সংবাদ

জারুলের মোহনীয় রূপে সেজেছে পলাশ


প্রতিনিধি, পলাশ (নরসিংদী)
প্রতিনিধি, পলাশ (নরসিংদী)
প্রকাশ: ৪ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

জারুলের মোহনীয় রূপে সেজেছে পলাশ
নরসিংদীর পলাশ গ্রামে ফুটে থাকা জারুল ফুল। ছবি : সংবাদ

গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে প্রকৃতিতে প্রশান্তির পরশ নিয়ে এসেছে বেগুনি রঙের জারুল ফুল। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে-কানাচে এখন দেখা মিলছে এই নজরকাড়া ফুলের। জারুলের এই মোহনীয় রূপ দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারীরা; কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা ভিড় করছেন ছবি তুলতে।

উপজেলার টেঙ্গরপাড়া, পাইকসা, ধলাদিয়া, রাবান, ভরারটেক, পলাশতলী ও লেবুপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে এখন জারুলের সমারোহ। রাস্তার ধারে বা বাড়ির পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো হালকা বেগুনি রঙের ফুলে ভরে উঠেছে।

উদ্ভিদবিদদের মতে, জারুল ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব বৃক্ষ হলেও চীন ও মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। পত্রমোচী এই বৃক্ষ সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। গ্রীষ্মের শুরু থেকে শরৎকাল পর্যন্ত জারুল ফুল প্রকৃতিকে রাঙিয়ে রাখে। দৃষ্টিনন্দন এই গাছের নানা ভেষজ গুণাগুণও রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের মতে, আগের তুলনায় এখন জারুল গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

পলাশ সেন্ট্রাল কলেজের অধ্যাপক মো. মেজবাহ্ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘প্রতিবছর গ্রীষ্মে পলাশের গ্রামগুলোতে ফুটন্ত জারুল অনন্য শোভা তৈরি করে। তবে গাছটি উজাড় হওয়ার ফলে আগের মতো আর খুব বেশি চোখে পড়ে না।’

রাবান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চক্রবর্তী ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, ছোটবেলায় প্রায় প্রতিটি গ্রামে প্রচুর জারুল গাছ দেখা যেত। শিশু-কিশোরদের কাছে এই ফুল ছিল খেলার প্রিয় উপকরণ। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে গাছটি এখন বিলীন হওয়ার পথে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনে সড়কের দুই পাশসহ বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে জারুল গাছ রোপণ করা জরুরি বলে মনে করেন তারা।

পরিবেশকর্মী মাহবুব সৈয়দ বলেন, বৈশাখ মাসে গ্রামগঞ্জের রাস্তায় এই বেগুনি ফুলের উপস্থিতি বাংলার চিরচেনা রূপকে মনে করিয়ে দেয়। পরিবেশের সুরক্ষায় ও আগামী প্রজন্মের জন্য এই ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষটি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


জারুলের মোহনীয় রূপে সেজেছে পলাশ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে প্রকৃতিতে প্রশান্তির পরশ নিয়ে এসেছে বেগুনি রঙের জারুল ফুল। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে-কানাচে এখন দেখা মিলছে এই নজরকাড়া ফুলের। জারুলের এই মোহনীয় রূপ দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারীরা; কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা ভিড় করছেন ছবি তুলতে।

উপজেলার টেঙ্গরপাড়া, পাইকসা, ধলাদিয়া, রাবান, ভরারটেক, পলাশতলী ও লেবুপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে এখন জারুলের সমারোহ। রাস্তার ধারে বা বাড়ির পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো হালকা বেগুনি রঙের ফুলে ভরে উঠেছে।

উদ্ভিদবিদদের মতে, জারুল ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব বৃক্ষ হলেও চীন ও মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। পত্রমোচী এই বৃক্ষ সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। গ্রীষ্মের শুরু থেকে শরৎকাল পর্যন্ত জারুল ফুল প্রকৃতিকে রাঙিয়ে রাখে। দৃষ্টিনন্দন এই গাছের নানা ভেষজ গুণাগুণও রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের মতে, আগের তুলনায় এখন জারুল গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

পলাশ সেন্ট্রাল কলেজের অধ্যাপক মো. মেজবাহ্ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘প্রতিবছর গ্রীষ্মে পলাশের গ্রামগুলোতে ফুটন্ত জারুল অনন্য শোভা তৈরি করে। তবে গাছটি উজাড় হওয়ার ফলে আগের মতো আর খুব বেশি চোখে পড়ে না।’

রাবান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চক্রবর্তী ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, ছোটবেলায় প্রায় প্রতিটি গ্রামে প্রচুর জারুল গাছ দেখা যেত। শিশু-কিশোরদের কাছে এই ফুল ছিল খেলার প্রিয় উপকরণ। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে গাছটি এখন বিলীন হওয়ার পথে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনে সড়কের দুই পাশসহ বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে জারুল গাছ রোপণ করা জরুরি বলে মনে করেন তারা।

পরিবেশকর্মী মাহবুব সৈয়দ বলেন, বৈশাখ মাসে গ্রামগঞ্জের রাস্তায় এই বেগুনি ফুলের উপস্থিতি বাংলার চিরচেনা রূপকে মনে করিয়ে দেয়। পরিবেশের সুরক্ষায় ও আগামী প্রজন্মের জন্য এই ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষটি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত