সংবাদ

কেবিএস প্রকল্পে অনিশ্চয়তা, বিপাকে তিন জেলা


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১০:৪২ এএম

কেবিএস প্রকল্পে অনিশ্চয়তা, বিপাকে তিন জেলা
প্রকল্পের আওতায় অনেক সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ। ছবি : সংবাদ

খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য গৃহীত কেবিএস প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ জুন। তবে প্রকল্পের বড় একটি অংশের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, ঠিকাদার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) বাস্তব তথ্য গোপন করে একক সিদ্ধান্তে প্রকল্প সমাপ্ত করার চেষ্টা করছেন। মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও জনপ্রতিনিধিদের মতামতকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে ২০১৬ সালে ‘কেবিএস’ প্রকল্প শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, তিন জেলায় অসংখ্য সড়ক, সেতু ও কালভার্টের কাজ এখনো চলমান। কোথাও সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও সেতুর কাজ অর্ধেক হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষার আগে কাজ শেষ না হলে যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প পরিচালক পরিকল্পনা কমিশনে মাত্র ১৬টি চলমান স্কিমের তথ্য দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। অথচ তিন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীদের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় শতাধিক স্কিমের কাজ চলমান। খুলনা জেলাতেই ১৩টি প্রকল্পের কাজ শেষ করা অসম্ভব বলে পিডি-কে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটেও অর্ধশতাধিক কাজ বাকি।

সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইজ্জত উল্ল্যাহ ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আধা-সরকারি (ডিও) পত্র দিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, অসম্পূর্ণ কাজ রেখে প্রকল্প শেষ করলে সরকারের বিপুল বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে না।

আরও অভিযোগ রয়েছে, আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ রাখা ৫০ কোটি টাকার মধ্যে ২০ কোটি টাকা প্রকল্প পরিচালক তার নিজ জেলা কুষ্টিয়ার একটি প্রকল্পে স্থানান্তর করেছেন। ফলে চলমান কাজগুলোতে অর্থসংকট দেখা দিয়েছে।

কাজের ধীরগতি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে ঠিকাদাররাও আতঙ্কে রয়েছেন। সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল হাসান ও খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বাস্তবতা বিবেচনায় মেয়াদ না বাড়ালে অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমি এখানে থাকতে চাই না। প্রকল্পের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।’ অনিয়ম ও তথ্য গোপনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬


কেবিএস প্রকল্পে অনিশ্চয়তা, বিপাকে তিন জেলা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য গৃহীত কেবিএস প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ জুন। তবে প্রকল্পের বড় একটি অংশের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, ঠিকাদার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) বাস্তব তথ্য গোপন করে একক সিদ্ধান্তে প্রকল্প সমাপ্ত করার চেষ্টা করছেন। মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও জনপ্রতিনিধিদের মতামতকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে ২০১৬ সালে ‘কেবিএস’ প্রকল্প শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, তিন জেলায় অসংখ্য সড়ক, সেতু ও কালভার্টের কাজ এখনো চলমান। কোথাও সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও সেতুর কাজ অর্ধেক হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষার আগে কাজ শেষ না হলে যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প পরিচালক পরিকল্পনা কমিশনে মাত্র ১৬টি চলমান স্কিমের তথ্য দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। অথচ তিন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীদের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় শতাধিক স্কিমের কাজ চলমান। খুলনা জেলাতেই ১৩টি প্রকল্পের কাজ শেষ করা অসম্ভব বলে পিডি-কে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটেও অর্ধশতাধিক কাজ বাকি।

সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইজ্জত উল্ল্যাহ ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আধা-সরকারি (ডিও) পত্র দিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, অসম্পূর্ণ কাজ রেখে প্রকল্প শেষ করলে সরকারের বিপুল বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে না।

আরও অভিযোগ রয়েছে, আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ রাখা ৫০ কোটি টাকার মধ্যে ২০ কোটি টাকা প্রকল্প পরিচালক তার নিজ জেলা কুষ্টিয়ার একটি প্রকল্পে স্থানান্তর করেছেন। ফলে চলমান কাজগুলোতে অর্থসংকট দেখা দিয়েছে।

কাজের ধীরগতি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে ঠিকাদাররাও আতঙ্কে রয়েছেন। সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল হাসান ও খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বাস্তবতা বিবেচনায় মেয়াদ না বাড়ালে অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমি এখানে থাকতে চাই না। প্রকল্পের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।’ অনিয়ম ও তথ্য গোপনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত