রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কালীঘাটে তৃণমূলের জরুরি বৈঠক কার্যত নতুন রাজনৈতিক সংঘর্ষের রূপরেখা তৈরি করে দিল। বৈঠকের নেতৃত্বে থাকা মমতা ব্যানার্জী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া হলেও এই লড়াই কোনোভাবেই শেষ নয়- বরং এখনই শুরু হতে চলেছে আরও বড় রাজনৈতিক লড়াই।
তার কথায়, তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ থেকে রাস্তায়- সব ক্ষেত্রেই বিজেপির বিরুদ্ধে আরও তীব্র ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে “সুপার এমার্জেন্সি”র সঙ্গে তুলনা করে এক বিস্ফোরক রাজনৈতিক বার্তা দেন, যা স্পষ্টভাবেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে উঠে আসে ভোট প্রক্রিয়া সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অভিযোগও। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ইভিএম ও ১৭-সি ফর্মের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে, যা ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অভিযোগ করা হয়, গণনার দিন একাধিক ক্ষেত্রে এজেন্টদের গণনাকেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে, এমনকি প্রার্থীদের পরিচয়পত্র ছিঁড়ে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করা হয় এবং দাবি করা হয় যে কিছু ক্ষেত্রে বিজেপির কর্মীরা নাকি সিআরপিএফের পোশাক পরে হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও অভিযোগ ওঠে, গণনার প্রথম কয়েক রাউন্ডে অস্বাভাবিকভাবে বিজেপিকে এগিয়ে দেখিয়ে এজেন্টদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই বৈঠকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বক্তব্য রাখেন অভিষেক ব্যানার্জী। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াই পরিকল্পিতভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে এবং গণনার দিন একাধিক অনিয়ম ঘটেছে। ভবানীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় গণনাকেন্দ্রে ডিআইসিওদের ঢুকতে বাধা দেওয়া, মোবাইল কেড়ে নেওয়া-এই সমস্ত অভিযোগও তুলে ধরা হয়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তৃণমূল এই ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে শুধু রাজ্য নয়, জাতীয় স্তরেও বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কালীঘাটের এই বৈঠক থেকে যে বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তা হল- ফলাফল মেনে নেওয়া হলেও রাজনৈতিক সংঘর্ষ এখনই শেষ হচ্ছে না। বরং আগামী দিনে সংসদ, রাজপথ এবং জনমত- সব জায়গাতেই বিজেপির বিরুদ্ধে আরও সংগঠিত ও তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই বৈঠক কার্যত সেই বৃহত্তর লড়াইয়ের সূচনা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কালীঘাটে তৃণমূলের জরুরি বৈঠক কার্যত নতুন রাজনৈতিক সংঘর্ষের রূপরেখা তৈরি করে দিল। বৈঠকের নেতৃত্বে থাকা মমতা ব্যানার্জী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া হলেও এই লড়াই কোনোভাবেই শেষ নয়- বরং এখনই শুরু হতে চলেছে আরও বড় রাজনৈতিক লড়াই।
তার কথায়, তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ থেকে রাস্তায়- সব ক্ষেত্রেই বিজেপির বিরুদ্ধে আরও তীব্র ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে “সুপার এমার্জেন্সি”র সঙ্গে তুলনা করে এক বিস্ফোরক রাজনৈতিক বার্তা দেন, যা স্পষ্টভাবেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে উঠে আসে ভোট প্রক্রিয়া সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অভিযোগও। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ইভিএম ও ১৭-সি ফর্মের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে, যা ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অভিযোগ করা হয়, গণনার দিন একাধিক ক্ষেত্রে এজেন্টদের গণনাকেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে, এমনকি প্রার্থীদের পরিচয়পত্র ছিঁড়ে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করা হয় এবং দাবি করা হয় যে কিছু ক্ষেত্রে বিজেপির কর্মীরা নাকি সিআরপিএফের পোশাক পরে হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও অভিযোগ ওঠে, গণনার প্রথম কয়েক রাউন্ডে অস্বাভাবিকভাবে বিজেপিকে এগিয়ে দেখিয়ে এজেন্টদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই বৈঠকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বক্তব্য রাখেন অভিষেক ব্যানার্জী। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াই পরিকল্পিতভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে এবং গণনার দিন একাধিক অনিয়ম ঘটেছে। ভবানীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় গণনাকেন্দ্রে ডিআইসিওদের ঢুকতে বাধা দেওয়া, মোবাইল কেড়ে নেওয়া-এই সমস্ত অভিযোগও তুলে ধরা হয়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তৃণমূল এই ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে শুধু রাজ্য নয়, জাতীয় স্তরেও বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কালীঘাটের এই বৈঠক থেকে যে বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তা হল- ফলাফল মেনে নেওয়া হলেও রাজনৈতিক সংঘর্ষ এখনই শেষ হচ্ছে না। বরং আগামী দিনে সংসদ, রাজপথ এবং জনমত- সব জায়গাতেই বিজেপির বিরুদ্ধে আরও সংগঠিত ও তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই বৈঠক কার্যত সেই বৃহত্তর লড়াইয়ের সূচনা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত লিখুন