সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযানে গত ১০০ ঘণ্টায় দুই দস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় দস্যুদের কবল থেকে ৮ জেলেকে উদ্ধার এবং ৯টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জব্দ করা হয়।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলা জানায়, সুন্দরবনে দস্যুতা রোধে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ ও ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) সকালে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার ভোররাতে সুন্দরবনের ঢাংমারি খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বনদস্যু ‘করিম শরীফ বাহিনী’র সেকেন্ড-ইন-কমান্ড রাজন শরীফ ও রবিউল শেখকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি বন্দুক, দুটি দেশি বন্দুক ও ২৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাদের হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত শরণখোলা রেঞ্জের মরা চানমিয়া খাল এলাকায় অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। দস্যুদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের পর সেখান থেকে মেহেদী হাসান, রমজান শরীফ ও এনায়েত নামের তিন দস্যুকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে তিনটি একনলা বন্দুক, একটি দেশি পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড গুলি, একটি এয়ারগান ও দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া গত ১২ মে সুন্দরবনের শিবসা নদী সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান মেঝ জাহাঙ্গীরকে দুটি বন্দুক ও পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ আটক করে কোস্টগার্ড। এদিকে ১৩ মে শরণখোলা রেঞ্জের সিংগার টেক এলাকায় বনরক্ষীদের সঙ্গে দস্যুদের বন্দুকযুদ্ধের পর দস্যুরা পালিয়ে গেলে সেখান থেকে একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ডের দাবি, ধারাবাহিক এই অভিযানের ফলে সুন্দরবনে দস্যু বাহিনীগুলো এখন অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শুরু হওয়া এই অভিযান দস্যু নিধন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
আপনার মতামত লিখুন