সংসদে এখন তুমুল আলোচনা সংবিধান সংস্কার নাকি সংশোধন সে বিষয়টি নিয়ে। আলোচনা চলছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোট যেটি হয়েছে সেটির বৈধতা নিয়েও। এসব বিষয় নিয়ে সংবাদের ডিজিটাল সংস্করণের বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদ আলাপ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এবং এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সঙ্গে। সেখানে উঠে এসেছে, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির উত্থান এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের নানা দিক। আলোচনাটি হুবহু ছাপা হলো।
রাশেদ আহমেদ: সংবিধান সংশোধন নিয়ে সংসদে আলোচনা চলছে এবং রাষ্ট্রপতি যে আদেশটি দিয়েছিলেন ‘গণপরিষদ অধ্যাদেশ’ যেটি, সেটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবং বিএনপির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেছেন এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আপনি তেমনটি মনে করেন কি না?
ফজলুর রহমান: আমি সবসময় বলি, বাংলাদেশ একটি অভিশপ্ত রাজনৈতিক দেশ। জন্মের পর থেকেই এর উপরে শত্রুদের যে আক্রমণ চলছে, যারা এর জন্ম চাইতো না, তারা যেভাবে আক্রমণ করছে সেই আক্রমণটা আমরা যারা জন্মের পক্ষে ছিলাম বাংলাদেশের পক্ষে আছি, আমরা তা উপহাস করছি, অবজ্ঞা করছি এবং এভয়েড করে গেছি। বলেছি এই রাজাকারেরা কী করবে? কিন্তু ৫৪ বছর ৫৫ বছর পরে এসে আজকে এটা প্রতিষ্ঠিত এবং প্রমাণিত হইছে যে এই দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি চক্রান্তের মাধ্যমে গোপনে এবং সংগোপনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে একটা শক্তি অর্জন করেছে যে তারা সংবিধানটা পরিবর্তন করার মতো সাহস দেখায়। কারণ এই সংবিধানটা তাদের জন্য ঐ যে লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আজিম বললে যেমন শয়তানের গায়ে আগুন লাগে, বাহাত্তরের সংবিধানটা দেখলে এবং বললে স্বাধীনতা বিরোধীদের শরীরে সেইরকম আগুন লাগে। সেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আজ বসে আছে সংসদে দুর্ভাগ্যজনকভাবে। তারা সংবিধানটা ছুড়ে ফেলে দিতে চায় অথচ এই সংবিধানটা কিন্তু এদেশে ৩০ লক্ষ লোকের রক্তের আক্ষরে লেখা। এই ধরনের গণতান্ত্রিক সংবিধান পৃথিবীতে খুব বেশি দেশে নাই। কিন্তু তারপরও এইসব স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এই সংবিধানটাকে সহ্য করতে পারে না কারণ তারা জানে তাদের পূর্বপুরুষের পরাজয়ের মধ্যদিয়ে এই সংবিধানটা লিখিত হয়েছে, এই সংবিধানটা প্রণীত হয়েছে। এবং এমন ভাবে প্রণীত হয়েছে যা পৃথিবীতে কোনোদিন হয় নাই। ঘন্টার পর ঘন্টা দিনের পর দিন রাতের পর রাত আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চিন্তা ভাবনা করেই বাহাত্তরের সংবিধানটা লেখা হয়েছে। কাজেই এই সংবিধানটাকে তারা ছুঁড়ে ফেলে দিতে চায়। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক।
রাশেদ আহমেদ: বিএনপি থেকে কি এরকম কথা কখনো বলা হয়েছিল যে এই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলা, যেটি সংসদে আলোচনা হচ্ছে আপনাদের নেত্রী কোনো সময় বলেছিল কি না?
ফজলুর রহমান: আমাদের দল থেকে কেউ সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দিবে এটা বলেছে আমি জানি না। এই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার মতো শক্তি সাহস এটা এই দেশে হবে বলে আমি মনে করি না। বাহাত্তরের সংবিধানকে অনেকেই আগুন লাগায়ে দিতে চেয়েছে। ঐ যে একটা বিদেশি নাগরিক আসছিল ওর নাম হলো আলী রিয়াজ। ও তো কত চক্রান্ত করে গেল। ও গেল কই এখন। ও বলছিল যে বাহাত্তরের সংবিধানটা ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। আর আমি বলছিলাম ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে দেখিস তোর বাপের নাম কী। এখনও আমি বলছি বাহাত্তরের সংবিধান সংশোধন হতে পারে। সেই সংশোধনটা টু-থার্ড মেজোরিটির মাধ্যমে কিছু কিছু জায়গাতে সেখানে গণভোটও লাগে। সেই সংশোধনগুলো তো সংবিধানের মধ্যে লেখা আছে সংশোধনগুলো কী হবে। সেইভাবে আসতে পারে। ১৬-১৭ টা সংশোধনী আসছে আরও দুই চারটা আসতে পারে। এতে কিচ্ছু আসে যায় না। কিন্তু বাহাত্তরের সংবিধানটা ছুঁড়ে ফেলে দিবে এই ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা যারা বলে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না, মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না। তারা আল-বদর রাজাকার অথবা তাদের সন্তান।
রাশেদ আহমেদ: রাষ্ট্রপতি যে আদেশটি জারি করলেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংসদে এবং আপনাদের দল থেকে বলা হয়েছে যে এটি তো অবৈধ এবং এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আপনি কী মনে করেন?
ফজলুর রহমান: আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে কথাটা বলেছেন তা সঠিক-জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। দেখেন একটা জায়গাতে গিয়ে কিছু লোকজন যাদেরকে বিদেশি নাগরিক বলা হয় বিশেষ করে আমেরিকার ১১ জন লোক আইসা এই দেশের সবচেয়ে ক্ষতি যিনি করেছেন একজন নোবেল লরিয়েট জনাব মুহাম্মদ ইউনূস। তার নেতৃত্বে এবং তাদের এই চক্রান্তে এই দেশে যা যা হয়েছে এই সমস্ত কিছুকেই আমার দল কিছু কিছু স্বীকার করে আমি কোনোটাই স্বীকার করি না। আমি এদেরকে শাস্তি দিতে চাই। এরা গত ১৮ মাসে আমার দেশের সবচেয়ে বেশি গণতান্ত্রিক সর্বনাশ করেছে, মানবিক সর্বনাশ করেছে। আমার শিক্ষা সংস্কৃতি ইতিহাসের সর্বনাশ করেছে আমার মুক্তিযুদ্ধের সর্বনাশ করেছে। কারণ এরা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না এরা হলো মানুষরূপী শয়তান। এরা মুক্তিযুদ্ধকে ধ্বংস করতে ১৮ মাস কাজ করেছে। আমি ওদের কোনো কর্মকাণ্ডই বিশ্বাস করি নাই। যদিও আমার দল কিছু কিছু বিশ্বাস করে আমার বলার কিছু নাই। বিশ্বাস করে এবং তারা এটাকে হয়তোবা স্বীকৃতিও দিবে। কিন্তু আপনি যদি এবসলিউটলি ফজলুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলবো ইউনূস ১৮ মাস যা করছে তাদের চরম শাস্তি হওয়া উচিত। শেখ হাসিনার ১৮ বছর বা যেমন করছে ইউনূসের ১৮ মাস তার চেয়ে কোনো অংশে কম করে নাই, খারাপ কম করে নাই।
রাশেদ আহমেদ: স্পেসিফিক কোন জায়গাগুলোতে খারাপ ছিলো?
ফজলুর রহমান: স্পেসিফিক ইউনূস এই দেশে যতদিন ছিল ততদিন কোনো ধরনের অনুষ্ঠান করতে দেয় নাই যেগুলো স্বাধীনতার পক্ষে। এই দেশে স্বাধীনতা দিবস পালন করছে নামে মাত্র। ১৬ই ডিসেম্বর পালন করতে দেয় নাই। শিল্পকলা বন্ধ ছিল। কাজেই আমি এটা মনে করি যে তারা সমস্ত কাজগুলো করেছে মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করার জন্য। এক সময় তো বলেছিল বাংলাদেশ নামই থাকবে না। এবং তারা বাংলাদেশটাকে পাকিস্তান বানানোর জন্য জামায়াত এবং কালো শক্তির প্রশ্রয়ে আশ্রয়ে এবং শক্তিতে তারা এই দেশটাকে বাংলাদেশস্তান বানাইতে চাইছে। কাজেই ইউনূস সাহেব যা যা করছে তার প্রতিকার যদিও এখন প্রথম দিন দেখলাম ইউনূস সাহেব আইসা সংসদে বইসা আছে আমি চোখ বুজেছিলাম। এদের দিকে তাকাই নাই। এরা হলো গণশত্রু গণদুশমন এই ১৮ মাস তারা যা করছে।
রাশেদ আহমেদ: জুলাই সনদ নিয়ে পার্লামেন্টে এখন ডিবেট হচ্ছে যে সেটা স্বীকৃতি দেওয়া না দেওয়া, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে।
ফজলুর রহমান: আমি আপনাকে কথাটার কিন্তু উত্তরটা দিয়ে দিছি। আমার দল কী করবে আমি জানি না কিন্তু আমি জুলাই সনদের কোনো কিছু সমর্থন করি না। কারণ এরা কোন অধিকারে এটা করছে? আন্দোলনের অধিকারে? সেই আন্দোলনটা তারা যা করছে আমি একা তার ৫০ গুণ করছি। এগুলা আমি পার্লামেন্টেও বলব। এই যে ছেলেপেলেরা এখন বেয়াদব বেতমিজের মতো কথাবার্তা বলে বেহায়ার মতো কথাবার্তা বলে। এই বেয়াদব বেতমিজ ছেলেগুলা এরা কিন্তু পাশ করে আসে নাই। কার করুণায় কিভাবে কোন চক্রান্তে এরা পাশ করে আসছে এটা মানুষ জানে কিন্তু। জানে এরা কোন জায়গা থেকে কত ভোট পেয়েছিল কিভাবে তাদেরকে পার্লামেন্টে আনা হয়েছে। আমি এটা বলতে চাই না কিন্তু শুধু একটা কথা বলতে চাই বাহাত্তরের সংবিধান পরিবর্তন করার বা ছুঁড়ে ফেলার যে উদ্যোগ সেই উদ্যোগটা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে। আজকে পারব না কাল করব, কাল পারব না পরশু করব। আমি পারব না আমার সন্তান করবে। অনাগত ভবিষ্যতে আপনি এটা লক্ষ্য করবেন ভারতে মির্জাফরের ৩০০ বছর পরের অধস্তন পুরুষদেরকে কিন্তু ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এটা মনে রাইখেন ইতিহাস বড় নির্মম এবং নিষ্ঠুর। স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ৭১ এর বিরুদ্ধে যারা যা করবে এই দেশে এখন না হলে ১০০ বছর পরে হলেও তাদের ঐতিহাসিক বিচার হবে।
রাশেদ আহমেদ: কিন্তু তাদের সঙ্গে নিয়েই তো আপনাদের পার্লামেন্ট চালাতে হচ্ছে এখন।
ফজলুর রহমান: আমি তাদেরকে ডেকে আনি নাই তো -আসেন পার্লামেন্টে। তাদেরকে তো আমি লিস্ট করে আনি নাই। তারা পার্লামেন্টে আসছে মানুষের ভোটের মাধ্যমে যদিও সেই কিছু কিছু ভোটের ব্যাপারে লোকের প্রশ্ন আছে ইনক্লুডিং দি অনেকেরই। আমি নাম নাইবা বললাম। মধ্যে একটা শক্তি যদি ভোট করতে পারতো সেটা আওয়ামী লীগ না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্তি যদি এখানে আওয়ামী লীগ নাম দিয়াও যদি ভোটটা ঠিকমতো করতে পারতো তাইলে জামায়াত তিন নম্বরে যাইতো। এরা ৭৮ সিট পাওয়ার কথা তো ৮ টা সিট পাইতে কষ্ট হইতো।
রাশেদ আহমেদ: সংবিধানের বিষয়টি এখন কী দাঁড়াবে তাহলে? এটাকে সংশোধন না সংস্কার?
ফজলুর রহমান: হয়তোবা কোনো কোনো পয়েন্টে সংশোধন হইতে পারে দুইটা একটা পয়েন্টে। কিন্তু কোনোভাবেই সংবিধান সংস্কার অথবা সংবিধান বাতিল করার প্রশ্নই আসেনা। এগুলো পাগল যারা এইটা বলে।
রাশেদ আহমেদ: কোন কোন জায়গায় সংশোধনীটা প্রয়োজন এখন এই মুহূর্তে? এটা কি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের?
ফজলুর রহমান: এটার পরে আমি বলতে পারব। এবং জুলাই সনদ আমি পইড়া যেটা দেখছি এটা বাস্তবায়ন করার জন্য সংবিধান খুব বেশি করার দরকার আছে পরিবর্তন করার দরকার আছে সেটা আমি মনে করিনা। জুলাই সনদ আমার কাছে আছে। আমি প্রতিদিন জুলাই সনদ পড়ি আমি আমি সংবিধান পড়ি পার্লামেন্ট প্রসিডিউর পড়ি আরও বই পড়ি আমি দেখি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য যতগুলো আছে এটার জন্য সংবিধান খুব বেশি পরিবর্তন করতে হবে তা না। মানে কিছু কিছু জায়গা আছে যেখানে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে একটা উদাহরণ দেই যেমন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট মানে উচ্চ পরিষদ যদি করতে হয় এখানে একদম নিশ্চিতভাবে এখানে সংশোধন করার প্রয়োজন হবে। আরও দুই একটা তিনটা জায়গা আছে।
রাশেদ আহমেদ: উচ্চ কক্ষ কি আপনারা করার পক্ষে?
ফজলুর রহমান: আমার দল তো এটার মধ্যে দস্তখত করছে। সেই সময় আমি এটার বিরুদ্ধে ছিলাম । আমি তো বলছি এটার বিরুদ্ধে কিন্তু দল যেহেতু করছে আমি এটা কিছু বলব না। আমি মানসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে ব্যক্তিগতভাবে এখনও এটার বিরুদ্ধে। এখানে আন্দোলনের দুইটা রূপ একটা রূপ হলো গণতান্ত্রিক রূপ। গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এই আন্দোলন ৬২ সনে হইছে ৫২ সনে হইছে ৬৪ সনে হইছে ৬৬ সনে হইছে ৬৯ সনে হইছে ৭০ সনে হইছে ৯০ সনে হইছে। একই আন্দোলন ২০২৪ সনে হইছে জুলাই আন্দোলন যেটাকে বলা হয়। ওইগুলাতে মৃত্যু কিছু হত্যা কম হইছে, এটাতে হত্যা বেশি হইছে। ওইটাতে নিষ্ঠুরতা কিছু কম হয় নাই কিন্তু। এরশাদ কিন্তু ৯ বছরের নিষ্ঠুরতা কম করে নাই। আমি ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট ছিলাম। আমি যেদিন ৮৩র ১৪ই ফেব্রুয়ারি শিক্ষা ভবন অভিমুখে যাত্রা করি মিছিল নিয়ে, সেদিন মার্শাল ল ছিল। এরশাদ ছিল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আব্দুর রহমান ছিল নাইন ডিভিশনের চিফ যেভাবে গুলি চালাইছিল নয় জন তো রাজপথেই হত্যা হইছিল। ঐখানে ঐ তো হাইকোর্টের সামনে শহীদুল্লাহ হলের সামনে। হত্যা হয় নাই কোথায় এরশাদের আমলে তো হত্যাকাণ্ড কম হয় নাই। হত্যাকাণ্ড আরও হইছে আমি বলতে পারি বলব না এই কারণে যে কিছু কিছু নিজের উপরেও পড়বে। হত্যাকাণ্ড সবসময়ই হইছে আন্দোলনে। এখানে একটু বেশি হইছে কোথায় বেশি হইছে সেই জায়গাটাও কিন্তু মানুষ ধরতে পারছে সেটা হলো হত্যাকাণ্ড দুই পক্ষ থেকে হইছে না এক পক্ষ থেকে হইছে। এটা কিন্তু মানুষের মনে প্রশ্ন আছে এবং এটা প্রতিষ্ঠিত হবে যে হত্যাকাণ্ডটা কিন্তু দুই পক্ষ থেকেই হইছে। এটা তো পরিষ্কার ২৪ এ পুলিশ হত্যাকাণ্ড তো আমরা আন্দোলন যারা করছি তারা এটা ঘটিয়েছে।
রাশেদ আহমেদ: পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিচার কি হবে?
ফজলুর রহমান: হিস্টোরি রিপিটস ইটসেলফ। ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হয়। এবং ইতিহাস কোনোদিন সত্যকে পায়ে মাড়িয়ে যায় না। এই ইনডেমনিটি কিন্তু অনেক আগেও দেওয়া হইছিল অনেকবার অনেক ব্যাপারে। কিন্তু এগুলো কিন্তু থাকে নাই যাদেরকে ইনডেমনিটি দেওয়া হইছিল তারা কিন্তু ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলছিল। আজকে ইনডেমনিটি যারা দিচ্ছে তারা ঐ আগের ইতিহাসটা মনে করলে ভালো হয় তানাহলে ভবিষ্যৎ ইতিহাসে তারা কলঙ্কিত হবে। পুলিশ হত্যার বিচার হবে না কেন? হ্যাঁ পুলিশ যদি সামনাসামনি গোলাগুলি করে মারা গিয়ে থাকে সেটা একরকম হবে। কিন্তু ৫ই আগস্টের পরে আমি তো মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলাম বাংলাদেশের মানুষকে সাক্ষী রেখে বলছি আমি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলাম ১৬ই ডিসেম্বরের পরে শত শত রাজাকার আল-বদর আমার কাছে সারেন্ডার করছে আমি তো একজন লোককে হত্যা করি নাই কারণ ১৬ই ডিসেম্বরের পরে তো কোনো যুদ্ধ ছিল না। যুদ্ধ না থাকলে তো আপনি কাউকে যে আপনার কাছে সারেন্ডার করতেছে তাকে তো হত্যা করতে পারেন না। এখানে আমি যদি বাদও দেই ৫ই আগস্টের আগের ব্যাপারটা ৫ই আগস্টের তার পরে যে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে থানা লুট হইছে পুলিশ হত্যা হইছে আগুন দেওয়া হইছে নারীর পেটের বাচ্চাকে হত্যা করা হইছে এটাও আপনি মাপ দিয়ে দিবেন? কই আমি তো ১৬ই ডিসেম্বরের পরে কাউকে হত্যা করি নাই। এমনকি আমি একটা উদাহরণ দেই কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তমের মতো লোক পল্টন ময়দানে ১৭ই ডিসেম্বর তিনজন লোককে হত্যা করেছিল যে কারণে আজ পর্যন্ত এই ব্যাপারে সারা পৃথিবীতে মানবাধিকার সংস্থা থেকে তাকে কথা শুনতে হচ্ছে তাকে কিন্তু মাফ করে নাই। তে ৫ই আগস্টের পরে শত শত পুলিশ হত্যা করলেন ঘর বাড়ি পুড়ায় দিলে থানা পুড়ায় দিলেন এটাও মাফ করে দিবেন? আমি ৫ই আগস্টের আগেরটা ধরতেছি না। আমি ৫ই আগস্টের আগেরটা এইভাবে ধরতেছি পুলিশ যদি অন্যায় করে থাকে মারা গেছে ঠিক আছে পুলিশ মারা গেছে কিন্তু আপনি তো রাষ্ট্র। শুধু পুলিশ মারা গেছে আপনি খুব খুশি হইছেন এটা হতে পারে না আপনি পুলিশের বাড়িতে যান। সে তো আপনার সরকারের চাকরি করত আপনার তার সন্তান আছে মা বাপ আছে তাদেরকে বলেন তোমার ছেলে মারা গেছে আমরা দুঃখিত তোমার জন্য আমরা এটুকু করলাম। এটাকে আল-বদর রাজাকারের হত্যার সঙ্গে তুলনা করলে তো চলবে না। ধরেন যে পুলিশ গুলি করছে গুলি কার অর্ডারে করছে? পুলিশের অর্ডারে করছে? পুলিশ কি নিজের অর্ডারে গুলি করছে? নাকি একজন ম্যাজিস্ট্রেট অর্ডার দিছে নাকি তাকে নির্দেশ দিছে উপর থেকে শেখ হাসিনা বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? তাইলে সে তো অন্যের অর্ডারে অফিসিয়ালি সে অর্ডার পাইয়া সে গুলিটা করতেছে সে কতটুকু দায়ী এটা তো প্রতিষ্ঠিত হবে বিচার করলে পরে। সেই পুলিশটা মারা গেছে বুঝলাম সে অন্যায় করছে তার ছেলে মেয়ে সন্তান পিতা মাতা আছে আপনি তার কাছে তো গেলেন না কোনোদিন যে আপনার সন্তান মারা গেছে ঠিক আছে আমরা এই সন্তানদের ব্যাপারে কিছু দেখছি এটাও কইলেন না, ও কুত্তা মারা গেছে নাকি? এটা ঠিক না। পুলিশ ৫ই আগস্টের আগে হত্যার একরকম হবে আর ৫ই আগস্টের পরে যদি কেউ পুলিশ হত্যা করে থাকে থানা পুড়ায় থাকে এবং বলে থাকে আমরা পুলিশকে হত্যা করছি আমরা থানা পুড়াইছি হ্যাঁ আমরা পুলিশের বাড়িঘর পুড়ায়ে দিছি ৫ই আগস্টের পরে যদি কেউ করে থাকে সেটা মাপ দেওয়ার ক্ষমতা কিন্তু কারও নাই। দিতে পারে এখন শক্তি থাকলে কিন্তু পরবর্তী সময়ে যার শক্তি হবে এই রিয়েল শক্তি আইনের শক্তি কিন্তু তখন দাঁড়াবে ওদেরকে কেউ ক্ষমা করবে না।
রাশেদ আহমেদ: ৫ই আগস্টের পরে কিছুদিন যেতে না যেতেই আপনি সোচ্চার হলেন ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে। ঐ সময়টা আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময় আপনার এবং এই সোচ্চার হওয়ার কারণে আপনাকে নানাভাবে নানা নামে অভিহিত করা হলো। পাগলও বলা হয়েছে।
ফজলুর রহমান: আমাকে যারা পাগল বলে এরা আমাকে যুক্তি দিয়া কাউন্টার করতে পারে না। যে কারণে মনের দুঃখে, মনের রাগে পাগল বলে, বকাবকি করে। বকাবকি তো আর কোনো সমাধান না। আমার বিরুদ্ধে একটা যুক্তি দেও যে তুমি এই কথাটা কইছো কথাটা সঠিক না বা এই কথাটার বিরুদ্ধে কথা হলো এইটা।
৫ই আগস্টের আন্দোলনের বা আগস্ট আন্দোলনের জুলাই আন্দোলনের দুইটা রূপ। একটা হলো গণতান্ত্রিক রূপ। জমিতে বিএনপি'র চারা ফালাইছে বিএনপি রোয়া লাগাইছে বিএনপি পানি দিছে বিএনপি ধান ফলাইছে। সর্বশেষ কাইটা দেওয়ার সময় এই ছেলেরা আসছে। এরা প্রধান ভূমিকা নিছে কাইটা দেওয়ার সেখানে আমরাও ছিলাম। আমি তো চ্যালেঞ্জ করছি আমার একার যে অবদান আছে এদের ৫০ জনেরও এই অবদান নাই এই আন্দোলনে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে। আমি আমার স্ত্রীকে বলছি আমি তুমি বিধবা হইবা তোমার সন্তানরা এতিম হবে। আমার একটা ছেলে ব্যারিস্টার আর একটা ছেলে ইঞ্জিনিয়ার সে এআই করে অনেক দিন আগে থেকে ওরা ৫ দিন গিয়ে রাত্রে বাড়িতে আসে নাই আন্দোলনে। আমরা আন্দোলন করি নাই? আমাদের কথার উপরে লাখ লাখ মানুষ ঘুরছে। হাসিনা পতনের ২৪ ঘণ্টা আগে আমি কইছি আগামীকাল শেখ হাসিনার পতন হবে ২৪ ঘণ্টার আগেই হবে। এগুলো বহুত কথা ২৮শে অক্টোবর যখন নয়া পল্টনের ময়দান থেকে লাখ লাখ মানুষের মিছিলটার উপরে আক্রমণ করল হাসিনা বাহিনী। এবং যখন এটা একটা গাজা উপত্যকা হয়ে গেল কারবালা হয়ে গেল সব যখন দৌড়ায়ে চলে গেল কেউ জেলখানা কেউ পালাইলো। আমি বললাম আমি পালাব না। আমাকে হয় ধইরা নিয়া মাইরা ফেলবে অথবা জেলখানায় দিবে তানাহলে আমি আমার কথা বলে যাব আমার কপাল ভালো আমি কথা বলতে পারছি। কিন্তু জীবনের রিস্ক নিয়ে কথা বলছি। শেখ হাসিনা সরকার ফ্যাসিস্ট ছিল বলে ঠিক আছে ফ্যাসিস্ট আমাকে কিন্তু ঐভাবে মাইরা ফেলে নাই। কিন্তু আমি যখন ইউনূস জামায়াত বিরোধী কথা বলছি আমার বাসার সামনে আইসা মব করে আমার নামে যে অবস্থা করছে আমি কোথাও আজকে দুই বছর দেড় বছর যাবত কিন্তু পার্কে হাঁটতে যাই না। আমি কিন্তু ১৫ বছর পার্কে হাঁটতে যাইতাম। কারণ এমন ধরনের থ্রেট হইছে যে এখন আমাকে সিকিউরিটি নিয়ে ঘর থেকে বের হইতে হয়। এবং আমি পুলিশকে এবং সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ দিব তারা একটা বিশেষ লক্ষ্য আমার প্রতি রাখছে বাসার প্রতি। আমার বাসায় যেদিন মব হইছে যেখানে আমার বাসার উপরে আইসা আগুন লাগায়ে দিবে আমি বাসায় ছিলাম ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ আইছে ১৫ মিনিটের মধ্যে মিলিটারি আইছে নাইলে তো আমি বাঁচতাম না ঐদিন। এরা তো মব এই মব করে করে এরা কী কী না করছে। কত মানুষকে অত্যাচার করছে কত জ্ঞানীগুণী মানুষকে জেলে নিছে কত মুক্তিযোদ্ধাকে শুধু মুক্তিযুদ্ধ কথাটা মুখে বলার জন্য ধইরা পিটাইছে এরা। এই মব করে করে রাজাকারের বাচ্চারা আপনি কী বলতে চান? ইউনূস সরকার ১৮ মাসে যা করছে এখন পর্যন্ত অনেকেই কারাগারে আছে যাদের কোনো দোষ নাই। নির্দোষ। তারা একটা বলছে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছে। মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা কি মহাপাপ? কাজেই বাংলাদেশ যতদিন থাকবে মুক্তিযুদ্ধ ততদিন থাকবে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের পেট চিরেই বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের সন্তানের নাম হলো বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের মা তার পেট চিরেই বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ যতদিন থাকবে মুক্তিযুদ্ধ ততদিন থাকবে তানাহলে বাংলাদেশ শেষ করে দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে তাইলে নাম বাংলাদেশ তাইলে এটা বাংলাদেশস্তান রাখো পাকিস্তান রাখো আফগানিস্তান রাখো এটা। খুব ক্লিয়ারলি বলতে হবে খুব কঠিন কথাগুলো এখন আবার নতুন করে শুরু হয়েছে কেন শুরু হয়েছে জানি না সরকার হলো বিএনপির নেতা হলো তারেক রহমান যে তারেক রহমান একদম সঠিকভাবে স্টার্টিংটা দিছে। সরকারের যে পথ চলার যে স্টার্টিং প্রথম স্টার্টিংটা তারেক রহমান সঠিকভাবে দিছে। যেভাবে মানুষের প্রতি হাতজোড় করে চলছে তারেক রহমান এবং তার দল বিএনপি এই ফ্যামিলি কার্ড কৃষি কাজ গাছ লাগানো থেকে ধরে যত কিছু আছে সব কিছু যত দ্রুততার সঙ্গে করতেছে ১০ হাজার টাকা কৃষি লোন মওকুফ করার থেকে ধরে এখন পর্যন্ত আপনি শুনতে পারবেন না যে বাংলাদেশে বিএনপির কোনো লোক আগে শুনছেন কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পরে এখন পর্যন্ত তেমনভাবে শোনা যায় নাই যে বিএনপির কোনো লোক চাঁদা চাইছে। চাইলে পরে তার বাপের নাম ভুলায়ে দিছে এক দুইটা হয়তোবা হইতে পারে। এখন বরং আমরা জামায়াতের অত্যাচারের মধ্যে আছি।
রাশেদ আহমেদ: তাহলে জুলাই সনদের কী পরিণতি দাঁড়াবে? জুলাই সনদ এবং সংবিধান সংস্কারের মানে এটার সমাধান কোথায়? নাকি সংসদে পাঁচ বছরেই ঝগড়া ঝাটি চলবে?
ফজলুর রহমান: জুলাই সনদের পরিণতি দাঁড়াবে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পার্লামেন্টে যিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। উনি কিন্তু বলছে ইউনূস সরকার আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে কথাটা ঠিক না বেঠিক? সেই প্রতারণামূলক যে কাজ সেই প্রতারণামূলক কাজের যে পরিণতি হয় সেটা হইতে পারে। আমি এর বেশি আর বলতে পারব না। দেখেন না কী হয়।
রাশেদ আহমেদ: আর ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আপনি অনেক কিছুই বললেন যে সবচেয়ে খারাপ শাসন ছিল আপনার ভাষায় যেটি। তাহলে তার বিরুদ্ধে কি আপনার দল ব্যবস্থা নেবে অথবা আপনি ব্যক্তিগতভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থায় যেতে পারেন কি না যাবেন কি না?
ফজলুর রহমান: আমি ব্যক্তিগতভাবে আইনি ব্যবস্থায় যাব না কারণ আমি একটা দল করি। যদি কেউ যায় যাবে। আমি যাব না। কিন্তু আমি চাই কেউ যাক। আমি একটা দল করি আমি দলের সিদ্ধান্ত মানি। একটা রাষ্ট্রে ক্ষমতায় যাইতে হইলে তৃতীয় বিশ্বের দেশে অনেক বুঝাবোঝ করতে হয় প্লাস মাইনাস করতে হয়। দল কি কারণে ইউনূস সাহেবের সাথে কি করছে সেটা দলের যে নেতৃত্ব না সেটা তারা বুঝবে। আমি নীতিগত কথাগুলো বলতেছি। আমি ক্ষমতাগত কথাগুলো বলছি না। ক্ষমতা পাইতে হইলে অনেক জায়গাতে এডজাস্টমেন্ট, কম্প্রোমাইজ করতে হয়। আবার ক্ষমতা চান না শুধু সত্য কথা বলতে হইলে ফজলুর রহমান মতো আপনাকে স্ট্রাগল এন্ড ফাইট করতে হবে। আর ক্ষমতা চান তাইলে এডজাস্টমেন্ট এন্ড কম্প্রোমাইজ করতে হবে। আর আপনি ক্ষমতা চাই না শুধু সত্য কথা বলব তাইলে সারা জীবন কবর পর্যন্ত স্ট্রাগল এন্ড ফাইট করতে হবে।
রাশেদ আহমেদ: মানে আপনি কি মনে করেন আপনি সেই কাজটি করছেন?
ফজলুর রহমান: আমি সত্য কথা বলার জন্য বোধহয় সেই দিকেই যাচ্ছি।
রাশেদ আহমেদ: নির্বাচনের আগে তিনদিন আগে একটি চুক্তি করা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। মানে আপনারা বলছেন ঐ চুক্তি নিয়ে মাঝে বিভিন্ন জায়গায় ঐটার সমালোচনা হচ্ছে আপনার মূল্যায়ন কী?
ফজলুর রহমান: আমিও তাই মনে করি।
রাশেদ আহমেদ: কেন মনে করেন?
ফজলুর রহমান: এই কারণে মনে করি ইউনূস তো হইলো যে দেশটির কথা বললেন তাদের গুটি হিসেবে এখানে আসছে। কারণ আমাদের যত কাম কাজ করে গেছে এই চুক্তি টুক্তি যাই বলেন এই যে সনদ টনদ লেখা টেখা বলেন সংবিধান পরিবর্তন এই যে মিটিং টিং সব তো মার্কিনইরা করছে। আমি তো তাদেরকে বলতাম আধুনিক যুগের রবার্ট ক্লাইভ। এরা কেউ তো বাংলাদেশের নাগরিক না, এরা আইসা আমার দেশ ঠিক করে দিয়া গেছে। এদেরকে পাইলে মানুষ কিন্তু জুতা পিটা করবে এখন। আমি কথাটা বললাম দি টাইম উইল কাম এন্ড দি টাইম উইল আনসার ইন টাইম। এই কথাটা মনে রাইখেন বিদেশীরা আইসা আমার দেশের সংবিধান পরিবর্তন করে যাবে আমার দেশের সবকিছু করে যাবে আমার দেশের চুক্তি করে যাবে। আমি সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাইতে পারব না বছরের পর বছর। আমার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়া দিবে আমার মানে বিভিন্ন চুক্তি করে আমার দেশের অংশ দিয়া দিবে। আমি তো মনে করি এরাই আমেরিকার লোক, ঐ আমেরিকা এখানে বসাইছে।
রাশেদ আহমেদ: কবে টের পেলেন এটা?
ফজলুর রহমান: আমি প্রথম দিনই এটা টের পাইছি আমারে তো জিজ্ঞাসা করে লাভ নাই। কিন্তু ইউনূস সাহেব সম্পর্কে আমার ধারণা একটু ভিন্ন ছিল। আমার মনে হইছিল উনি নোবেল লরিয়েট। আমি উনাকে এত বেশি বলছি যে উনি ১০টা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে উঁচু মানুষ উনি এই মানুষ ঐ মানুষ আমি বলছি আল্লায় মাফ করুক। কিন্তু পরবর্তী সময় দেখলাম উনি টোটাল ষড়যন্ত্রে শুধু অংশ না টোটাল ষড়যন্ত্রের উনি হইলেন লিডার। হিজ দি শেল্টার মাস্টার এই কথাটা আমি বলছি এই কথাটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে অফ অল দি এভিল ড্যান্স অফ বাংলাদেশ। এভিল ডিডস যা আছে সব কিছুর উনি হইলেন মাস্টার। শেল্টার মাস্টার। কয় বুঝে নাই বলছেন আমি বুঝি নাই আমার বয়স ৮৫ বছর অথবা বুঝে শুনেই করছে এই বাচ্চা ছেলেগুলারে বলছে ২৩ বছরের ছেলেরে বলছে প্রধানমন্ত্রী হইবা। এইসব ছেলেপেলেরা যেভাবে কথা বলে এই জেনারেশন কোত্থেকে আসল আমি তো জানি না। এরা কবে পলিটিক্স করছে কবে? আমি তো ফজলুর রহমান ৬২, ৬৪, ৬৬, ৬৯, ৭০, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ৮৩র আন্দোলনের আমি প্রধান নেতা এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের যেটা ১০ দফার আন্দোলন যেটা। পরে যেটা হাবিব আমানরা করছে ৯০ সনে। কই আমরা তো কারও সঙ্গে কোনোদিন বেয়াদবি বেতমিজি করে অথবা আমাকে ক্ষমতা দেও আমি মন্ত্রী হব আমি তো কোনোদিন এই যে এই বাসাটার মধ্যে থাকি আপনি দেখেন বসার জায়গা নাই। এই বাসার মধ্যে থাকি এটা ভাড়া বাসায় থাকি আমি। কই আমি তো বলি নাই আমার শত কোটি টাকা লাগবে আমার প্রাইভেট সেক্রেটারির তিন মাসে ৩০০ কোটি টাকা হবে বলি নাই তো। কোন ছাত্রনেতায় বলছে এদের চেয়ে ছাত্রনেতা এরা কিসের ছাত্রনেতা। যারা এই শাহবাগে বইসা বলে যে যারা গণভোটের বিরুদ্ধে কথা বলবে তাদের চামড়া রাখব না পিটাইয়া ঐ করে দিব। এই এখন বলতেছে ছেলেপেলেরা। এটা কি সালাহউদ্দিন সাহেবের মতো লোকরে তাদের বাপের বয়সী লোকরে বলতে পারে তারেক রহমানকে বলতে পারে এরা নাকি জুতা পিটা করবে এদের মাইরেই ফেলব আমাদের গণভোটের ব্যাপারে কিছু বললে পরেই এরা কারা? এরা বাংলাদেশে কয় পার্সেন্ট ভোট পাইছে যে ভোটটা ছয়টা ছেলেরে তো তাদেরকে ঐ যে গ্রেস দিয়া পাস করায়ে আনা হইছে। আমি তো বললাম ছয়টা ছেলেকে গ্রেস দিয়া পাস করায়ে আনা হইছে। এটা আপনি জানেন এখানে ঐ যে কাইয়ুম সাহেবের বিরুদ্ধে যে ছেলেটি দাঁড়াইছিল তার নাম কী এনসিপির ঐ যে আহ্বায়ক।
রাশেদ আহমেদ: নাহিদ ইসলাম।
ফজলুর রহমান: নাহিদ ইসলাম ও তো কাইয়ুম সাহেবের কাইয়ুমের বিরুদ্ধে আবদুল মানে ঐ যে বাড্ডাতে কাইয়ুম সাবরে জিজ্ঞাসা করবেন বা অন্য বাড্ডাতে গিয়া দেখবেন কয়টা সেন্টারে সে পাশ করছে যান। আমি অন্যটা কইলাম না ঐ মিরপুর ১৫ তে যান ঢাকা ১৫ গিয়া দেখেন এই যে মহামানব আমি বলছিলাম এই মহামানব ও নাকি ওলি আল্লাহ বাংলাদেশে আরে ওনারে আমি যা চিনি। আমি সিলেটের হাজার হাজার মানুষ আইনা খাড়া করতে পারব ওনার ব্যাপারে কী বলে শুনেন আপনারা আপনারা কিছুই তো শুনতে চান না। আপনারা সাংবাদিকরা খালি আসেন আমার কথা অননিবার জন্য। আপনি সিলেটে যান না কেন এক মাস থাইকা দেখেন এই ওলি আল্লাহ সম্পর্কে মানুষ কী বলে। সিলেটের হোটেল ব্যবসা সিলেটের হসপিটাল ব্যবসা সিলেটের ঐ যে হাউজিং ব্যবসা সম্পর্কে মানুষ কী বলে গিয়া শুনেন। আমি বলছিলাম তো আপনার বাড়ি তো সিলেট কুলাউড়া কোত্থেকে দাঁড়াইবেন সিলেটের ১৯টা সিট আমি দাঁড়ামু। যদি আপনি আমাকে ফেল করতে করাতে পারেন জীবনে পলিটিক্স করব না। উনি কেন সিলেট থেকে দাঁড়ায় না উনি আইসা কেন বিহারীদের এলাকাতে দাঁড়ায়। কয়টা ভোট পাইব বুঝা যাবে। এই ভোটটা তো ইউনূস সাহেব সরকার ছিল বইলা কিছু কিছু সিট আমি সব সিট বলছি না কিছু কিছু সিটে বেশ কিছু সিটে এখানে প্রশ্ন উত্থাপন হবেই ভবিষ্যতে।
রাশেদ আহমেদ: ওনারের অনেকে তো আবার মুক্তিযোদ্ধা রক্ত আছে গায়ে এরকম তো দাবি করেন।
ফজলুর রহমান: উনার গায়ে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত আছে হ্যাঁ উনি বলছে উনার পরিবারে শহীদ হইছে মুক্তিযুদ্ধে। তাইলে উনি ডাবল অপরাধ করতেছে। একটা হলো মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের লোক জামাত করে অপরাধ করতেছে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের লোক তো জামাত করতেছে জামাত করে অপরাধ করতেছে আর একটা হইলো শহীদ তার পরিবার আছে সে ডাবল অপরাধ করতেছে জামাত করে। আমার কথাটা খুব বলে আবারো বলছি আমি তার সে বলতেছে উনি বলতেছেন ওনার পরিবার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক। ঠিক আছে ওনাকে আমি সম্মান করলাম তো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক যদি জামাত করে থাকে তাইলে এটা একটা অপরাধ রাজনৈতিক অপরাধ। আর তার পরিবারে শহীদ হইছে শহীদটা করছে কারা পাকিস্তানীরা বা জামাত রাজাকার আল-বদররা তাইলে ঐ দলটা যে তার পরিবারের লোককে শহীদ করছে বাপকে বা চাচাকে সেই দলটা করে জঘন্য অপরাধ করতেছে। সে ডাবল অপরাধ করতেছে না? যার ভাই বা চাচা শহীদ হইছে সে জামাত করে কি করে? এই শহীদটা করছে কে জামাতের লোকজন আল-বদর রাজাকারের লোকজন পাকিস্তানীদেরকে যদি করে থাকে তো পাকিস্তানকে সহযোগিতা তাইলে সেই জামাতই করতেছে তাইলে তার পূর্বপুরুষের প্রতি সে বিশ্বাসঘাতকতা করতেছে। এটা কিন্তু ভালো করে প্রচার করবেন। উনি এটার উত্তর দিব আমি শুনতাম। পার্লামেন্টে উত্তর দেয় যাতে আমি বলছি। উনি বলছে উনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক। ঠিক আছে ওনাকে আমি সম্মান করলাম তো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক যদি জামাত করে থাকে তাইলে এটা একটা অপরাধ রাজনৈতিক অপরাধ। আর তার পরিবারে শহীদ হইছে তো শহীদটা করছে কারা পাকিস্তানীরা বা জামাত রাজাকার আল-বদররা তাইলে ঐ দলটা যে তার পরিবারের লোককে শহীদ করছে বাপকে বা চাচাকে সেই দলটা করে জঘন্য অপরাধ করতেছে। ডাবল অপরাধ করতেছে না?
রাশেদ আহমেদ: সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের যাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে তাদের শোক প্রস্তাব আনা হয়েছে আপনাদের দল থেকেই তো আনা হয়েছে সেটি।
ফজলুর রহমান: এটা আমি সংসদে বলব শুইন্যেন আমি যেদিন বক্তৃতা করি সেইদিন। এটা আপনারে এখন বলব না। আমি বলব সেইদিন।
রাশেদ আহমেদ: অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য।
ফজলুর রহমান: থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ। আমি আপনাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংসদে এখন তুমুল আলোচনা সংবিধান সংস্কার নাকি সংশোধন সে বিষয়টি নিয়ে। আলোচনা চলছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোট যেটি হয়েছে সেটির বৈধতা নিয়েও। এসব বিষয় নিয়ে সংবাদের ডিজিটাল সংস্করণের বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদ আলাপ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এবং এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সঙ্গে। সেখানে উঠে এসেছে, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির উত্থান এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের নানা দিক। আলোচনাটি হুবহু ছাপা হলো।
রাশেদ আহমেদ: সংবিধান সংশোধন নিয়ে সংসদে আলোচনা চলছে এবং রাষ্ট্রপতি যে আদেশটি দিয়েছিলেন ‘গণপরিষদ অধ্যাদেশ’ যেটি, সেটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবং বিএনপির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেছেন এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আপনি তেমনটি মনে করেন কি না?
ফজলুর রহমান: আমি সবসময় বলি, বাংলাদেশ একটি অভিশপ্ত রাজনৈতিক দেশ। জন্মের পর থেকেই এর উপরে শত্রুদের যে আক্রমণ চলছে, যারা এর জন্ম চাইতো না, তারা যেভাবে আক্রমণ করছে সেই আক্রমণটা আমরা যারা জন্মের পক্ষে ছিলাম বাংলাদেশের পক্ষে আছি, আমরা তা উপহাস করছি, অবজ্ঞা করছি এবং এভয়েড করে গেছি। বলেছি এই রাজাকারেরা কী করবে? কিন্তু ৫৪ বছর ৫৫ বছর পরে এসে আজকে এটা প্রতিষ্ঠিত এবং প্রমাণিত হইছে যে এই দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি চক্রান্তের মাধ্যমে গোপনে এবং সংগোপনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে একটা শক্তি অর্জন করেছে যে তারা সংবিধানটা পরিবর্তন করার মতো সাহস দেখায়। কারণ এই সংবিধানটা তাদের জন্য ঐ যে লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আজিম বললে যেমন শয়তানের গায়ে আগুন লাগে, বাহাত্তরের সংবিধানটা দেখলে এবং বললে স্বাধীনতা বিরোধীদের শরীরে সেইরকম আগুন লাগে। সেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আজ বসে আছে সংসদে দুর্ভাগ্যজনকভাবে। তারা সংবিধানটা ছুড়ে ফেলে দিতে চায় অথচ এই সংবিধানটা কিন্তু এদেশে ৩০ লক্ষ লোকের রক্তের আক্ষরে লেখা। এই ধরনের গণতান্ত্রিক সংবিধান পৃথিবীতে খুব বেশি দেশে নাই। কিন্তু তারপরও এইসব স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এই সংবিধানটাকে সহ্য করতে পারে না কারণ তারা জানে তাদের পূর্বপুরুষের পরাজয়ের মধ্যদিয়ে এই সংবিধানটা লিখিত হয়েছে, এই সংবিধানটা প্রণীত হয়েছে। এবং এমন ভাবে প্রণীত হয়েছে যা পৃথিবীতে কোনোদিন হয় নাই। ঘন্টার পর ঘন্টা দিনের পর দিন রাতের পর রাত আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চিন্তা ভাবনা করেই বাহাত্তরের সংবিধানটা লেখা হয়েছে। কাজেই এই সংবিধানটাকে তারা ছুঁড়ে ফেলে দিতে চায়। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক।
রাশেদ আহমেদ: বিএনপি থেকে কি এরকম কথা কখনো বলা হয়েছিল যে এই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলা, যেটি সংসদে আলোচনা হচ্ছে আপনাদের নেত্রী কোনো সময় বলেছিল কি না?
ফজলুর রহমান: আমাদের দল থেকে কেউ সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দিবে এটা বলেছে আমি জানি না। এই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার মতো শক্তি সাহস এটা এই দেশে হবে বলে আমি মনে করি না। বাহাত্তরের সংবিধানকে অনেকেই আগুন লাগায়ে দিতে চেয়েছে। ঐ যে একটা বিদেশি নাগরিক আসছিল ওর নাম হলো আলী রিয়াজ। ও তো কত চক্রান্ত করে গেল। ও গেল কই এখন। ও বলছিল যে বাহাত্তরের সংবিধানটা ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। আর আমি বলছিলাম ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে দেখিস তোর বাপের নাম কী। এখনও আমি বলছি বাহাত্তরের সংবিধান সংশোধন হতে পারে। সেই সংশোধনটা টু-থার্ড মেজোরিটির মাধ্যমে কিছু কিছু জায়গাতে সেখানে গণভোটও লাগে। সেই সংশোধনগুলো তো সংবিধানের মধ্যে লেখা আছে সংশোধনগুলো কী হবে। সেইভাবে আসতে পারে। ১৬-১৭ টা সংশোধনী আসছে আরও দুই চারটা আসতে পারে। এতে কিচ্ছু আসে যায় না। কিন্তু বাহাত্তরের সংবিধানটা ছুঁড়ে ফেলে দিবে এই ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা যারা বলে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না, মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না। তারা আল-বদর রাজাকার অথবা তাদের সন্তান।
রাশেদ আহমেদ: রাষ্ট্রপতি যে আদেশটি জারি করলেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংসদে এবং আপনাদের দল থেকে বলা হয়েছে যে এটি তো অবৈধ এবং এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আপনি কী মনে করেন?
ফজলুর রহমান: আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে কথাটা বলেছেন তা সঠিক-জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। দেখেন একটা জায়গাতে গিয়ে কিছু লোকজন যাদেরকে বিদেশি নাগরিক বলা হয় বিশেষ করে আমেরিকার ১১ জন লোক আইসা এই দেশের সবচেয়ে ক্ষতি যিনি করেছেন একজন নোবেল লরিয়েট জনাব মুহাম্মদ ইউনূস। তার নেতৃত্বে এবং তাদের এই চক্রান্তে এই দেশে যা যা হয়েছে এই সমস্ত কিছুকেই আমার দল কিছু কিছু স্বীকার করে আমি কোনোটাই স্বীকার করি না। আমি এদেরকে শাস্তি দিতে চাই। এরা গত ১৮ মাসে আমার দেশের সবচেয়ে বেশি গণতান্ত্রিক সর্বনাশ করেছে, মানবিক সর্বনাশ করেছে। আমার শিক্ষা সংস্কৃতি ইতিহাসের সর্বনাশ করেছে আমার মুক্তিযুদ্ধের সর্বনাশ করেছে। কারণ এরা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না এরা হলো মানুষরূপী শয়তান। এরা মুক্তিযুদ্ধকে ধ্বংস করতে ১৮ মাস কাজ করেছে। আমি ওদের কোনো কর্মকাণ্ডই বিশ্বাস করি নাই। যদিও আমার দল কিছু কিছু বিশ্বাস করে আমার বলার কিছু নাই। বিশ্বাস করে এবং তারা এটাকে হয়তোবা স্বীকৃতিও দিবে। কিন্তু আপনি যদি এবসলিউটলি ফজলুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলবো ইউনূস ১৮ মাস যা করছে তাদের চরম শাস্তি হওয়া উচিত। শেখ হাসিনার ১৮ বছর বা যেমন করছে ইউনূসের ১৮ মাস তার চেয়ে কোনো অংশে কম করে নাই, খারাপ কম করে নাই।
রাশেদ আহমেদ: স্পেসিফিক কোন জায়গাগুলোতে খারাপ ছিলো?
ফজলুর রহমান: স্পেসিফিক ইউনূস এই দেশে যতদিন ছিল ততদিন কোনো ধরনের অনুষ্ঠান করতে দেয় নাই যেগুলো স্বাধীনতার পক্ষে। এই দেশে স্বাধীনতা দিবস পালন করছে নামে মাত্র। ১৬ই ডিসেম্বর পালন করতে দেয় নাই। শিল্পকলা বন্ধ ছিল। কাজেই আমি এটা মনে করি যে তারা সমস্ত কাজগুলো করেছে মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করার জন্য। এক সময় তো বলেছিল বাংলাদেশ নামই থাকবে না। এবং তারা বাংলাদেশটাকে পাকিস্তান বানানোর জন্য জামায়াত এবং কালো শক্তির প্রশ্রয়ে আশ্রয়ে এবং শক্তিতে তারা এই দেশটাকে বাংলাদেশস্তান বানাইতে চাইছে। কাজেই ইউনূস সাহেব যা যা করছে তার প্রতিকার যদিও এখন প্রথম দিন দেখলাম ইউনূস সাহেব আইসা সংসদে বইসা আছে আমি চোখ বুজেছিলাম। এদের দিকে তাকাই নাই। এরা হলো গণশত্রু গণদুশমন এই ১৮ মাস তারা যা করছে।
রাশেদ আহমেদ: জুলাই সনদ নিয়ে পার্লামেন্টে এখন ডিবেট হচ্ছে যে সেটা স্বীকৃতি দেওয়া না দেওয়া, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে।
ফজলুর রহমান: আমি আপনাকে কথাটার কিন্তু উত্তরটা দিয়ে দিছি। আমার দল কী করবে আমি জানি না কিন্তু আমি জুলাই সনদের কোনো কিছু সমর্থন করি না। কারণ এরা কোন অধিকারে এটা করছে? আন্দোলনের অধিকারে? সেই আন্দোলনটা তারা যা করছে আমি একা তার ৫০ গুণ করছি। এগুলা আমি পার্লামেন্টেও বলব। এই যে ছেলেপেলেরা এখন বেয়াদব বেতমিজের মতো কথাবার্তা বলে বেহায়ার মতো কথাবার্তা বলে। এই বেয়াদব বেতমিজ ছেলেগুলা এরা কিন্তু পাশ করে আসে নাই। কার করুণায় কিভাবে কোন চক্রান্তে এরা পাশ করে আসছে এটা মানুষ জানে কিন্তু। জানে এরা কোন জায়গা থেকে কত ভোট পেয়েছিল কিভাবে তাদেরকে পার্লামেন্টে আনা হয়েছে। আমি এটা বলতে চাই না কিন্তু শুধু একটা কথা বলতে চাই বাহাত্তরের সংবিধান পরিবর্তন করার বা ছুঁড়ে ফেলার যে উদ্যোগ সেই উদ্যোগটা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে। আজকে পারব না কাল করব, কাল পারব না পরশু করব। আমি পারব না আমার সন্তান করবে। অনাগত ভবিষ্যতে আপনি এটা লক্ষ্য করবেন ভারতে মির্জাফরের ৩০০ বছর পরের অধস্তন পুরুষদেরকে কিন্তু ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এটা মনে রাইখেন ইতিহাস বড় নির্মম এবং নিষ্ঠুর। স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ৭১ এর বিরুদ্ধে যারা যা করবে এই দেশে এখন না হলে ১০০ বছর পরে হলেও তাদের ঐতিহাসিক বিচার হবে।
রাশেদ আহমেদ: কিন্তু তাদের সঙ্গে নিয়েই তো আপনাদের পার্লামেন্ট চালাতে হচ্ছে এখন।
ফজলুর রহমান: আমি তাদেরকে ডেকে আনি নাই তো -আসেন পার্লামেন্টে। তাদেরকে তো আমি লিস্ট করে আনি নাই। তারা পার্লামেন্টে আসছে মানুষের ভোটের মাধ্যমে যদিও সেই কিছু কিছু ভোটের ব্যাপারে লোকের প্রশ্ন আছে ইনক্লুডিং দি অনেকেরই। আমি নাম নাইবা বললাম। মধ্যে একটা শক্তি যদি ভোট করতে পারতো সেটা আওয়ামী লীগ না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্তি যদি এখানে আওয়ামী লীগ নাম দিয়াও যদি ভোটটা ঠিকমতো করতে পারতো তাইলে জামায়াত তিন নম্বরে যাইতো। এরা ৭৮ সিট পাওয়ার কথা তো ৮ টা সিট পাইতে কষ্ট হইতো।
রাশেদ আহমেদ: সংবিধানের বিষয়টি এখন কী দাঁড়াবে তাহলে? এটাকে সংশোধন না সংস্কার?
ফজলুর রহমান: হয়তোবা কোনো কোনো পয়েন্টে সংশোধন হইতে পারে দুইটা একটা পয়েন্টে। কিন্তু কোনোভাবেই সংবিধান সংস্কার অথবা সংবিধান বাতিল করার প্রশ্নই আসেনা। এগুলো পাগল যারা এইটা বলে।
রাশেদ আহমেদ: কোন কোন জায়গায় সংশোধনীটা প্রয়োজন এখন এই মুহূর্তে? এটা কি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের?
ফজলুর রহমান: এটার পরে আমি বলতে পারব। এবং জুলাই সনদ আমি পইড়া যেটা দেখছি এটা বাস্তবায়ন করার জন্য সংবিধান খুব বেশি করার দরকার আছে পরিবর্তন করার দরকার আছে সেটা আমি মনে করিনা। জুলাই সনদ আমার কাছে আছে। আমি প্রতিদিন জুলাই সনদ পড়ি আমি আমি সংবিধান পড়ি পার্লামেন্ট প্রসিডিউর পড়ি আরও বই পড়ি আমি দেখি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য যতগুলো আছে এটার জন্য সংবিধান খুব বেশি পরিবর্তন করতে হবে তা না। মানে কিছু কিছু জায়গা আছে যেখানে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে একটা উদাহরণ দেই যেমন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট মানে উচ্চ পরিষদ যদি করতে হয় এখানে একদম নিশ্চিতভাবে এখানে সংশোধন করার প্রয়োজন হবে। আরও দুই একটা তিনটা জায়গা আছে।
রাশেদ আহমেদ: উচ্চ কক্ষ কি আপনারা করার পক্ষে?
ফজলুর রহমান: আমার দল তো এটার মধ্যে দস্তখত করছে। সেই সময় আমি এটার বিরুদ্ধে ছিলাম । আমি তো বলছি এটার বিরুদ্ধে কিন্তু দল যেহেতু করছে আমি এটা কিছু বলব না। আমি মানসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে ব্যক্তিগতভাবে এখনও এটার বিরুদ্ধে। এখানে আন্দোলনের দুইটা রূপ একটা রূপ হলো গণতান্ত্রিক রূপ। গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এই আন্দোলন ৬২ সনে হইছে ৫২ সনে হইছে ৬৪ সনে হইছে ৬৬ সনে হইছে ৬৯ সনে হইছে ৭০ সনে হইছে ৯০ সনে হইছে। একই আন্দোলন ২০২৪ সনে হইছে জুলাই আন্দোলন যেটাকে বলা হয়। ওইগুলাতে মৃত্যু কিছু হত্যা কম হইছে, এটাতে হত্যা বেশি হইছে। ওইটাতে নিষ্ঠুরতা কিছু কম হয় নাই কিন্তু। এরশাদ কিন্তু ৯ বছরের নিষ্ঠুরতা কম করে নাই। আমি ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট ছিলাম। আমি যেদিন ৮৩র ১৪ই ফেব্রুয়ারি শিক্ষা ভবন অভিমুখে যাত্রা করি মিছিল নিয়ে, সেদিন মার্শাল ল ছিল। এরশাদ ছিল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আব্দুর রহমান ছিল নাইন ডিভিশনের চিফ যেভাবে গুলি চালাইছিল নয় জন তো রাজপথেই হত্যা হইছিল। ঐখানে ঐ তো হাইকোর্টের সামনে শহীদুল্লাহ হলের সামনে। হত্যা হয় নাই কোথায় এরশাদের আমলে তো হত্যাকাণ্ড কম হয় নাই। হত্যাকাণ্ড আরও হইছে আমি বলতে পারি বলব না এই কারণে যে কিছু কিছু নিজের উপরেও পড়বে। হত্যাকাণ্ড সবসময়ই হইছে আন্দোলনে। এখানে একটু বেশি হইছে কোথায় বেশি হইছে সেই জায়গাটাও কিন্তু মানুষ ধরতে পারছে সেটা হলো হত্যাকাণ্ড দুই পক্ষ থেকে হইছে না এক পক্ষ থেকে হইছে। এটা কিন্তু মানুষের মনে প্রশ্ন আছে এবং এটা প্রতিষ্ঠিত হবে যে হত্যাকাণ্ডটা কিন্তু দুই পক্ষ থেকেই হইছে। এটা তো পরিষ্কার ২৪ এ পুলিশ হত্যাকাণ্ড তো আমরা আন্দোলন যারা করছি তারা এটা ঘটিয়েছে।
রাশেদ আহমেদ: পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিচার কি হবে?
ফজলুর রহমান: হিস্টোরি রিপিটস ইটসেলফ। ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হয়। এবং ইতিহাস কোনোদিন সত্যকে পায়ে মাড়িয়ে যায় না। এই ইনডেমনিটি কিন্তু অনেক আগেও দেওয়া হইছিল অনেকবার অনেক ব্যাপারে। কিন্তু এগুলো কিন্তু থাকে নাই যাদেরকে ইনডেমনিটি দেওয়া হইছিল তারা কিন্তু ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলছিল। আজকে ইনডেমনিটি যারা দিচ্ছে তারা ঐ আগের ইতিহাসটা মনে করলে ভালো হয় তানাহলে ভবিষ্যৎ ইতিহাসে তারা কলঙ্কিত হবে। পুলিশ হত্যার বিচার হবে না কেন? হ্যাঁ পুলিশ যদি সামনাসামনি গোলাগুলি করে মারা গিয়ে থাকে সেটা একরকম হবে। কিন্তু ৫ই আগস্টের পরে আমি তো মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলাম বাংলাদেশের মানুষকে সাক্ষী রেখে বলছি আমি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলাম ১৬ই ডিসেম্বরের পরে শত শত রাজাকার আল-বদর আমার কাছে সারেন্ডার করছে আমি তো একজন লোককে হত্যা করি নাই কারণ ১৬ই ডিসেম্বরের পরে তো কোনো যুদ্ধ ছিল না। যুদ্ধ না থাকলে তো আপনি কাউকে যে আপনার কাছে সারেন্ডার করতেছে তাকে তো হত্যা করতে পারেন না। এখানে আমি যদি বাদও দেই ৫ই আগস্টের আগের ব্যাপারটা ৫ই আগস্টের তার পরে যে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে থানা লুট হইছে পুলিশ হত্যা হইছে আগুন দেওয়া হইছে নারীর পেটের বাচ্চাকে হত্যা করা হইছে এটাও আপনি মাপ দিয়ে দিবেন? কই আমি তো ১৬ই ডিসেম্বরের পরে কাউকে হত্যা করি নাই। এমনকি আমি একটা উদাহরণ দেই কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তমের মতো লোক পল্টন ময়দানে ১৭ই ডিসেম্বর তিনজন লোককে হত্যা করেছিল যে কারণে আজ পর্যন্ত এই ব্যাপারে সারা পৃথিবীতে মানবাধিকার সংস্থা থেকে তাকে কথা শুনতে হচ্ছে তাকে কিন্তু মাফ করে নাই। তে ৫ই আগস্টের পরে শত শত পুলিশ হত্যা করলেন ঘর বাড়ি পুড়ায় দিলে থানা পুড়ায় দিলেন এটাও মাফ করে দিবেন? আমি ৫ই আগস্টের আগেরটা ধরতেছি না। আমি ৫ই আগস্টের আগেরটা এইভাবে ধরতেছি পুলিশ যদি অন্যায় করে থাকে মারা গেছে ঠিক আছে পুলিশ মারা গেছে কিন্তু আপনি তো রাষ্ট্র। শুধু পুলিশ মারা গেছে আপনি খুব খুশি হইছেন এটা হতে পারে না আপনি পুলিশের বাড়িতে যান। সে তো আপনার সরকারের চাকরি করত আপনার তার সন্তান আছে মা বাপ আছে তাদেরকে বলেন তোমার ছেলে মারা গেছে আমরা দুঃখিত তোমার জন্য আমরা এটুকু করলাম। এটাকে আল-বদর রাজাকারের হত্যার সঙ্গে তুলনা করলে তো চলবে না। ধরেন যে পুলিশ গুলি করছে গুলি কার অর্ডারে করছে? পুলিশের অর্ডারে করছে? পুলিশ কি নিজের অর্ডারে গুলি করছে? নাকি একজন ম্যাজিস্ট্রেট অর্ডার দিছে নাকি তাকে নির্দেশ দিছে উপর থেকে শেখ হাসিনা বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? তাইলে সে তো অন্যের অর্ডারে অফিসিয়ালি সে অর্ডার পাইয়া সে গুলিটা করতেছে সে কতটুকু দায়ী এটা তো প্রতিষ্ঠিত হবে বিচার করলে পরে। সেই পুলিশটা মারা গেছে বুঝলাম সে অন্যায় করছে তার ছেলে মেয়ে সন্তান পিতা মাতা আছে আপনি তার কাছে তো গেলেন না কোনোদিন যে আপনার সন্তান মারা গেছে ঠিক আছে আমরা এই সন্তানদের ব্যাপারে কিছু দেখছি এটাও কইলেন না, ও কুত্তা মারা গেছে নাকি? এটা ঠিক না। পুলিশ ৫ই আগস্টের আগে হত্যার একরকম হবে আর ৫ই আগস্টের পরে যদি কেউ পুলিশ হত্যা করে থাকে থানা পুড়ায় থাকে এবং বলে থাকে আমরা পুলিশকে হত্যা করছি আমরা থানা পুড়াইছি হ্যাঁ আমরা পুলিশের বাড়িঘর পুড়ায়ে দিছি ৫ই আগস্টের পরে যদি কেউ করে থাকে সেটা মাপ দেওয়ার ক্ষমতা কিন্তু কারও নাই। দিতে পারে এখন শক্তি থাকলে কিন্তু পরবর্তী সময়ে যার শক্তি হবে এই রিয়েল শক্তি আইনের শক্তি কিন্তু তখন দাঁড়াবে ওদেরকে কেউ ক্ষমা করবে না।
রাশেদ আহমেদ: ৫ই আগস্টের পরে কিছুদিন যেতে না যেতেই আপনি সোচ্চার হলেন ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে। ঐ সময়টা আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময় আপনার এবং এই সোচ্চার হওয়ার কারণে আপনাকে নানাভাবে নানা নামে অভিহিত করা হলো। পাগলও বলা হয়েছে।
ফজলুর রহমান: আমাকে যারা পাগল বলে এরা আমাকে যুক্তি দিয়া কাউন্টার করতে পারে না। যে কারণে মনের দুঃখে, মনের রাগে পাগল বলে, বকাবকি করে। বকাবকি তো আর কোনো সমাধান না। আমার বিরুদ্ধে একটা যুক্তি দেও যে তুমি এই কথাটা কইছো কথাটা সঠিক না বা এই কথাটার বিরুদ্ধে কথা হলো এইটা।
৫ই আগস্টের আন্দোলনের বা আগস্ট আন্দোলনের জুলাই আন্দোলনের দুইটা রূপ। একটা হলো গণতান্ত্রিক রূপ। জমিতে বিএনপি'র চারা ফালাইছে বিএনপি রোয়া লাগাইছে বিএনপি পানি দিছে বিএনপি ধান ফলাইছে। সর্বশেষ কাইটা দেওয়ার সময় এই ছেলেরা আসছে। এরা প্রধান ভূমিকা নিছে কাইটা দেওয়ার সেখানে আমরাও ছিলাম। আমি তো চ্যালেঞ্জ করছি আমার একার যে অবদান আছে এদের ৫০ জনেরও এই অবদান নাই এই আন্দোলনে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে। আমি আমার স্ত্রীকে বলছি আমি তুমি বিধবা হইবা তোমার সন্তানরা এতিম হবে। আমার একটা ছেলে ব্যারিস্টার আর একটা ছেলে ইঞ্জিনিয়ার সে এআই করে অনেক দিন আগে থেকে ওরা ৫ দিন গিয়ে রাত্রে বাড়িতে আসে নাই আন্দোলনে। আমরা আন্দোলন করি নাই? আমাদের কথার উপরে লাখ লাখ মানুষ ঘুরছে। হাসিনা পতনের ২৪ ঘণ্টা আগে আমি কইছি আগামীকাল শেখ হাসিনার পতন হবে ২৪ ঘণ্টার আগেই হবে। এগুলো বহুত কথা ২৮শে অক্টোবর যখন নয়া পল্টনের ময়দান থেকে লাখ লাখ মানুষের মিছিলটার উপরে আক্রমণ করল হাসিনা বাহিনী। এবং যখন এটা একটা গাজা উপত্যকা হয়ে গেল কারবালা হয়ে গেল সব যখন দৌড়ায়ে চলে গেল কেউ জেলখানা কেউ পালাইলো। আমি বললাম আমি পালাব না। আমাকে হয় ধইরা নিয়া মাইরা ফেলবে অথবা জেলখানায় দিবে তানাহলে আমি আমার কথা বলে যাব আমার কপাল ভালো আমি কথা বলতে পারছি। কিন্তু জীবনের রিস্ক নিয়ে কথা বলছি। শেখ হাসিনা সরকার ফ্যাসিস্ট ছিল বলে ঠিক আছে ফ্যাসিস্ট আমাকে কিন্তু ঐভাবে মাইরা ফেলে নাই। কিন্তু আমি যখন ইউনূস জামায়াত বিরোধী কথা বলছি আমার বাসার সামনে আইসা মব করে আমার নামে যে অবস্থা করছে আমি কোথাও আজকে দুই বছর দেড় বছর যাবত কিন্তু পার্কে হাঁটতে যাই না। আমি কিন্তু ১৫ বছর পার্কে হাঁটতে যাইতাম। কারণ এমন ধরনের থ্রেট হইছে যে এখন আমাকে সিকিউরিটি নিয়ে ঘর থেকে বের হইতে হয়। এবং আমি পুলিশকে এবং সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ দিব তারা একটা বিশেষ লক্ষ্য আমার প্রতি রাখছে বাসার প্রতি। আমার বাসায় যেদিন মব হইছে যেখানে আমার বাসার উপরে আইসা আগুন লাগায়ে দিবে আমি বাসায় ছিলাম ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ আইছে ১৫ মিনিটের মধ্যে মিলিটারি আইছে নাইলে তো আমি বাঁচতাম না ঐদিন। এরা তো মব এই মব করে করে এরা কী কী না করছে। কত মানুষকে অত্যাচার করছে কত জ্ঞানীগুণী মানুষকে জেলে নিছে কত মুক্তিযোদ্ধাকে শুধু মুক্তিযুদ্ধ কথাটা মুখে বলার জন্য ধইরা পিটাইছে এরা। এই মব করে করে রাজাকারের বাচ্চারা আপনি কী বলতে চান? ইউনূস সরকার ১৮ মাসে যা করছে এখন পর্যন্ত অনেকেই কারাগারে আছে যাদের কোনো দোষ নাই। নির্দোষ। তারা একটা বলছে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছে। মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা কি মহাপাপ? কাজেই বাংলাদেশ যতদিন থাকবে মুক্তিযুদ্ধ ততদিন থাকবে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের পেট চিরেই বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের সন্তানের নাম হলো বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের মা তার পেট চিরেই বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ যতদিন থাকবে মুক্তিযুদ্ধ ততদিন থাকবে তানাহলে বাংলাদেশ শেষ করে দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে তাইলে নাম বাংলাদেশ তাইলে এটা বাংলাদেশস্তান রাখো পাকিস্তান রাখো আফগানিস্তান রাখো এটা। খুব ক্লিয়ারলি বলতে হবে খুব কঠিন কথাগুলো এখন আবার নতুন করে শুরু হয়েছে কেন শুরু হয়েছে জানি না সরকার হলো বিএনপির নেতা হলো তারেক রহমান যে তারেক রহমান একদম সঠিকভাবে স্টার্টিংটা দিছে। সরকারের যে পথ চলার যে স্টার্টিং প্রথম স্টার্টিংটা তারেক রহমান সঠিকভাবে দিছে। যেভাবে মানুষের প্রতি হাতজোড় করে চলছে তারেক রহমান এবং তার দল বিএনপি এই ফ্যামিলি কার্ড কৃষি কাজ গাছ লাগানো থেকে ধরে যত কিছু আছে সব কিছু যত দ্রুততার সঙ্গে করতেছে ১০ হাজার টাকা কৃষি লোন মওকুফ করার থেকে ধরে এখন পর্যন্ত আপনি শুনতে পারবেন না যে বাংলাদেশে বিএনপির কোনো লোক আগে শুনছেন কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পরে এখন পর্যন্ত তেমনভাবে শোনা যায় নাই যে বিএনপির কোনো লোক চাঁদা চাইছে। চাইলে পরে তার বাপের নাম ভুলায়ে দিছে এক দুইটা হয়তোবা হইতে পারে। এখন বরং আমরা জামায়াতের অত্যাচারের মধ্যে আছি।
রাশেদ আহমেদ: তাহলে জুলাই সনদের কী পরিণতি দাঁড়াবে? জুলাই সনদ এবং সংবিধান সংস্কারের মানে এটার সমাধান কোথায়? নাকি সংসদে পাঁচ বছরেই ঝগড়া ঝাটি চলবে?
ফজলুর রহমান: জুলাই সনদের পরিণতি দাঁড়াবে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পার্লামেন্টে যিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। উনি কিন্তু বলছে ইউনূস সরকার আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে কথাটা ঠিক না বেঠিক? সেই প্রতারণামূলক যে কাজ সেই প্রতারণামূলক কাজের যে পরিণতি হয় সেটা হইতে পারে। আমি এর বেশি আর বলতে পারব না। দেখেন না কী হয়।
রাশেদ আহমেদ: আর ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আপনি অনেক কিছুই বললেন যে সবচেয়ে খারাপ শাসন ছিল আপনার ভাষায় যেটি। তাহলে তার বিরুদ্ধে কি আপনার দল ব্যবস্থা নেবে অথবা আপনি ব্যক্তিগতভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থায় যেতে পারেন কি না যাবেন কি না?
ফজলুর রহমান: আমি ব্যক্তিগতভাবে আইনি ব্যবস্থায় যাব না কারণ আমি একটা দল করি। যদি কেউ যায় যাবে। আমি যাব না। কিন্তু আমি চাই কেউ যাক। আমি একটা দল করি আমি দলের সিদ্ধান্ত মানি। একটা রাষ্ট্রে ক্ষমতায় যাইতে হইলে তৃতীয় বিশ্বের দেশে অনেক বুঝাবোঝ করতে হয় প্লাস মাইনাস করতে হয়। দল কি কারণে ইউনূস সাহেবের সাথে কি করছে সেটা দলের যে নেতৃত্ব না সেটা তারা বুঝবে। আমি নীতিগত কথাগুলো বলতেছি। আমি ক্ষমতাগত কথাগুলো বলছি না। ক্ষমতা পাইতে হইলে অনেক জায়গাতে এডজাস্টমেন্ট, কম্প্রোমাইজ করতে হয়। আবার ক্ষমতা চান না শুধু সত্য কথা বলতে হইলে ফজলুর রহমান মতো আপনাকে স্ট্রাগল এন্ড ফাইট করতে হবে। আর ক্ষমতা চান তাইলে এডজাস্টমেন্ট এন্ড কম্প্রোমাইজ করতে হবে। আর আপনি ক্ষমতা চাই না শুধু সত্য কথা বলব তাইলে সারা জীবন কবর পর্যন্ত স্ট্রাগল এন্ড ফাইট করতে হবে।
রাশেদ আহমেদ: মানে আপনি কি মনে করেন আপনি সেই কাজটি করছেন?
ফজলুর রহমান: আমি সত্য কথা বলার জন্য বোধহয় সেই দিকেই যাচ্ছি।
রাশেদ আহমেদ: নির্বাচনের আগে তিনদিন আগে একটি চুক্তি করা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। মানে আপনারা বলছেন ঐ চুক্তি নিয়ে মাঝে বিভিন্ন জায়গায় ঐটার সমালোচনা হচ্ছে আপনার মূল্যায়ন কী?
ফজলুর রহমান: আমিও তাই মনে করি।
রাশেদ আহমেদ: কেন মনে করেন?
ফজলুর রহমান: এই কারণে মনে করি ইউনূস তো হইলো যে দেশটির কথা বললেন তাদের গুটি হিসেবে এখানে আসছে। কারণ আমাদের যত কাম কাজ করে গেছে এই চুক্তি টুক্তি যাই বলেন এই যে সনদ টনদ লেখা টেখা বলেন সংবিধান পরিবর্তন এই যে মিটিং টিং সব তো মার্কিনইরা করছে। আমি তো তাদেরকে বলতাম আধুনিক যুগের রবার্ট ক্লাইভ। এরা কেউ তো বাংলাদেশের নাগরিক না, এরা আইসা আমার দেশ ঠিক করে দিয়া গেছে। এদেরকে পাইলে মানুষ কিন্তু জুতা পিটা করবে এখন। আমি কথাটা বললাম দি টাইম উইল কাম এন্ড দি টাইম উইল আনসার ইন টাইম। এই কথাটা মনে রাইখেন বিদেশীরা আইসা আমার দেশের সংবিধান পরিবর্তন করে যাবে আমার দেশের সবকিছু করে যাবে আমার দেশের চুক্তি করে যাবে। আমি সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাইতে পারব না বছরের পর বছর। আমার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়া দিবে আমার মানে বিভিন্ন চুক্তি করে আমার দেশের অংশ দিয়া দিবে। আমি তো মনে করি এরাই আমেরিকার লোক, ঐ আমেরিকা এখানে বসাইছে।
রাশেদ আহমেদ: কবে টের পেলেন এটা?
ফজলুর রহমান: আমি প্রথম দিনই এটা টের পাইছি আমারে তো জিজ্ঞাসা করে লাভ নাই। কিন্তু ইউনূস সাহেব সম্পর্কে আমার ধারণা একটু ভিন্ন ছিল। আমার মনে হইছিল উনি নোবেল লরিয়েট। আমি উনাকে এত বেশি বলছি যে উনি ১০টা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে উঁচু মানুষ উনি এই মানুষ ঐ মানুষ আমি বলছি আল্লায় মাফ করুক। কিন্তু পরবর্তী সময় দেখলাম উনি টোটাল ষড়যন্ত্রে শুধু অংশ না টোটাল ষড়যন্ত্রের উনি হইলেন লিডার। হিজ দি শেল্টার মাস্টার এই কথাটা আমি বলছি এই কথাটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে অফ অল দি এভিল ড্যান্স অফ বাংলাদেশ। এভিল ডিডস যা আছে সব কিছুর উনি হইলেন মাস্টার। শেল্টার মাস্টার। কয় বুঝে নাই বলছেন আমি বুঝি নাই আমার বয়স ৮৫ বছর অথবা বুঝে শুনেই করছে এই বাচ্চা ছেলেগুলারে বলছে ২৩ বছরের ছেলেরে বলছে প্রধানমন্ত্রী হইবা। এইসব ছেলেপেলেরা যেভাবে কথা বলে এই জেনারেশন কোত্থেকে আসল আমি তো জানি না। এরা কবে পলিটিক্স করছে কবে? আমি তো ফজলুর রহমান ৬২, ৬৪, ৬৬, ৬৯, ৭০, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ৮৩র আন্দোলনের আমি প্রধান নেতা এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের যেটা ১০ দফার আন্দোলন যেটা। পরে যেটা হাবিব আমানরা করছে ৯০ সনে। কই আমরা তো কারও সঙ্গে কোনোদিন বেয়াদবি বেতমিজি করে অথবা আমাকে ক্ষমতা দেও আমি মন্ত্রী হব আমি তো কোনোদিন এই যে এই বাসাটার মধ্যে থাকি আপনি দেখেন বসার জায়গা নাই। এই বাসার মধ্যে থাকি এটা ভাড়া বাসায় থাকি আমি। কই আমি তো বলি নাই আমার শত কোটি টাকা লাগবে আমার প্রাইভেট সেক্রেটারির তিন মাসে ৩০০ কোটি টাকা হবে বলি নাই তো। কোন ছাত্রনেতায় বলছে এদের চেয়ে ছাত্রনেতা এরা কিসের ছাত্রনেতা। যারা এই শাহবাগে বইসা বলে যে যারা গণভোটের বিরুদ্ধে কথা বলবে তাদের চামড়া রাখব না পিটাইয়া ঐ করে দিব। এই এখন বলতেছে ছেলেপেলেরা। এটা কি সালাহউদ্দিন সাহেবের মতো লোকরে তাদের বাপের বয়সী লোকরে বলতে পারে তারেক রহমানকে বলতে পারে এরা নাকি জুতা পিটা করবে এদের মাইরেই ফেলব আমাদের গণভোটের ব্যাপারে কিছু বললে পরেই এরা কারা? এরা বাংলাদেশে কয় পার্সেন্ট ভোট পাইছে যে ভোটটা ছয়টা ছেলেরে তো তাদেরকে ঐ যে গ্রেস দিয়া পাস করায়ে আনা হইছে। আমি তো বললাম ছয়টা ছেলেকে গ্রেস দিয়া পাস করায়ে আনা হইছে। এটা আপনি জানেন এখানে ঐ যে কাইয়ুম সাহেবের বিরুদ্ধে যে ছেলেটি দাঁড়াইছিল তার নাম কী এনসিপির ঐ যে আহ্বায়ক।
রাশেদ আহমেদ: নাহিদ ইসলাম।
ফজলুর রহমান: নাহিদ ইসলাম ও তো কাইয়ুম সাহেবের কাইয়ুমের বিরুদ্ধে আবদুল মানে ঐ যে বাড্ডাতে কাইয়ুম সাবরে জিজ্ঞাসা করবেন বা অন্য বাড্ডাতে গিয়া দেখবেন কয়টা সেন্টারে সে পাশ করছে যান। আমি অন্যটা কইলাম না ঐ মিরপুর ১৫ তে যান ঢাকা ১৫ গিয়া দেখেন এই যে মহামানব আমি বলছিলাম এই মহামানব ও নাকি ওলি আল্লাহ বাংলাদেশে আরে ওনারে আমি যা চিনি। আমি সিলেটের হাজার হাজার মানুষ আইনা খাড়া করতে পারব ওনার ব্যাপারে কী বলে শুনেন আপনারা আপনারা কিছুই তো শুনতে চান না। আপনারা সাংবাদিকরা খালি আসেন আমার কথা অননিবার জন্য। আপনি সিলেটে যান না কেন এক মাস থাইকা দেখেন এই ওলি আল্লাহ সম্পর্কে মানুষ কী বলে। সিলেটের হোটেল ব্যবসা সিলেটের হসপিটাল ব্যবসা সিলেটের ঐ যে হাউজিং ব্যবসা সম্পর্কে মানুষ কী বলে গিয়া শুনেন। আমি বলছিলাম তো আপনার বাড়ি তো সিলেট কুলাউড়া কোত্থেকে দাঁড়াইবেন সিলেটের ১৯টা সিট আমি দাঁড়ামু। যদি আপনি আমাকে ফেল করতে করাতে পারেন জীবনে পলিটিক্স করব না। উনি কেন সিলেট থেকে দাঁড়ায় না উনি আইসা কেন বিহারীদের এলাকাতে দাঁড়ায়। কয়টা ভোট পাইব বুঝা যাবে। এই ভোটটা তো ইউনূস সাহেব সরকার ছিল বইলা কিছু কিছু সিট আমি সব সিট বলছি না কিছু কিছু সিটে বেশ কিছু সিটে এখানে প্রশ্ন উত্থাপন হবেই ভবিষ্যতে।
রাশেদ আহমেদ: ওনারের অনেকে তো আবার মুক্তিযোদ্ধা রক্ত আছে গায়ে এরকম তো দাবি করেন।
ফজলুর রহমান: উনার গায়ে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত আছে হ্যাঁ উনি বলছে উনার পরিবারে শহীদ হইছে মুক্তিযুদ্ধে। তাইলে উনি ডাবল অপরাধ করতেছে। একটা হলো মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের লোক জামাত করে অপরাধ করতেছে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের লোক তো জামাত করতেছে জামাত করে অপরাধ করতেছে আর একটা হইলো শহীদ তার পরিবার আছে সে ডাবল অপরাধ করতেছে জামাত করে। আমার কথাটা খুব বলে আবারো বলছি আমি তার সে বলতেছে উনি বলতেছেন ওনার পরিবার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক। ঠিক আছে ওনাকে আমি সম্মান করলাম তো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক যদি জামাত করে থাকে তাইলে এটা একটা অপরাধ রাজনৈতিক অপরাধ। আর তার পরিবারে শহীদ হইছে শহীদটা করছে কারা পাকিস্তানীরা বা জামাত রাজাকার আল-বদররা তাইলে ঐ দলটা যে তার পরিবারের লোককে শহীদ করছে বাপকে বা চাচাকে সেই দলটা করে জঘন্য অপরাধ করতেছে। সে ডাবল অপরাধ করতেছে না? যার ভাই বা চাচা শহীদ হইছে সে জামাত করে কি করে? এই শহীদটা করছে কে জামাতের লোকজন আল-বদর রাজাকারের লোকজন পাকিস্তানীদেরকে যদি করে থাকে তো পাকিস্তানকে সহযোগিতা তাইলে সেই জামাতই করতেছে তাইলে তার পূর্বপুরুষের প্রতি সে বিশ্বাসঘাতকতা করতেছে। এটা কিন্তু ভালো করে প্রচার করবেন। উনি এটার উত্তর দিব আমি শুনতাম। পার্লামেন্টে উত্তর দেয় যাতে আমি বলছি। উনি বলছে উনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক। ঠিক আছে ওনাকে আমি সম্মান করলাম তো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক যদি জামাত করে থাকে তাইলে এটা একটা অপরাধ রাজনৈতিক অপরাধ। আর তার পরিবারে শহীদ হইছে তো শহীদটা করছে কারা পাকিস্তানীরা বা জামাত রাজাকার আল-বদররা তাইলে ঐ দলটা যে তার পরিবারের লোককে শহীদ করছে বাপকে বা চাচাকে সেই দলটা করে জঘন্য অপরাধ করতেছে। ডাবল অপরাধ করতেছে না?
রাশেদ আহমেদ: সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের যাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে তাদের শোক প্রস্তাব আনা হয়েছে আপনাদের দল থেকেই তো আনা হয়েছে সেটি।
ফজলুর রহমান: এটা আমি সংসদে বলব শুইন্যেন আমি যেদিন বক্তৃতা করি সেইদিন। এটা আপনারে এখন বলব না। আমি বলব সেইদিন।
রাশেদ আহমেদ: অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য।
ফজলুর রহমান: থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ। আমি আপনাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন