সংবাদ

জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান রাজনৈতিক লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে জনমনে সৃষ্ট অস্পষ্টতা নিরসনে দলটির অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—জামায়াত কি দেশের প্রচলিত সাংবিধানিক আইন মেনে শাসন ক্ষমতায় যেতে চায়, নাকি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা নিয়ে রাজনীতি করছে?

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় নেতা স্বর্গীয় সুনীল গুপ্তের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে গতকালের আলোচনার সূত্র ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “গতকালও পার্লামেন্টে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা শরিয়াহ কায়েমের কথা বলেছেন। অথচ গত ১৪ জানুয়ারি দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না।”

গণমাধ্যমের মাধ্যমে জামায়াতের কাছে প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, “আমি জানতে চাই কোনটি তাদের প্রকৃত অবস্থান? তারা কি প্রচলিত সাংবিধানিক আইন মেনে চলার চেষ্টা করছেন নাকি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদীয় তৎপরতা চালাচ্ছেন? এ বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অবস্থান জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।”

জামায়াতের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জন্মলগ্ন থেকেই দলটি অনেক পরিবর্তন এনেছে। পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা থেকে শুরু করে বর্তমানে অমুসলিম প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া—এসবই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এবারের নির্বাচনে জামায়াত থেকে দুইজন অমুসলিমকে মনোনয়ন দেওয়াকে তিনি ‘শুভ লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্যে একটি বহুত্ববাদী ও বৈচিত্র্যময় রাজনীতির চেতনা উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন। সেই কারণেই সুনীল গুপ্তের মতো বিজ্ঞ নেতারা এই দলের অংশ হতে পেরেছিলেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি ধর্মের মূল নির্যাস একই এবং সেই মূল্যবোধকে ঐক্যবদ্ধভাবে তুলে ধরা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

সুনীল গুপ্ত স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাবু বিজন কান্তি সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নজমুল হক নান্নুসহ আরও অনেকে। বক্তারা সাবেক মন্ত্রী সুনীল গুপ্তের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করেন।

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান রাজনৈতিক লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে জনমনে সৃষ্ট অস্পষ্টতা নিরসনে দলটির অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—জামায়াত কি দেশের প্রচলিত সাংবিধানিক আইন মেনে শাসন ক্ষমতায় যেতে চায়, নাকি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা নিয়ে রাজনীতি করছে?

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় নেতা স্বর্গীয় সুনীল গুপ্তের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে গতকালের আলোচনার সূত্র ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “গতকালও পার্লামেন্টে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা শরিয়াহ কায়েমের কথা বলেছেন। অথচ গত ১৪ জানুয়ারি দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না।”

গণমাধ্যমের মাধ্যমে জামায়াতের কাছে প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, “আমি জানতে চাই কোনটি তাদের প্রকৃত অবস্থান? তারা কি প্রচলিত সাংবিধানিক আইন মেনে চলার চেষ্টা করছেন নাকি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদীয় তৎপরতা চালাচ্ছেন? এ বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অবস্থান জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।”

জামায়াতের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জন্মলগ্ন থেকেই দলটি অনেক পরিবর্তন এনেছে। পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা থেকে শুরু করে বর্তমানে অমুসলিম প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া—এসবই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এবারের নির্বাচনে জামায়াত থেকে দুইজন অমুসলিমকে মনোনয়ন দেওয়াকে তিনি ‘শুভ লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্যে একটি বহুত্ববাদী ও বৈচিত্র্যময় রাজনীতির চেতনা উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন। সেই কারণেই সুনীল গুপ্তের মতো বিজ্ঞ নেতারা এই দলের অংশ হতে পেরেছিলেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি ধর্মের মূল নির্যাস একই এবং সেই মূল্যবোধকে ঐক্যবদ্ধভাবে তুলে ধরা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

সুনীল গুপ্ত স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাবু বিজন কান্তি সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নজমুল হক নান্নুসহ আরও অনেকে। বক্তারা সাবেক মন্ত্রী সুনীল গুপ্তের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করেন।

 

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত