সংবাদ

‘আদালতে আসতে ভালো লাগে’, ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারককে বললেন লতিফ সিদ্দিকী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

‘আদালতে আসতে ভালো লাগে’, ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারককে বললেন লতিফ সিদ্দিকী

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আর আদালতে আসতে হবে না, আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি হাজিরা দিতে পারবেন। আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর হতে ৬ মাস সময় লাগায়, লতিফ সিদ্দিকী ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারককে বলেছেন, তিনি আদালতে আসবেন, তার আদালতে আসতে ‘ভালো লাগে’।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আবেদন মঞ্জুর করলে এ কথা বলেন লতিফ সিদ্দিকী। এদিন মামলার দিন ধার্য ছিল। আদালতে হাজিরা দেন লতিফ সিদ্দিকী। লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে আগেই আবেদন করা ছিল আইনজীবীর মাধ্যমে। শুনানি নিয়ে তার স্বশরীরের হাজিরা মওকুফ করে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন মর্মে আদেশ দেয় আদালত।

আদেশের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারকের উদ্দেশ্যে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘এভাবে বিচার ব্যবস্থা চলতে পারে না। গত ৬ মাসে এই মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। আজকে এই আদেশ দিলেন। আমি আদালতে আসব, হাজিরা দিব। আমার আদালতে আসতে ভালো লাগে, অভ্যাস হয়ে গেছে।’

এ সময় বিচারক বলেন, ‘সেটা আপনার ইচ্ছে। আপনার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।’ পরে হাজিরা দিয়ে হাসিমুখে আদালত ছাড়েন লতিফ সিদ্দিকী। এদিকে এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই তৌফিক হাসান প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। আগামি ২৪ জুন প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই শাহ আলম জানিয়েছেন।

লতিফ সিদ্দিকী আইনজীবী গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধি আইনে ২০৫ ধারায় এই মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে লতিফ সিদ্দিকী আদালতকে বলেছেন, তিনি সশরীরে আদালতে এসে হাজিরা দিবেন।’

‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

‘সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। ‘এক পর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।’

তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হওয়া লতিফ সিদ্দিকী ছাড়া বাকি ১৫ জন হলেন: মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩), শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন (৫৫), মঞ্জুরুল আলম (৪৯), কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল (৭২), গোলাম মোস্তফা (৮১), মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু (৬৪), মো. জাকির হোসেন (৭৪), মো. তৌছিফুল বারী খান (৭২), মো. আমির হোসেন সুমন (৩৭), মো. আল আমিন (৪০), মো. নাজমুল আহসান (৩৫), সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬), মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (৬৪), দেওয়ান মোহম্মদ আলী (৫০), মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)।

এই মামলায় পরে সাবেক সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম ও আবু আলম শহীদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ আদালত লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদন নাকচ করলে তার আইনজীবী হাইকোর্টে আবেদন করেন। বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৬ নভেম্বর লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

এরপর জামিন বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের আপিল বেঞ্চ ১০ নভেম্বর জামিন বহাল রাখে। জামিনের নথিপত্র পৌঁছানোর পর ১২ নভেম্বর কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান লতিফ সিদ্দিকী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


‘আদালতে আসতে ভালো লাগে’, ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারককে বললেন লতিফ সিদ্দিকী

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আর আদালতে আসতে হবে না, আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি হাজিরা দিতে পারবেন। আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর হতে ৬ মাস সময় লাগায়, লতিফ সিদ্দিকী ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারককে বলেছেন, তিনি আদালতে আসবেন, তার আদালতে আসতে ‘ভালো লাগে’।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আবেদন মঞ্জুর করলে এ কথা বলেন লতিফ সিদ্দিকী। এদিন মামলার দিন ধার্য ছিল। আদালতে হাজিরা দেন লতিফ সিদ্দিকী। লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে আগেই আবেদন করা ছিল আইনজীবীর মাধ্যমে। শুনানি নিয়ে তার স্বশরীরের হাজিরা মওকুফ করে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন মর্মে আদেশ দেয় আদালত।

আদেশের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারকের উদ্দেশ্যে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘এভাবে বিচার ব্যবস্থা চলতে পারে না। গত ৬ মাসে এই মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। আজকে এই আদেশ দিলেন। আমি আদালতে আসব, হাজিরা দিব। আমার আদালতে আসতে ভালো লাগে, অভ্যাস হয়ে গেছে।’

এ সময় বিচারক বলেন, ‘সেটা আপনার ইচ্ছে। আপনার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।’ পরে হাজিরা দিয়ে হাসিমুখে আদালত ছাড়েন লতিফ সিদ্দিকী। এদিকে এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই তৌফিক হাসান প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। আগামি ২৪ জুন প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই শাহ আলম জানিয়েছেন।

লতিফ সিদ্দিকী আইনজীবী গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধি আইনে ২০৫ ধারায় এই মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে লতিফ সিদ্দিকী আদালতকে বলেছেন, তিনি সশরীরে আদালতে এসে হাজিরা দিবেন।’

‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

‘সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। ‘এক পর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।’

তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হওয়া লতিফ সিদ্দিকী ছাড়া বাকি ১৫ জন হলেন: মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩), শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন (৫৫), মঞ্জুরুল আলম (৪৯), কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল (৭২), গোলাম মোস্তফা (৮১), মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু (৬৪), মো. জাকির হোসেন (৭৪), মো. তৌছিফুল বারী খান (৭২), মো. আমির হোসেন সুমন (৩৭), মো. আল আমিন (৪০), মো. নাজমুল আহসান (৩৫), সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬), মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (৬৪), দেওয়ান মোহম্মদ আলী (৫০), মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)।

এই মামলায় পরে সাবেক সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম ও আবু আলম শহীদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ আদালত লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদন নাকচ করলে তার আইনজীবী হাইকোর্টে আবেদন করেন। বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৬ নভেম্বর লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

এরপর জামিন বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের আপিল বেঞ্চ ১০ নভেম্বর জামিন বহাল রাখে। জামিনের নথিপত্র পৌঁছানোর পর ১২ নভেম্বর কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান লতিফ সিদ্দিকী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত