সংবাদ

চাই শিশুর নিরাপদ বিকাশ


প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

চাই শিশুর নিরাপদ বিকাশ

দেশের ১০ হাজারেরও বেশি স্কুলে খেলার মাঠ নেই। এটি শুধু অবকাঠামোগত সমস্যা নয়। খেলার মাঠ নেই মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক-মানসিক বিকাশের যথাযথ সুযোগ নেই। খেলার জন্য উন্মুক্ত স্থানের অভাবে শিশুরা হয়ে পড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর। অনেক সময় এই নির্ভরতা পরিণত হচ্ছে আসক্তিতে। গত শুক্রবার রাজধানীতে খেলাঘর আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর সংকট কেবল এই একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের জীবন নানামুখী ঝুঁকিতে ঘেরা। ধর্ষণ, পাচার, শিশুশ্রম, অপুষ্টি, মানসিক নির্যাতনের মতো সমস্যাও মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদেরকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি দশটি শিশুর নয়টি মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের শিকার। অনেক পরিবার এখনও মনে করে, মারধর না করলে শিশু পড়বে না। এই দৃষ্টিভঙ্গি শিশুর মানসিক গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। 

শিক্ষাক্রম নিয়েও প্রশ্ন আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পাঠ্যক্রম শিশুর মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। শিশুশিক্ষায় দার্শনিক ঐকমত্যের অভাবে একেক সময় একেক ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে শিশুরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাদর্শন ছাড়া কেবল পাঠ্যবই বদলে কাজ হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। 

পরিবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শিশু প্রথম শেখে মা-বাবার কাছ থেকে। অভিভাবকরা সন্তানের জন্য কতটা সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছেন, সেটি ভাবার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যন্ত্রের হাতে শিশুকে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে হবে। 

সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিটি স্কুলে মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। শিশুর পুষ্টি, সুরক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো রাষ্ট্রের কর্তব্য। হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে যেভাবে শিশুমৃত্যু ঘটেছে, তা প্রমাণ করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। শিশুকে সুরক্ষিত রাখা শুধু পরিবারের নয়, রাষ্ট্রেরও দায়। 

একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়তে মাঠ চাই, সুচিন্তিত পাঠ্যক্রম চাই, নিরাপদ পরিবেশ চাই। এগুলোর কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে বাকিগুলো অর্থহীন হয়ে পড়ে।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


চাই শিশুর নিরাপদ বিকাশ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

দেশের ১০ হাজারেরও বেশি স্কুলে খেলার মাঠ নেই। এটি শুধু অবকাঠামোগত সমস্যা নয়। খেলার মাঠ নেই মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক-মানসিক বিকাশের যথাযথ সুযোগ নেই। খেলার জন্য উন্মুক্ত স্থানের অভাবে শিশুরা হয়ে পড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর। অনেক সময় এই নির্ভরতা পরিণত হচ্ছে আসক্তিতে। গত শুক্রবার রাজধানীতে খেলাঘর আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর সংকট কেবল এই একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের জীবন নানামুখী ঝুঁকিতে ঘেরা। ধর্ষণ, পাচার, শিশুশ্রম, অপুষ্টি, মানসিক নির্যাতনের মতো সমস্যাও মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদেরকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি দশটি শিশুর নয়টি মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের শিকার। অনেক পরিবার এখনও মনে করে, মারধর না করলে শিশু পড়বে না। এই দৃষ্টিভঙ্গি শিশুর মানসিক গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। 

শিক্ষাক্রম নিয়েও প্রশ্ন আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পাঠ্যক্রম শিশুর মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। শিশুশিক্ষায় দার্শনিক ঐকমত্যের অভাবে একেক সময় একেক ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে শিশুরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাদর্শন ছাড়া কেবল পাঠ্যবই বদলে কাজ হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। 

পরিবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শিশু প্রথম শেখে মা-বাবার কাছ থেকে। অভিভাবকরা সন্তানের জন্য কতটা সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছেন, সেটি ভাবার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যন্ত্রের হাতে শিশুকে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে হবে। 

সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিটি স্কুলে মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। শিশুর পুষ্টি, সুরক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো রাষ্ট্রের কর্তব্য। হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে যেভাবে শিশুমৃত্যু ঘটেছে, তা প্রমাণ করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। শিশুকে সুরক্ষিত রাখা শুধু পরিবারের নয়, রাষ্ট্রেরও দায়। 

একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়তে মাঠ চাই, সুচিন্তিত পাঠ্যক্রম চাই, নিরাপদ পরিবেশ চাই। এগুলোর কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে বাকিগুলো অর্থহীন হয়ে পড়ে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত