নদী নেই, নেই কোনো খাল বা জলাশয়। এমনকি বর্ষা মৌসুমেও যেখানে এক ফোঁটা পানি জমে না, এমনই এক ধু-ধু শুকনো জায়গায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি বিশাল সেতু। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নয়াডিঙ্গী বাসস্ট্যান্ড এলাকার এই প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাস্তবতার সঙ্গে মিলহীন এই অবকাঠামো নির্মাণকে সরকারি অর্থের অপচয় হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
সরেজমিনে নয়াডিঙ্গী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে সেতু নির্মাণের জন্য পুরোদমে পাইলিংয়ের কাজ চলছে। প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা থাকলেও নির্মাণাধীন সেতুর নিচে কোনো পানির উৎস নেই; রয়েছে খাঁ খাঁ করা শুকনো জমি। চারপাশ জুড়ে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি, দোকানপাট ও কলকারখানা।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, বহু বছর আগেই এ এলাকায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এককালে নিচু জমি থাকলেও কালের বিবর্তনে তা ভরাট হয়ে সমতলে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো প্রাকৃতিক খাল বা জলাধারের ন্যূনতম অস্তিত্বও নেই। স্থানীয়দের দাবি, এই সেতুটি বর্তমান অবস্থান থেকে ১০০ মিটার পূর্বে নির্মাণ করা হলে সেটি ‘কৌট্টা-নয়াডিঙ্গী-সাটুরিয়া’ সড়কে আন্ডারপাস হিসেবে কাজে লাগত।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজা জামান জিপু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এখানে দৃশ্যমান কোনো নদী বা খাল নেই। বর্ষাতেও পানি থাকে না। একটি ছোট কালভার্ট বা ড্রেন করলেই চলত। অথচ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল সেতু বানানো হচ্ছে। এটি সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।"
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য এই ব্যয়ের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার যুক্তি দিচ্ছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার ফজলুল হক জানান, ১৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এই সেতুর নিচ দিয়ে মূলত একটি আন্ডারপাস তৈরি হবে। এতে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমবে।
তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। আইনজীবী আব্দুল মালেক বলেন, "এখানে আন্ডারপাস করার মতো কোনো সংযোগ সড়ক নেই। সেতুটি ১০০ মিটার পূর্বে করলে সেটি সত্যিকারের জনকল্যাণে আসত। প্রকল্প গ্রহণের আগে কর্মকর্তাদের সরেজমিন গুরুত্ব দিয়ে পরিদর্শনের প্রয়োজন ছিল।"
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, "এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। টেকনিক্যাল নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্থানে আগে সেতু বা কালভার্ট থাকলে তা ভরাট করা যায় না। আগে এখানে একটি সরু সেতু ছিল, আমরা সেটিকে আধুনিক ও বড় সেতুতে রূপান্তর করছি।"
কর্তৃপক্ষ উন্নয়নের দোহাই দিলেও সমতল ভূমিতে কেন সাশ্রয়ী নকশার বক্স কালভার্টের পরিবর্তে বিশাল বাজেটের সেতু করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, যেকোনো বড় প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে কাগজ-কলমের নকশার চেয়ে স্থানীয় বাস্তবতা ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
নদী নেই, নেই কোনো খাল বা জলাশয়। এমনকি বর্ষা মৌসুমেও যেখানে এক ফোঁটা পানি জমে না, এমনই এক ধু-ধু শুকনো জায়গায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি বিশাল সেতু। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নয়াডিঙ্গী বাসস্ট্যান্ড এলাকার এই প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাস্তবতার সঙ্গে মিলহীন এই অবকাঠামো নির্মাণকে সরকারি অর্থের অপচয় হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
সরেজমিনে নয়াডিঙ্গী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে সেতু নির্মাণের জন্য পুরোদমে পাইলিংয়ের কাজ চলছে। প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা থাকলেও নির্মাণাধীন সেতুর নিচে কোনো পানির উৎস নেই; রয়েছে খাঁ খাঁ করা শুকনো জমি। চারপাশ জুড়ে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি, দোকানপাট ও কলকারখানা।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, বহু বছর আগেই এ এলাকায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এককালে নিচু জমি থাকলেও কালের বিবর্তনে তা ভরাট হয়ে সমতলে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো প্রাকৃতিক খাল বা জলাধারের ন্যূনতম অস্তিত্বও নেই। স্থানীয়দের দাবি, এই সেতুটি বর্তমান অবস্থান থেকে ১০০ মিটার পূর্বে নির্মাণ করা হলে সেটি ‘কৌট্টা-নয়াডিঙ্গী-সাটুরিয়া’ সড়কে আন্ডারপাস হিসেবে কাজে লাগত।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজা জামান জিপু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এখানে দৃশ্যমান কোনো নদী বা খাল নেই। বর্ষাতেও পানি থাকে না। একটি ছোট কালভার্ট বা ড্রেন করলেই চলত। অথচ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল সেতু বানানো হচ্ছে। এটি সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।"
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য এই ব্যয়ের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার যুক্তি দিচ্ছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার ফজলুল হক জানান, ১৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এই সেতুর নিচ দিয়ে মূলত একটি আন্ডারপাস তৈরি হবে। এতে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমবে।
তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। আইনজীবী আব্দুল মালেক বলেন, "এখানে আন্ডারপাস করার মতো কোনো সংযোগ সড়ক নেই। সেতুটি ১০০ মিটার পূর্বে করলে সেটি সত্যিকারের জনকল্যাণে আসত। প্রকল্প গ্রহণের আগে কর্মকর্তাদের সরেজমিন গুরুত্ব দিয়ে পরিদর্শনের প্রয়োজন ছিল।"
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, "এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। টেকনিক্যাল নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্থানে আগে সেতু বা কালভার্ট থাকলে তা ভরাট করা যায় না। আগে এখানে একটি সরু সেতু ছিল, আমরা সেটিকে আধুনিক ও বড় সেতুতে রূপান্তর করছি।"
কর্তৃপক্ষ উন্নয়নের দোহাই দিলেও সমতল ভূমিতে কেন সাশ্রয়ী নকশার বক্স কালভার্টের পরিবর্তে বিশাল বাজেটের সেতু করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, যেকোনো বড় প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে কাগজ-কলমের নকশার চেয়ে স্থানীয় বাস্তবতা ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন