সংবাদ

১ মে’র পর কি ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন ট্রাম্প?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

১ মে’র পর কি ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন ট্রাম্প?

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তার মাঝেই নতুন আইনি ও রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১ মে’র মধ্যে তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যা নির্ধারণ করবে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। এই আইন অনুযায়ী, সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হলে ১ মে’র মধ্যে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের (প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট) উভয় কক্ষের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় যৌথ প্রস্তাব পাস করিয়ে নিতে হবে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো অনুমোদন তিনি পাননি।

কলোরাডো ল' স্কুলের আইনের অধ্যাপক মরিয়ম জামশিদি জানান, প্রেসিডেন্ট চাইলে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা আরও ৩০ দিন বাড়িয়ে মোট ৯০ দিন করতে পারেন। তবে এর জন্য তাকে লিখিতভাবে কংগ্রেসকে জানাতে হবে যে, ‘অনিবার্য সামরিক প্রয়োজনে’ এই অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি।

আইনত ৯০ দিনের বেশি কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়া সেনা মোতায়েন রাখার সুযোগ নেই। তবে জামশিদি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্টকে এই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য করার মতো স্পষ্ট আইনি পথ কংগ্রেসের হাতে খুব একটা নেই। এর আগেও অনেক প্রেসিডেন্ট এই আইনকে অসাংবিধানিক দাবি করে তা মানতে অস্বীকার করেছেন।”

এদিকে, ইরানে ট্রাম্পের এই যুদ্ধ থামাতে নতুন করে কোমর বেঁধে নেমেছে ডেমোক্র্যাটরা। এ সপ্তাহেই সিনেটে ‘যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবে’ ষষ্ঠবারের মতো ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে তারা।

সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) রিপাবলিকানদের প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লিখেছেন, “৬০ দিনের এই বেপরোয়া যুদ্ধের পরও কি রিপাবলিকানরা ট্রাম্পকে অন্ধভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে?”

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার চূড়ান্ত ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে, প্রেসিডেন্টের নয়। ডেমোক্র্যাটরা বারবার চেষ্টা করছে যাতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য হয় এবং ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমতি নেয়।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


১ মে’র পর কি ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন ট্রাম্প?

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তার মাঝেই নতুন আইনি ও রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১ মে’র মধ্যে তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যা নির্ধারণ করবে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। এই আইন অনুযায়ী, সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হলে ১ মে’র মধ্যে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের (প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট) উভয় কক্ষের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় যৌথ প্রস্তাব পাস করিয়ে নিতে হবে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো অনুমোদন তিনি পাননি।

কলোরাডো ল' স্কুলের আইনের অধ্যাপক মরিয়ম জামশিদি জানান, প্রেসিডেন্ট চাইলে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা আরও ৩০ দিন বাড়িয়ে মোট ৯০ দিন করতে পারেন। তবে এর জন্য তাকে লিখিতভাবে কংগ্রেসকে জানাতে হবে যে, ‘অনিবার্য সামরিক প্রয়োজনে’ এই অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি।

আইনত ৯০ দিনের বেশি কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়া সেনা মোতায়েন রাখার সুযোগ নেই। তবে জামশিদি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্টকে এই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য করার মতো স্পষ্ট আইনি পথ কংগ্রেসের হাতে খুব একটা নেই। এর আগেও অনেক প্রেসিডেন্ট এই আইনকে অসাংবিধানিক দাবি করে তা মানতে অস্বীকার করেছেন।”

এদিকে, ইরানে ট্রাম্পের এই যুদ্ধ থামাতে নতুন করে কোমর বেঁধে নেমেছে ডেমোক্র্যাটরা। এ সপ্তাহেই সিনেটে ‘যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবে’ ষষ্ঠবারের মতো ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে তারা।

সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) রিপাবলিকানদের প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লিখেছেন, “৬০ দিনের এই বেপরোয়া যুদ্ধের পরও কি রিপাবলিকানরা ট্রাম্পকে অন্ধভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে?”

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার চূড়ান্ত ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে, প্রেসিডেন্টের নয়। ডেমোক্র্যাটরা বারবার চেষ্টা করছে যাতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য হয় এবং ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমতি নেয়।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত