নরসিংদীর ছয়টি উপজেলায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে একদিকে বৃষ্টির বাগড়া আর অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকটে ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। শ্রমিক সংকটের সুযোগে মজুরি প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এরপরও পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ায় খেতের পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নরসিংদীতে ধান কাটার মৌসুমে সাধারণত কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সিলেট থেকে প্রচুর শ্রমিক আসেন। কিন্তু এবার সেসব অঞ্চলেও অতিবৃষ্টির কারণে ধান কাটা শুরু হওয়ায় বাইরের শ্রমিকেরা আসতে পারছেন না।
ফলে স্থানীয় পর্যায়ে শ্রমিকের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। আগে যেখানে এক দিন কাজের মজুরি ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়।
পলাশ উপজেলার কৃষক মোজাম্মেল মিয়া জানান, দুই বিঘা জমির ধান কাটতে ইটাখোলা থেকে চারজন শ্রমিক এনেছেন তিনি। প্রত্যেকের দৈনিক মজুরি ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া যাতায়াত ভাড়া বাবদ দিতে হয়েছে আরও টাকা। এতে ধানের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
শিবপুর উপজেলার কামরাব গ্রামের কৃষক হারুন বলেন, স্থানীয় শ্রমিকেরা এখন কৃষিকাজ ছেড়ে শিল্পকারখানা কিংবা অটোরিকশা ও সিএনজি চালানো শুরু করেছেন। ফলে স্থানীয়ভাবে কৃষি শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে নিচু জমির ধান পানির নিচে চলে যাওয়ায় এখন বেশি মজুরি দিয়ে হলেও দ্রুত ধান ঘরে তুলতে হচ্ছে। বাজনাভ গ্রামের কৃষক ওহিদ আক্ষেপ করে বলেন, ধান কাটাতে খরচ বেশি হলেও বিক্রির সময় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৬ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও চাষ হয়েছে ৬৮ হাজার ১২৬ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে এবার ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে।
নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, জেলার সব উপজেলায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কৃষকদের কিছুটা সমস্যা হলেও এখন পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে কৃষকেরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত ফসল নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে পারবেন।
আপনার মতামত লিখুন