সংবাদ

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুর্দশা ঘুচবে কবে


প্রকাশ: ৮ মে ২০২৬, ১১:০৮ এএম

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুর্দশা ঘুচবে কবে

প্রান্তিক মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা হচ্ছে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু নরসিংদীর চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবার প্রশ্নে সেই ভরসাস্থল হয়ে উঠতে পারেনি। প্রায় পাঁচ বছর ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনো চিকিৎসক নেই। চারটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন ফার্মাসিস্ট। ফলে স্বাস্থ্যসেবার নামে সেখানে চলছে এক ধরনের অস্থায়ী ও অনিয়মিত ব্যবস্থা। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। 

একজন ফার্মাসিস্টের কাজ ওষুধ সংরক্ষণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে ওষুধ সরবরাহ করা। বাস্তবে চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্টকে চিকিৎসকের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। রোগীকে ওষুধ দেয়া, কক্ষ পরিষ্কার রাখা থেকে শুরু করে কেন্দ্রের সামগ্রিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে একাই। প্রতিদিন ৫০-৬০ জন রোগী সামাল দেয়া একজন কর্মীর পক্ষে কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবার মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। 

সমস্যা এখানেই শেষ নয়। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটির শৌচাগার অকেজো হয়ে আছে। পানির পাম্প নষ্ট থাকায় মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ ধরনের পরিবেশ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবার ন্যূনতম পরিবেশ নিশ্চিত না হলে রোগীদের দুর্ভোগই বাড়ে কেবল। 

দেশে গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা নতুন নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একটি কেন্দ্র চিকিৎসকশূন্য থাকা প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতিকেই প্রকাশ করে। স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি জনবল নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নয়তো ভবন থাকলেও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। 

আমরা বলতে চাই, চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি পানি ও স্যানিটেশন সমস্যারও দ্রুত সমাধান করা জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুর্দশা ঘুচবে কবে

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

প্রান্তিক মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা হচ্ছে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু নরসিংদীর চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবার প্রশ্নে সেই ভরসাস্থল হয়ে উঠতে পারেনি। প্রায় পাঁচ বছর ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনো চিকিৎসক নেই। চারটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন ফার্মাসিস্ট। ফলে স্বাস্থ্যসেবার নামে সেখানে চলছে এক ধরনের অস্থায়ী ও অনিয়মিত ব্যবস্থা। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। 

একজন ফার্মাসিস্টের কাজ ওষুধ সংরক্ষণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে ওষুধ সরবরাহ করা। বাস্তবে চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্টকে চিকিৎসকের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। রোগীকে ওষুধ দেয়া, কক্ষ পরিষ্কার রাখা থেকে শুরু করে কেন্দ্রের সামগ্রিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে একাই। প্রতিদিন ৫০-৬০ জন রোগী সামাল দেয়া একজন কর্মীর পক্ষে কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবার মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। 

সমস্যা এখানেই শেষ নয়। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটির শৌচাগার অকেজো হয়ে আছে। পানির পাম্প নষ্ট থাকায় মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ ধরনের পরিবেশ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবার ন্যূনতম পরিবেশ নিশ্চিত না হলে রোগীদের দুর্ভোগই বাড়ে কেবল। 

দেশে গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা নতুন নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একটি কেন্দ্র চিকিৎসকশূন্য থাকা প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতিকেই প্রকাশ করে। স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি জনবল নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নয়তো ভবন থাকলেও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। 

আমরা বলতে চাই, চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি পানি ও স্যানিটেশন সমস্যারও দ্রুত সমাধান করা জরুরি।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত