পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ভাড়ানী খালে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতে খালের দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন অংশ খালের পেটে চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের বিভিন্ন স্থানে পাড় ধসে যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থী ও কৃষকসহ সাধারণ পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় বিকল্প রাস্তা না থাকায় যাতায়াত প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কার্তিক পাশা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার মৃধা জানান, ভাঙনের ফলে তার বাড়ির সামনের জমি ও রাস্তার বড় অংশ ইতিমধ্যে খালে বিলীন হয়ে গেছে। এখন বাড়িতে যাতায়াত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবশিষ্ট অংশটুকুও হারানোর আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই গ্রামের নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘প্রতিদিনই পাড় ভেঙে পড়ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। যেকোনো সময় ঘরবাড়িও খালের মধ্যে চলে যেতে পারে।’
স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় সিকদার অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কোনো স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত ব্লক ফেলা বা টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করলে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদেকুর রহমান বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করা হবে।’
এদিকে দ্রুত ভাঙনরোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষার আগে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন