সিলেটে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (১১ মে) রাতে সিলেট সদর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার জাকির হোসেন (৩০) সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে কঠোর শাস্তি দাবি করে রাতেই বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে তারা থানা ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে মধ্যরাতে জাকিরের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
এর আগে ৬ মে ওই শিশু নিখোঁজ হয়। এরপর ৮ মে বাড়িসংলগ্ন একটি ডোবার পাশ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে নিখোঁজের ঘটনায় শিশুটির মা প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। লাশ উদ্ধারের পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। ওই মামলায় জাকির হোসেন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
জাকির প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর)।জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ৬ মে সকালে শিশুটিকে মুদিদোকান থেকে সিগারেট আনতে পাঠিয়েছিলেন জাকির। সিগারেট আনার পর শিশুটিকে জাকির নিজ ঘরে নিয়ে যান। ওই সময় বাড়িটিতে কেউ ছিলেন না।
সেই সুযোগে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে জাকির। একপর্যায়ে জ্ঞান হারালে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরের একটি স্যুটকেসে লুকিয়ে রাখেন। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে লাশটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। এমনকি সবার সঙ্গে শিশুটিকে খুঁজতেও যোগ দেন।
সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, পরে সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হলে ওই দিন গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন জাকির। তবে ভেসে ওঠায় মরদেহটি ডোবার পাশে গাছের নিচে লুকিয়ে রাখেন।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কি না, সেটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর জানা যাবে। গ্রেপ্তার জাকির হোসেনকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে শিশুটিকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলে, ‘সকাল ১০টা-সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটিকে দিয়ে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিলো। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেন যে অমানুষ জাগিয়া উঠল, মেয়েটার প্রতি আমার খারাপ দৃষ্টি চলে যায়।’
জাকির আরও বলে, ‘পরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছিলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দুদিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।’
এই ভিডিও কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর থানরে ভেতরেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় জাকিরকে আরও কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে শোনা গেছে।
তবে এই ভিডিওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না সিলেটের জালালাবাদ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাহিদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
সিলেটে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (১১ মে) রাতে সিলেট সদর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার জাকির হোসেন (৩০) সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে কঠোর শাস্তি দাবি করে রাতেই বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে তারা থানা ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে মধ্যরাতে জাকিরের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
এর আগে ৬ মে ওই শিশু নিখোঁজ হয়। এরপর ৮ মে বাড়িসংলগ্ন একটি ডোবার পাশ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে নিখোঁজের ঘটনায় শিশুটির মা প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। লাশ উদ্ধারের পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। ওই মামলায় জাকির হোসেন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
জাকির প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর)।জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ৬ মে সকালে শিশুটিকে মুদিদোকান থেকে সিগারেট আনতে পাঠিয়েছিলেন জাকির। সিগারেট আনার পর শিশুটিকে জাকির নিজ ঘরে নিয়ে যান। ওই সময় বাড়িটিতে কেউ ছিলেন না।
সেই সুযোগে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে জাকির। একপর্যায়ে জ্ঞান হারালে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরের একটি স্যুটকেসে লুকিয়ে রাখেন। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে লাশটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। এমনকি সবার সঙ্গে শিশুটিকে খুঁজতেও যোগ দেন।
সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, পরে সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হলে ওই দিন গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন জাকির। তবে ভেসে ওঠায় মরদেহটি ডোবার পাশে গাছের নিচে লুকিয়ে রাখেন।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কি না, সেটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর জানা যাবে। গ্রেপ্তার জাকির হোসেনকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে শিশুটিকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলে, ‘সকাল ১০টা-সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটিকে দিয়ে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিলো। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেন যে অমানুষ জাগিয়া উঠল, মেয়েটার প্রতি আমার খারাপ দৃষ্টি চলে যায়।’
জাকির আরও বলে, ‘পরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছিলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দুদিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।’
এই ভিডিও কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর থানরে ভেতরেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় জাকিরকে আরও কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে শোনা গেছে।
তবে এই ভিডিওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না সিলেটের জালালাবাদ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাহিদুল ইসলাম।

আপনার মতামত লিখুন