সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে কে? মোদী না দিদি, জানা যাবে সোমবার


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ৪ মে ২০২৬, ১২:১৯ এএম

পশ্চিমবঙ্গে কে? মোদী না দিদি, জানা যাবে সোমবার

রাত পোহালেই শুরু হবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক মুহূর্ত — ভোট গণনা। তারপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে বাংলাদেশে লাগোয়া ভারতের এই রাজ্যের ক্ষমতার চাবিকাঠি কার হাতে উঠতে চলেছে — পরিবর্তনের ডাক নিয়ে এগিয়ে আসা নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপির, না কি আবারও নিজের শক্ত জমি ধরে রাখতে সক্ষম হবেন মমতা ব্যানার্জী। 

টান টান উত্তেজনার পর এখন গোটা রাজ্য দাঁড়িয়ে এক চূড়ান্ত মুহূর্তের সামনে, যেখানে প্রতিটি ভোট, প্রতিটি রাউন্ডের গণনা নির্ধারণ করতে পারে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ। সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে গণনার প্রক্রিয়া — প্রথমে পোস্টাল ব্যালট, যা অনেক সময়েই প্রাথমিক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। তারপর একে একে খুলবে ইভিএম। আর প্রতিটি রাউন্ডের ফলাফল বাড়াবে উত্তেজনার পারদ।

কিন্তু এই লড়াই শুধুমাত্র সংখ্যার লড়াই নয়, এটি একেবারে স্নায়ুযুদ্ধ — গণনাকেন্দ্রের ভেতরে এজেন্টদের সতর্ক নজরদারি যেমন থাকবে, তেমনি বাইরে হাজার হাজার কর্মীর উপস্থিতিও তৈরি করবে এক চাপা উত্তেজনার পরিবেশ। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। 

তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সংগঠন এবং নেতৃত্বের উপর ভরসা রেখে এগোচ্ছে, যেখানে মমতা ব্যানার্জীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বিশেষ করে মহিলা ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে এখনো একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। দলের ভিতরে স্পষ্ট বার্তা — শেষ পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, একটি ভোটও যেন হাতছাড়া না হয়। 

আর বিজেপি সম্পূর্ণ আলাদা কৌশলে মাঠে নেমেছে। তাদের মূল ভরসা দীর্ঘদিনের শাসনের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অসন্তোষ, অর্থাৎ অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর। আর সেই সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর জাতীয় স্তরের জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে তারা রাজ্যে পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়েছে। তারা নির্ভর এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরী করা কেন্দ্রীয় সরকার নির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর।

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হল এর অনিশ্চয়তা — শহরে পরিবর্তনের সুর যতটা স্পষ্ট, গ্রামাঞ্চলেও কি সেই একই হাওয়া বইছে, সংখ্যালঘু ভোট কতটা একপাক্ষিকভাবে পড়েছে, নারী ভোটাররা কি আবারও স্থিতিশীলতার পক্ষে রায় দিয়েছেন, নাকি পরিবর্তনের হাওয়ায় হেঁটেছেন — এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। 

এমনকি উচ্চ ভোটদানের হার নিয়েও চলছে জোরদার বিশ্লেষণ — এটা কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত, না কি বিদ্যমান শক্তির আরও মজবুত হয়ে ওঠার লক্ষণ, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলেও মতভেদ রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে জাতীয় রাজনীতিতেও, তাই গোটা দেশের নজর এখন এই ফলাফলের দিকে। 

সব মিলিয়ে এখন সময় যেন থমকে আছে — কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, তারপরই সামনে আসবে চূড়ান্ত সত্য।

উত্তেজনা এখনো চরমে। এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে — শেষ হাসি কে হাসবে, নরেন্দ্র মোদী না মমতা ব্যানার্জী — উত্তর লুকিয়ে আছে আগামীকালের ভোট গণনা পর্বের মধ্যেই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে কে? মোদী না দিদি, জানা যাবে সোমবার

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

রাত পোহালেই শুরু হবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক মুহূর্ত — ভোট গণনা। তারপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে বাংলাদেশে লাগোয়া ভারতের এই রাজ্যের ক্ষমতার চাবিকাঠি কার হাতে উঠতে চলেছে — পরিবর্তনের ডাক নিয়ে এগিয়ে আসা নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপির, না কি আবারও নিজের শক্ত জমি ধরে রাখতে সক্ষম হবেন মমতা ব্যানার্জী। 

টান টান উত্তেজনার পর এখন গোটা রাজ্য দাঁড়িয়ে এক চূড়ান্ত মুহূর্তের সামনে, যেখানে প্রতিটি ভোট, প্রতিটি রাউন্ডের গণনা নির্ধারণ করতে পারে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ। সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে গণনার প্রক্রিয়া — প্রথমে পোস্টাল ব্যালট, যা অনেক সময়েই প্রাথমিক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। তারপর একে একে খুলবে ইভিএম। আর প্রতিটি রাউন্ডের ফলাফল বাড়াবে উত্তেজনার পারদ।

কিন্তু এই লড়াই শুধুমাত্র সংখ্যার লড়াই নয়, এটি একেবারে স্নায়ুযুদ্ধ — গণনাকেন্দ্রের ভেতরে এজেন্টদের সতর্ক নজরদারি যেমন থাকবে, তেমনি বাইরে হাজার হাজার কর্মীর উপস্থিতিও তৈরি করবে এক চাপা উত্তেজনার পরিবেশ। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। 

তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সংগঠন এবং নেতৃত্বের উপর ভরসা রেখে এগোচ্ছে, যেখানে মমতা ব্যানার্জীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বিশেষ করে মহিলা ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে এখনো একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। দলের ভিতরে স্পষ্ট বার্তা — শেষ পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, একটি ভোটও যেন হাতছাড়া না হয়। 

আর বিজেপি সম্পূর্ণ আলাদা কৌশলে মাঠে নেমেছে। তাদের মূল ভরসা দীর্ঘদিনের শাসনের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অসন্তোষ, অর্থাৎ অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর। আর সেই সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর জাতীয় স্তরের জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে তারা রাজ্যে পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়েছে। তারা নির্ভর এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরী করা কেন্দ্রীয় সরকার নির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর।

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হল এর অনিশ্চয়তা — শহরে পরিবর্তনের সুর যতটা স্পষ্ট, গ্রামাঞ্চলেও কি সেই একই হাওয়া বইছে, সংখ্যালঘু ভোট কতটা একপাক্ষিকভাবে পড়েছে, নারী ভোটাররা কি আবারও স্থিতিশীলতার পক্ষে রায় দিয়েছেন, নাকি পরিবর্তনের হাওয়ায় হেঁটেছেন — এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। 

এমনকি উচ্চ ভোটদানের হার নিয়েও চলছে জোরদার বিশ্লেষণ — এটা কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত, না কি বিদ্যমান শক্তির আরও মজবুত হয়ে ওঠার লক্ষণ, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলেও মতভেদ রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে জাতীয় রাজনীতিতেও, তাই গোটা দেশের নজর এখন এই ফলাফলের দিকে। 

সব মিলিয়ে এখন সময় যেন থমকে আছে — কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, তারপরই সামনে আসবে চূড়ান্ত সত্য।

উত্তেজনা এখনো চরমে। এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে — শেষ হাসি কে হাসবে, নরেন্দ্র মোদী না মমতা ব্যানার্জী — উত্তর লুকিয়ে আছে আগামীকালের ভোট গণনা পর্বের মধ্যেই।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত