বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার আরিয়া ইউনিয়নের শাবরুল গ্রামে এখন আতঙ্কের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। দীর্ঘদিন ধরে চলা জলিল বাহিনীর সন্ত্রাস, বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও নারীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদে গ্রামবাসী এখন একাট্টা।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অপরাধীদের বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে স্থানীয় হিন্দু অধ্যুষিত পাড়ায় বাঁশঝাড়ের নিচেই গণ-আদালত বা উঠান বৈঠকের মতো গণজমায়েত করেছেন কয়েকশ বাসিন্দা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মানুষের মনে আস্থা ফেরাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে খোদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে ছুটে যান। উন্মুক্ত সেই সভায় জলিল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ নারী-পুরুষ হ্যান্ডমাইকে নিজেদের দুঃখ-দুর্দশা ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন।
শাবরুল গ্রামে প্রায় ৫০০-র বেশি হিন্দু পরিবারসহ কয়েক হাজার মানুষের বাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও হত্যা মামলার আসামি জলিল সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করছে। তার বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ এবার আর পিছু হটতে রাজি নয়।
ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশঝাড়ের নিচে অনুষ্ঠিত সেই প্রতিবাদ সভায় সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধের ডাক দেয়। পুলিশের উপস্থিতিতে সাধারণ গ্রামবাসীকে নির্ভয়ে নিজেদের অভিযোগ জানাতে দেখা যায়। ওসির আশ্বাসের পর গ্রামবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও প্রধান অভিযুক্ত জলিল গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বগুড়ার শাহজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল জানিয়েছেন, অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, "জলিল বাহিনীর প্রধান জলিলকে ধরতে সম্ভাব্য সব আস্তানায় মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালানো হয়েছে। সে পালিয়ে থাকলেও তার অন্যতম সহযোগী মিজান ও সাগরকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
পুলিশ জানায়, এই মামলায় এজাহারভুক্ত ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জন আসামি রয়েছে। রাজশাহী বিভাগের ডিআইজি অফিস থেকেও এই সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একসময় ভয়ে মুখ না খুললেও এখন গ্রামবাসী সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগে মানুষ সন্ত্রাসীদের ভয় পেত, এখন পুলিশি তৎপরতা ও জনতার ঐক্য দেখে সন্ত্রাসীরাই পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
শাহজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল আরও বলেন, "এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে যা যা প্রয়োজন আমরা তার সবটুকুই করব। জলিল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও হত্যা মামলার আসামি। তাকে অপরাধী হিসেবেই গণ্য করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।"
পুলিশি আশ্বাসের পর গ্রামবাসীর মুখে হাসি ফুটলেও জলিল বাহিনীর মূল হোতাকে অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ শাবরুলবাসী।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার আরিয়া ইউনিয়নের শাবরুল গ্রামে এখন আতঙ্কের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। দীর্ঘদিন ধরে চলা জলিল বাহিনীর সন্ত্রাস, বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও নারীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদে গ্রামবাসী এখন একাট্টা।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অপরাধীদের বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে স্থানীয় হিন্দু অধ্যুষিত পাড়ায় বাঁশঝাড়ের নিচেই গণ-আদালত বা উঠান বৈঠকের মতো গণজমায়েত করেছেন কয়েকশ বাসিন্দা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মানুষের মনে আস্থা ফেরাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে খোদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে ছুটে যান। উন্মুক্ত সেই সভায় জলিল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ নারী-পুরুষ হ্যান্ডমাইকে নিজেদের দুঃখ-দুর্দশা ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন।
শাবরুল গ্রামে প্রায় ৫০০-র বেশি হিন্দু পরিবারসহ কয়েক হাজার মানুষের বাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও হত্যা মামলার আসামি জলিল সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করছে। তার বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ এবার আর পিছু হটতে রাজি নয়।
ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশঝাড়ের নিচে অনুষ্ঠিত সেই প্রতিবাদ সভায় সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধের ডাক দেয়। পুলিশের উপস্থিতিতে সাধারণ গ্রামবাসীকে নির্ভয়ে নিজেদের অভিযোগ জানাতে দেখা যায়। ওসির আশ্বাসের পর গ্রামবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও প্রধান অভিযুক্ত জলিল গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বগুড়ার শাহজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল জানিয়েছেন, অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, "জলিল বাহিনীর প্রধান জলিলকে ধরতে সম্ভাব্য সব আস্তানায় মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালানো হয়েছে। সে পালিয়ে থাকলেও তার অন্যতম সহযোগী মিজান ও সাগরকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
পুলিশ জানায়, এই মামলায় এজাহারভুক্ত ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জন আসামি রয়েছে। রাজশাহী বিভাগের ডিআইজি অফিস থেকেও এই সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একসময় ভয়ে মুখ না খুললেও এখন গ্রামবাসী সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগে মানুষ সন্ত্রাসীদের ভয় পেত, এখন পুলিশি তৎপরতা ও জনতার ঐক্য দেখে সন্ত্রাসীরাই পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
শাহজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল আরও বলেন, "এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে যা যা প্রয়োজন আমরা তার সবটুকুই করব। জলিল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও হত্যা মামলার আসামি। তাকে অপরাধী হিসেবেই গণ্য করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।"
পুলিশি আশ্বাসের পর গ্রামবাসীর মুখে হাসি ফুটলেও জলিল বাহিনীর মূল হোতাকে অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ শাবরুলবাসী।

আপনার মতামত লিখুন