মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গত বছর জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) যে সম্মেলন হয়েছিল, তাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অংশগ্রহণ করা থেকে ‘বঞ্চিত করা হয়েছে’।
রবিবার (৩ মে) বঙ্গভবনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের সম্মেলন বছরে একবার হয়। প্রথা অনুযায়ি রাষ্ট্রপতি সব ডিসিদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। তবে গত বছর তাকে ডিসিদের সঙ্গে বৈঠক করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটা তাকে ব্যাথিত করেছে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসে আবার প্রথার অনুসরণ করেছে। এজন্য তিনি বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে জেলা প্রশাসকদের জনগণের সেবায় আরও নিবেদিত হয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারের প্রতিনিধি হলেও সর্বোপরি তারা জনগণের সেবক-এ বিষয়টি সবসময় মনে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন সরকারের নীতি-নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। মাঠ পর্যায়ের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময়ের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি সরকারি কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জেলা প্রশাসকদের সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে দ্রুত সমাধান দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সহজ ও মানসম্মত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও অপচয় রোধের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, গুজব, অপতথ্য ও অনলাইন অপরাধ দমনে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, নারী ও শিশু সুরক্ষা, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের সব স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসকরা তাদের মেধা ও নিষ্ঠা দিয়ে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতি কয়েকটি ফটোসেশনে অংশ নেন।

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গত বছর জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) যে সম্মেলন হয়েছিল, তাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অংশগ্রহণ করা থেকে ‘বঞ্চিত করা হয়েছে’।
রবিবার (৩ মে) বঙ্গভবনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের সম্মেলন বছরে একবার হয়। প্রথা অনুযায়ি রাষ্ট্রপতি সব ডিসিদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। তবে গত বছর তাকে ডিসিদের সঙ্গে বৈঠক করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটা তাকে ব্যাথিত করেছে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসে আবার প্রথার অনুসরণ করেছে। এজন্য তিনি বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে জেলা প্রশাসকদের জনগণের সেবায় আরও নিবেদিত হয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারের প্রতিনিধি হলেও সর্বোপরি তারা জনগণের সেবক-এ বিষয়টি সবসময় মনে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন সরকারের নীতি-নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। মাঠ পর্যায়ের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময়ের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি সরকারি কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জেলা প্রশাসকদের সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে দ্রুত সমাধান দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সহজ ও মানসম্মত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও অপচয় রোধের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, গুজব, অপতথ্য ও অনলাইন অপরাধ দমনে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, নারী ও শিশু সুরক্ষা, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের সব স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসকরা তাদের মেধা ও নিষ্ঠা দিয়ে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতি কয়েকটি ফটোসেশনে অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন