থাইল্যান্ডের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা আগামী মাসে আগাম মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, আগামী ১১ মে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।
ব্যাংকক থেকে এএফপি জানায়, ৭৬ বছর বয়সী এই নেতার বয়স এবং
সাজার মেয়াদ এক বছরের কম বাকি থাকায় তাকে আগাম মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে
মুক্তি পেলেও প্রবেশন মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইস পরাসহ
সব শর্ত মেনে চলতে হবে।
দুই দশক ধরে থাকসিন সিনাওয়াত্রার পরিবার থাইল্যান্ডের সেনাসমর্থিত
ও রাজতন্ত্রপন্থি অভিজাত গোষ্ঠীর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত। তার দল ‘পেউ থাই
পার্টি’ থাইল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সফল রাজনৈতিক দল। এই পরিবার থেকে এ পর্যন্ত চারজন
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, যারা মূলত দেশটির গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যাপক সমর্থন
পেয়ে আসছেন।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পেউ থাই তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করে তৃতীয়
স্থানে নেমে যায়। বর্তমানে রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন
জোট সরকারে পেউ থাই অংশগ্রহণ করলেও থাকসিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
উল্লেখ্য, থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াত বর্তমান মন্ত্রিসভায় উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর
দায়িত্ব পালন করছেন।
থাকসিন ২০০১ ও ২০০৫ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত
হয়েছিলেন। ২০০৬ সালে এক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ
১৫ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন। ২০২৩ সালের আগস্টে দেশে ফেরার পর দুর্নীতি ও ক্ষমতার
অপব্যবহারের দায়ে তাকে প্রথমে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কারাগারে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তাকে হাসপাতালের
একটি ব্যক্তিগত কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে তার সাজা কমিয়ে
এক বছর করা হয়। তবে গত সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, হাসপাতালে কাটানো সময়
সাজা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এরপর তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
কারা বিভাগ জানিয়েছে, বয়স্ক বন্দিদের জন্য বিশেষ আগাম মুক্তি
কর্মসূচির আওতায় বুধবার ৮৫০ জনের বেশি বন্দির মুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে
থাকসিন সিনাওয়াত্রাও রয়েছেন। আগামী ১১ মে তিনি বন্দিজীবনের অবসান ঘটিয়ে ঘরে ফিরবেন।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
থাইল্যান্ডের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা আগামী মাসে আগাম মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, আগামী ১১ মে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।
ব্যাংকক থেকে এএফপি জানায়, ৭৬ বছর বয়সী এই নেতার বয়স এবং
সাজার মেয়াদ এক বছরের কম বাকি থাকায় তাকে আগাম মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে
মুক্তি পেলেও প্রবেশন মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইস পরাসহ
সব শর্ত মেনে চলতে হবে।
দুই দশক ধরে থাকসিন সিনাওয়াত্রার পরিবার থাইল্যান্ডের সেনাসমর্থিত
ও রাজতন্ত্রপন্থি অভিজাত গোষ্ঠীর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত। তার দল ‘পেউ থাই
পার্টি’ থাইল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সফল রাজনৈতিক দল। এই পরিবার থেকে এ পর্যন্ত চারজন
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, যারা মূলত দেশটির গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যাপক সমর্থন
পেয়ে আসছেন।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পেউ থাই তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করে তৃতীয়
স্থানে নেমে যায়। বর্তমানে রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন
জোট সরকারে পেউ থাই অংশগ্রহণ করলেও থাকসিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
উল্লেখ্য, থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াত বর্তমান মন্ত্রিসভায় উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর
দায়িত্ব পালন করছেন।
থাকসিন ২০০১ ও ২০০৫ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত
হয়েছিলেন। ২০০৬ সালে এক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ
১৫ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন। ২০২৩ সালের আগস্টে দেশে ফেরার পর দুর্নীতি ও ক্ষমতার
অপব্যবহারের দায়ে তাকে প্রথমে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কারাগারে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তাকে হাসপাতালের
একটি ব্যক্তিগত কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে তার সাজা কমিয়ে
এক বছর করা হয়। তবে গত সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, হাসপাতালে কাটানো সময়
সাজা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এরপর তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
কারা বিভাগ জানিয়েছে, বয়স্ক বন্দিদের জন্য বিশেষ আগাম মুক্তি
কর্মসূচির আওতায় বুধবার ৮৫০ জনের বেশি বন্দির মুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে
থাকসিন সিনাওয়াত্রাও রয়েছেন। আগামী ১১ মে তিনি বন্দিজীবনের অবসান ঘটিয়ে ঘরে ফিরবেন।

আপনার মতামত লিখুন