ক্যাম্পাসের বাইরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী খুন হওয়ার পর ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। নিজেদের বাসা ও রুমমেট বাছাইয়ের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
গেল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচ থেকে জামিল আহমেদ লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি ছিল আবর্জনা ফেলার কালো পলিথিনের ব্যাগে মোড়ানো। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে লিমনেরই রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ। তার বাড়ি থেকে মাত্র দুই মিনিট দূরত্বেই থাকেন শিক্ষার্থী নাথান আরনান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিসিয়া বলেন, ‘আমি বলব, এটা সত্যিই ভয়ানক। সাধারণত আমরা এসব ঘটনা অন্য জায়গায় ঘটতে দেখি। কিন্তু যখন খুব কাছাকাছি কোনো ঘটনা ঘটে, যেমন নিজের স্কুলে বা এমন একটি অ্যাপার্টমেন্টে যার একদম পাশেই আপনি থাকেন, তখন সেটা বেশ ভয় ধরিয়ে দেয়।’
আলিসিয়ার মা–বাবা বিদেশে থাকেন। ঘটনা শোনার পর তারা তাকে খুব সাবধানে থাকতে বলেছেন। তিনি বলেন, এটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য খুবই দুঃখজনক। বিশেষ করে যেহেতু তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থী নাথান আরনান বলেন, যে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেখান থেকে তার অ্যাপার্টমেন্ট মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে। তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাসের জন্য আরও নিরাপত্তার শর্ত জারি ও রুমমেটের অতীত ইতিহাস যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন।
আরনান আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, কারও মাথার ওপর অপহরণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা বা এ ধরনের কোনো ঝুঁকি থাকা উচিত নয়।’
ইউএসএফে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সদ্য পড়তে আসা এভারেট জানান, এ ঘটনা এখন পর্যন্ত রুমমেট বাছাইয়ের বিষয়ে তার চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করেনি। তবে আগামী সেমিস্টারে ক্যাম্পাসের বাইরে বাসস্থানের খোঁজ করার সময় তিনি বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন।
এভারেট বলেন, ‘সাধারণভাবে বলতে গেলে, ইউএসএফ একটি ভালো স্কুল এবং ভালো কমিউনিটি। আমার মনে হয় না, এখানে কোনো সমস্যা থাকার কথা।’
লিমন ও বৃষ্টির পরিবার যৌথভাবে দেওয়া এক বিবৃতিতে আবুঘরবেহর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাস করা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা ও জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এদিকে, হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও ও তথ্য–প্রমাণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে আরেকটু দূরের একটি জলাশয় থেকে আরেকটি মরদেহের খণ্ডিতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি নিহত বৃষ্টির কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, লিমনের সঙ্গে বৃষ্টির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছেন লিমনের ভাই।
অন্যদিকে, ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র: টাম্পাবে।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ক্যাম্পাসের বাইরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী খুন হওয়ার পর ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। নিজেদের বাসা ও রুমমেট বাছাইয়ের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
গেল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচ থেকে জামিল আহমেদ লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি ছিল আবর্জনা ফেলার কালো পলিথিনের ব্যাগে মোড়ানো। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে লিমনেরই রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ। তার বাড়ি থেকে মাত্র দুই মিনিট দূরত্বেই থাকেন শিক্ষার্থী নাথান আরনান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিসিয়া বলেন, ‘আমি বলব, এটা সত্যিই ভয়ানক। সাধারণত আমরা এসব ঘটনা অন্য জায়গায় ঘটতে দেখি। কিন্তু যখন খুব কাছাকাছি কোনো ঘটনা ঘটে, যেমন নিজের স্কুলে বা এমন একটি অ্যাপার্টমেন্টে যার একদম পাশেই আপনি থাকেন, তখন সেটা বেশ ভয় ধরিয়ে দেয়।’
আলিসিয়ার মা–বাবা বিদেশে থাকেন। ঘটনা শোনার পর তারা তাকে খুব সাবধানে থাকতে বলেছেন। তিনি বলেন, এটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য খুবই দুঃখজনক। বিশেষ করে যেহেতু তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থী নাথান আরনান বলেন, যে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেখান থেকে তার অ্যাপার্টমেন্ট মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে। তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাসের জন্য আরও নিরাপত্তার শর্ত জারি ও রুমমেটের অতীত ইতিহাস যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন।
আরনান আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, কারও মাথার ওপর অপহরণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা বা এ ধরনের কোনো ঝুঁকি থাকা উচিত নয়।’
ইউএসএফে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সদ্য পড়তে আসা এভারেট জানান, এ ঘটনা এখন পর্যন্ত রুমমেট বাছাইয়ের বিষয়ে তার চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করেনি। তবে আগামী সেমিস্টারে ক্যাম্পাসের বাইরে বাসস্থানের খোঁজ করার সময় তিনি বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন।
এভারেট বলেন, ‘সাধারণভাবে বলতে গেলে, ইউএসএফ একটি ভালো স্কুল এবং ভালো কমিউনিটি। আমার মনে হয় না, এখানে কোনো সমস্যা থাকার কথা।’
লিমন ও বৃষ্টির পরিবার যৌথভাবে দেওয়া এক বিবৃতিতে আবুঘরবেহর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাস করা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা ও জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এদিকে, হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও ও তথ্য–প্রমাণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে আরেকটু দূরের একটি জলাশয় থেকে আরেকটি মরদেহের খণ্ডিতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি নিহত বৃষ্টির কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, লিমনের সঙ্গে বৃষ্টির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছেন লিমনের ভাই।
অন্যদিকে, ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র: টাম্পাবে।

আপনার মতামত লিখুন