সংবাদ

বেতন নেই, দায়িত্ব আছে


প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

বেতন নেই, দায়িত্ব আছে

দেশের একমাত্র সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের ৩৭ জন শিক্ষক-চিকিৎসক বেতন পাননি টানা ২২ মাস। তবে তারা দায়িত্ব পালনে পিছপা হননি। ক্লাস নিয়েছেন, রোগী দেখেছেন, প্রশাসনিক কাজ করেছেন। বেতন ছাড়া দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করার পর তারা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। 

এই ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকটই তুলে ধরে না, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার একটি বড় দুর্বলতাকেও সামনে আনে। জানা গেছে, কর্মবিরতিতে যাওয়া শিক্ষক-চিকিৎসকেরা প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত। তাদের কেউ কেউ ছয় থেকে বারো বছর ধরে কাজ করছেন। তাদের পদ এখনও রাজস্ব খাতে স্থানান্তর হয়নি। বেতন নিশ্চিত করার কোনো কাঠামো নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও সমাধান মেলেনি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। 

কর্মবিরতির প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থী ও রোগীদের ওপর। প্রায় আড়াইশ’ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। ভাইভা ও পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কায় আছে শিক্ষার্থীরা। ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতিতে আগ্রহী মানুষের জন্য এই হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরসার জায়গা। হাসপাতালে আসা রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। 

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ স্বীকার করেছেন যে, বেতন পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সমস্যা সমাধানে কী করছে সেটা একটা প্রশ্ন। শিক্ষক ও চিকিৎসকদের কেউ কেউ বলেছেন, চাকরি না থাকলেও অন্তত বকেয়া বেতনটুকু পরিশোধ করা হোক। আমরা মনে করি, তাদের এই দাবি যৌক্তিক এবং ন্যায়সংগত। 

আমরা আশা করবো, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-চিকিৎসকদের বকেয়া বেতন অবিলম্বে পরিশোধ করা হবে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করতে আর দেরি করা উচিত হবে না।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


বেতন নেই, দায়িত্ব আছে

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

দেশের একমাত্র সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের ৩৭ জন শিক্ষক-চিকিৎসক বেতন পাননি টানা ২২ মাস। তবে তারা দায়িত্ব পালনে পিছপা হননি। ক্লাস নিয়েছেন, রোগী দেখেছেন, প্রশাসনিক কাজ করেছেন। বেতন ছাড়া দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করার পর তারা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। 

এই ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকটই তুলে ধরে না, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার একটি বড় দুর্বলতাকেও সামনে আনে। জানা গেছে, কর্মবিরতিতে যাওয়া শিক্ষক-চিকিৎসকেরা প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত। তাদের কেউ কেউ ছয় থেকে বারো বছর ধরে কাজ করছেন। তাদের পদ এখনও রাজস্ব খাতে স্থানান্তর হয়নি। বেতন নিশ্চিত করার কোনো কাঠামো নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও সমাধান মেলেনি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। 

কর্মবিরতির প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থী ও রোগীদের ওপর। প্রায় আড়াইশ’ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। ভাইভা ও পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কায় আছে শিক্ষার্থীরা। ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতিতে আগ্রহী মানুষের জন্য এই হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরসার জায়গা। হাসপাতালে আসা রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। 

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ স্বীকার করেছেন যে, বেতন পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সমস্যা সমাধানে কী করছে সেটা একটা প্রশ্ন। শিক্ষক ও চিকিৎসকদের কেউ কেউ বলেছেন, চাকরি না থাকলেও অন্তত বকেয়া বেতনটুকু পরিশোধ করা হোক। আমরা মনে করি, তাদের এই দাবি যৌক্তিক এবং ন্যায়সংগত। 

আমরা আশা করবো, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-চিকিৎসকদের বকেয়া বেতন অবিলম্বে পরিশোধ করা হবে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করতে আর দেরি করা উচিত হবে না।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত