কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। এর আগে তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনায় ৩ পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছিল সিআইডি। তবে বর্তমান তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষায় আরও এক অজ্ঞাতনামা পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৮ মে) সকালে পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগে ৩ পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য আমাদের কাছে ছিল। এখন ডিএনএ ল্যাব থেকে নতুন করে আরও ১ পুরুষের রক্তের উপস্থিতির তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ পরীক্ষায় নতুন এই তথ্য মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মামলাটি তদারকি করা হচ্ছে। গত ৬ এপ্রিল এই মামলায় তিন সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।
আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়। পরদিন তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং কুমিল্লার আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। নতুন করে একজনের ডিএনএ পাওয়ায় এখন সন্দেহভাজন আরও তিনজনের নমুনার সঙ্গে এটি মিলিয়ে দেখতে হবে। আমাদের সন্দেহের তালিকায় থাকা অন্যদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ ও ডিবি তদন্ত করলেও পরে সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করে কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। ২০১৭ সালে সিআইডি ডিএনএ পরীক্ষায় তিন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য জানিয়েছিল। ২০২০ সালের অক্টোবরে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই। বর্তমানে ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম।

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। এর আগে তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনায় ৩ পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছিল সিআইডি। তবে বর্তমান তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষায় আরও এক অজ্ঞাতনামা পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৮ মে) সকালে পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগে ৩ পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য আমাদের কাছে ছিল। এখন ডিএনএ ল্যাব থেকে নতুন করে আরও ১ পুরুষের রক্তের উপস্থিতির তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ পরীক্ষায় নতুন এই তথ্য মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মামলাটি তদারকি করা হচ্ছে। গত ৬ এপ্রিল এই মামলায় তিন সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।
আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়। পরদিন তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং কুমিল্লার আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। নতুন করে একজনের ডিএনএ পাওয়ায় এখন সন্দেহভাজন আরও তিনজনের নমুনার সঙ্গে এটি মিলিয়ে দেখতে হবে। আমাদের সন্দেহের তালিকায় থাকা অন্যদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ ও ডিবি তদন্ত করলেও পরে সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করে কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। ২০১৭ সালে সিআইডি ডিএনএ পরীক্ষায় তিন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য জানিয়েছিল। ২০২০ সালের অক্টোবরে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই। বর্তমানে ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম।

আপনার মতামত লিখুন