালে পেঁচিয়ে বেরিয়ে আসেন।
হিশামের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যার (ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার) দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে প্রাক্-বিচার শুনানি পর্যন্ত জামিন ছাড়া আটক রাখা হয়েছে।
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে প্রমাণিত হয়েছে- হত্যা ছিল পরিকল্পিত। সংঘটনের আগে থেকেই লাশ গায়েব করার উপায় খুঁজছিলেন হিশাম।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের কথাও স্থির হয়েছিল।
হিশাম লিমনের রুমমেট ছিলেন। বর্তমানে বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তল্লাশি অভিযান অব্যাহত আছে।
এখন সবার নজর আগামীকাল ২৮ এপ্রিলের প্রি-ট্রায়াল শুনানির দিকে। এই শুনানিতেই বেরিয়ে আসতে পারে আরও নৃশংস তথ্য। সূত্র: টাম্পা বে টাইমস।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ড বিশ্বকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। লিমনের রুমমেট সন্দেহভাজন হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ শুধু হত্যাই করেননি; হত্যার তিন দিন আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে নানা প্রশ্ন করেছিলেন। জিজ্ঞাসা করেছিলেন-‘কোনো ব্যক্তিকে কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হতে পারে?’
টাম্পা বে টাইমস ও আদালতের নথি সূত্রে এসব চমকপ্রদ তথ্য জানা গেছে। তদন্ত সূত্র জানায়, লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে গত ১৩ এপ্রিল চ্যাটজিপিটিকে ওই প্রশ্ন করেন হিশাম। চ্যাটবটের জবাব ছিল- ‘এটি বিপজ্জনক শোনাচ্ছে।’
কিন্তু সেখানেই থামেননি হিশাম। তিনি ফলোআপ প্রশ্ন করেন, ‘তারা কীভাবে জানতে পারবে?’খুনের মাত্র এক দিন আগে তিনি আরও দুটি সাজেশন চেয়েছিলেন চ্যাটজিপিটি থেকে। প্রশ্ন করেছিলেন, ‘গাড়ির ভিআইএন নম্বর কীভাবে পরিবর্তন করা যায়?’ এবং ‘লাইসেন্স ছাড়া কি বাড়িতে বন্দুক রাখা যায়?’
লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার হত্যার ১১ দিন পর গেল শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে কয়েকটি কালো আবর্জনার ব্যাগের ভিতর উদ্ধার করা হয় লিমনের মরদেহ।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না। একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন মিলেছে।
সেই ঘটনার তিন দিন পরেও থামেননি হিশাম। গেল ১৯ এপ্রিল তিনি আবারও চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান, ‘কেউ কি স্নাইপারের গুলিতে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর বেঁচে যেতে পারে?’ আরও জানতে চান, ‘আমার প্রতিবেশীরা কি আমার বন্দুকের শব্দ শুনতে পাবে?’
চ্যাটবট কী উত্তর দিয়েছিল- তা এখনো নথিতে উল্লেখ নেই। তবে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন, এই প্রশ্নগুলো লিমন-বৃষ্টি হত্যার সময়সীমার মধ্যেই করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজের পরপরই ফরেনসিক টিম লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের চিহ্ন, রক্তমাখা কাপড়ের টুকরো, লিমনের মানিব্যাগ ও চশমা এবং একটি গোলাপি আইফোন কভার উদ্ধার করে। সেটি বৃষ্টির বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপর নজরদারি বাড়ানো হয়।
গত ১৬ এপ্রিল গভীর রাতে গাড়ি নিয়ে কর্নি ক্যাম্পবেল কজওয়ে পেরিয়ে স্যান্ড কি পার্কের দিকে যান হিশাম। আর লিমনের মোবাইলের সিগন্যালের গতিপথ ঠিক সেই পথেই মিলেছে। কিছুক্ষণ পরই সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যায়।
গত শুক্রবার উত্তর টাম্পার লেক ফরেস্ট এলাকায় সোয়াট টিমের অভিযানে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খালি গায়ে, কোমরে শুধু একটা তোয়ালে পেঁচিয়ে বেরিয়ে আসেন।
হিশামের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যার (ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার) দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে প্রাক্-বিচার শুনানি পর্যন্ত জামিন ছাড়া আটক রাখা হয়েছে।
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে প্রমাণিত হয়েছে- হত্যা ছিল পরিকল্পিত। সংঘটনের আগে থেকেই লাশ গায়েব করার উপায় খুঁজছিলেন হিশাম।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের কথাও স্থির হয়েছিল।
হিশাম লিমনের রুমমেট ছিলেন। বর্তমানে বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তল্লাশি অভিযান অব্যাহত আছে।
এখন সবার নজর আগামীকাল ২৮ এপ্রিলের প্রি-ট্রায়াল শুনানির দিকে। এই শুনানিতেই বেরিয়ে আসতে পারে আরও নৃশংস তথ্য। সূত্র: টাম্পা বে টাইমস।

আপনার মতামত লিখুন