সংবাদ

তিন জেলায় ৩৫০ এর বেশি বর্জ্য কর্মীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিল ইউএনডিপি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

তিন জেলায় ৩৫০ এর বেশি বর্জ্য কর্মীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিল ইউএনডিপি

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টাঙ্গাইলে অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য কর্মীদের জন্য ছয়টি জেন্ডার–সংবেদনশীল স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ। কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন ও ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ইপসা) সহযোগিতায় আয়োজিত এসব ক্যাম্পে ৩৬০ জনের বেশি নারী ও পুরুষ বর্জ্য কর্মী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন।

ইউএনডিপি জানায়, স্বাস্থ্য ক্যাম্পগুলোতে রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা, ওজন ও তাপমাত্রা পরিমাপসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি একজন নারী এমবিবিএস চিকিৎসকের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরামর্শের সুযোগও রাখা হয়। দীর্ঘদিনের পিঠ ও জয়েন্টের ব্যথা, চর্ম ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ এবং নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয় অংশগ্রহণকারীদের।

ক্যাম্প থেকে অংশগ্রহণকারীদের ব্যথানাশক, ওআরএস, আয়রন সাপ্লিমেন্ট ও অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম সহ প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে বিতরণ করা হয় ডিগনিটি কিট।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রকল্পের প্রজেক্ট এক্সপার্ট সামিউল আহসান বলেন, বর্জ্য কর্মীরা কার্যকর সার্কুলার ইকোনমির ভিত্তি হলেও তারা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অবহেলিতদের মধ্যে রয়েছেন। এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পগুলো তাদের স্বীকৃতি, সহায়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের অংশ।

প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ক্যাম্পে নারী চিকিৎসক নিয়োগ এবং মাসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য খাতে কর্মরত নারীরা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকলেও উপযোগী সেবা খুব কমই পান।

স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরাও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দনা রানী সরকার বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ সহায়তা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মো. শামীম আল ইমরান জানান, ভবিষ্যতে নিবন্ধিত প্লাস্টিক বর্জ্য কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য ডেটাবেস তৈরি ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহী বলেন, বৈশ্বিক প্লাস্টিক সংকট মোকাবিলায় সরকার, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮ লাখ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর বড় অংশই অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য কর্মীরা সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলেন, যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বাইরে থেকে যান।

ইউএনডিপির প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রকল্পের লক্ষ্য ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টাঙ্গাইলে ১৫ হাজার মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা এবং ৬০০ নারীসহ দুই হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


তিন জেলায় ৩৫০ এর বেশি বর্জ্য কর্মীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিল ইউএনডিপি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টাঙ্গাইলে অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য কর্মীদের জন্য ছয়টি জেন্ডার–সংবেদনশীল স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ। কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন ও ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ইপসা) সহযোগিতায় আয়োজিত এসব ক্যাম্পে ৩৬০ জনের বেশি নারী ও পুরুষ বর্জ্য কর্মী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন।

ইউএনডিপি জানায়, স্বাস্থ্য ক্যাম্পগুলোতে রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা, ওজন ও তাপমাত্রা পরিমাপসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি একজন নারী এমবিবিএস চিকিৎসকের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরামর্শের সুযোগও রাখা হয়। দীর্ঘদিনের পিঠ ও জয়েন্টের ব্যথা, চর্ম ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ এবং নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয় অংশগ্রহণকারীদের।

ক্যাম্প থেকে অংশগ্রহণকারীদের ব্যথানাশক, ওআরএস, আয়রন সাপ্লিমেন্ট ও অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম সহ প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে বিতরণ করা হয় ডিগনিটি কিট।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রকল্পের প্রজেক্ট এক্সপার্ট সামিউল আহসান বলেন, বর্জ্য কর্মীরা কার্যকর সার্কুলার ইকোনমির ভিত্তি হলেও তারা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অবহেলিতদের মধ্যে রয়েছেন। এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পগুলো তাদের স্বীকৃতি, সহায়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের অংশ।

প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ক্যাম্পে নারী চিকিৎসক নিয়োগ এবং মাসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য খাতে কর্মরত নারীরা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকলেও উপযোগী সেবা খুব কমই পান।

স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরাও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দনা রানী সরকার বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ সহায়তা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মো. শামীম আল ইমরান জানান, ভবিষ্যতে নিবন্ধিত প্লাস্টিক বর্জ্য কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য ডেটাবেস তৈরি ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহী বলেন, বৈশ্বিক প্লাস্টিক সংকট মোকাবিলায় সরকার, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮ লাখ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর বড় অংশই অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য কর্মীরা সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলেন, যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বাইরে থেকে যান।

ইউএনডিপির প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রকল্পের লক্ষ্য ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টাঙ্গাইলে ১৫ হাজার মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা এবং ৬০০ নারীসহ দুই হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত