সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গ পুননির্বাচন: শুরুতেই ২০ শতাংশ ভোট, মাঠে নেই তৃণমূল


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০২:২৩ পিএম

পশ্চিমবঙ্গ পুননির্বাচন: শুরুতেই ২০ শতাংশ ভোট, মাঠে নেই তৃণমূল

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র-এ পুনর্র্নিবাচন ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চোখে পড়েছে দীর্ঘ ভোটারের লাইন এবং প্রবল উৎসাহ। সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর প্রথম দু’ঘণ্টাতেই ২০.৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা এই কেন্দ্রের ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

এখন পর্যন্ত কোথাও কোনও অশান্তি বা গোলমালের খবর মেলেনি, ফলে সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। মোট ২৮৫টি বুথে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ চলছে এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর তরফে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৩৫ কোম্পানি, যা একটি মাত্র বিধানসভা কেন্দ্রে অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দিক হল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যত সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি। গত সপ্তাহেই তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন, যার পর থেকেই এলাকায় শাসকদলের সংগঠন প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ভোটের দিন কোনও বুথেই তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট বা অস্থায়ী শিবির দেখা যায়নি, যা এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ছবি তুলে ধরেছে। একসময় এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খানের দলীয় কার্যালয়ও বন্ধ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি, এমনকি তাঁর বাড়িতেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। যদিও তিনি ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন, তবুও তাঁর নাম ইভিএমে রাখা হয়েছে, ফলে এই সিদ্ধান্ত কার্যত প্রতীকী বলেই মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিজেপি, সিপিআই(এম) এবং কংগ্রেস এই নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। প্রায় প্রতিটি বুথেই তাদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি দেখা গেছে এবং বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে অস্থায়ী শিবিরও চালু ছিল। ফলে তৃণমূলের অনুপস্থিতির মধ্যেও বিরোধী দলগুলির উপস্থিতি ভোটের লড়াইকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও সকাল থেকেই ভোটারদের লম্বা লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো, যা ভোটদানের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। অনেক ভোটারই দাবি করেছেন, ২০১১ সালের পর এই প্রথম তাঁরা কোনও ভয় ছাড়া ভোট দিতে পারছেন। এক ভোটারের কথায়, তাঁরা বরাবর তৃণমূল সমর্থক হলেও এতদিন ঠিকমতো ভোট দিতে পারেননি, কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় নির্ভয়ে ভোট দিতে পারছেন।

সামগ্রিকভাবে ফলতা পুনর্র্নিবাচন শুধুমাত্র একটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট নয়, বরং রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন হিসেবেই উঠে আসছে। শাসকদলের অনুপস্থিতি, নজিরবিহীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং ভোটারদের উচ্চ উপস্থিতি এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে এই নির্বাচন এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং আগামী দিনে এর প্রভাব রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা পড়বে, সেটাই এখন দেখার।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গ পুননির্বাচন: শুরুতেই ২০ শতাংশ ভোট, মাঠে নেই তৃণমূল

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র-এ পুনর্র্নিবাচন ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চোখে পড়েছে দীর্ঘ ভোটারের লাইন এবং প্রবল উৎসাহ। সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর প্রথম দু’ঘণ্টাতেই ২০.৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা এই কেন্দ্রের ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

এখন পর্যন্ত কোথাও কোনও অশান্তি বা গোলমালের খবর মেলেনি, ফলে সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। মোট ২৮৫টি বুথে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ চলছে এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর তরফে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৩৫ কোম্পানি, যা একটি মাত্র বিধানসভা কেন্দ্রে অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দিক হল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যত সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি। গত সপ্তাহেই তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন, যার পর থেকেই এলাকায় শাসকদলের সংগঠন প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ভোটের দিন কোনও বুথেই তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট বা অস্থায়ী শিবির দেখা যায়নি, যা এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ছবি তুলে ধরেছে। একসময় এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খানের দলীয় কার্যালয়ও বন্ধ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি, এমনকি তাঁর বাড়িতেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। যদিও তিনি ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন, তবুও তাঁর নাম ইভিএমে রাখা হয়েছে, ফলে এই সিদ্ধান্ত কার্যত প্রতীকী বলেই মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিজেপি, সিপিআই(এম) এবং কংগ্রেস এই নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। প্রায় প্রতিটি বুথেই তাদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি দেখা গেছে এবং বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে অস্থায়ী শিবিরও চালু ছিল। ফলে তৃণমূলের অনুপস্থিতির মধ্যেও বিরোধী দলগুলির উপস্থিতি ভোটের লড়াইকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও সকাল থেকেই ভোটারদের লম্বা লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো, যা ভোটদানের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। অনেক ভোটারই দাবি করেছেন, ২০১১ সালের পর এই প্রথম তাঁরা কোনও ভয় ছাড়া ভোট দিতে পারছেন। এক ভোটারের কথায়, তাঁরা বরাবর তৃণমূল সমর্থক হলেও এতদিন ঠিকমতো ভোট দিতে পারেননি, কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় নির্ভয়ে ভোট দিতে পারছেন।

সামগ্রিকভাবে ফলতা পুনর্র্নিবাচন শুধুমাত্র একটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট নয়, বরং রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন হিসেবেই উঠে আসছে। শাসকদলের অনুপস্থিতি, নজিরবিহীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং ভোটারদের উচ্চ উপস্থিতি এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে এই নির্বাচন এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং আগামী দিনে এর প্রভাব রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা পড়বে, সেটাই এখন দেখার।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত