সংবাদ

ন্যায্যমূল্য নিয়ে আক্ষেপের মাঝেই চামড়া শিল্পনগরীতে ঢুকল ৪০ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৮:৪১ এএম

ন্যায্যমূল্য নিয়ে আক্ষেপের মাঝেই চামড়া শিল্পনগরীতে ঢুকল ৪০ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া

​ঈদুল আজহার প্রথম দিনেই ঢাকার সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে প্রবেশ করতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল ৬টা পর্যন্ত সেখানে ৪০ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া এসে পৌঁছে। তবে চামড়ার দাম নিয়ে বিক্রেতাদের মনে রয়েছে তীব্র আক্ষেপ। বাজারে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন।
​সরেজমিনে চামড়া শিল্পনগরী ঘুরে দেখা গেছে, চামড়া প্রবেশ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। ঈদের বাড়তি চাপ সামলাতে বিসিক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
চামড়া শিল্পনগরীর বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাইয়ান জানান, "দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত মোট ১৯২টি ট্রাকে করে শিল্পনগরীতে ৪৩ হাজার ৮৬৭টি কাঁচা চামড়া এসেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৪৩ হাজার ৫১৪টি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ৩৫৩টি।"
তিনি আরও বলেন, "সার্বিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চামড়া প্রবেশের পরিমাণ আরও বাড়বে।"
মূলত দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম গাড়িটি প্রবেশ করে এবং রক্তমাখা এই চামড়াগুলো আসার পর পরই শ্রমিকরা লবণ মাখানোর কাজ শুরু করেন।
​মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে আড়তদাররা অনেক কম দাম বলছেন।
তবে সিতারা বেগম মাদরাসার প্রতিনিধি জানান, আড়তের তুলনায় ট্যানারিতে ভালো দর মিলছে। অনেকে আবার পূর্ব সম্পর্কের খাতিরে দাম নির্ধারণ ছাড়াই চামড়া রেখে যাচ্ছেন, যা পরে নির্ধারণ করা হবে।
দামের এই তারতম্য নিয়ে হেমায়েতপুরের চামড়ার আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, "সমস্যা হচ্ছে অর্থসংকট। আমাদের প্রচুর টাকা ট্যানারিগুলোতে বাকি পড়ে আছে। নগদ প্রবাহ কম থাকায় এবং যেহেতু আমরা লোন ফ্যাসিলিটিও পাই না, কাজেই চামড়া বেশি এসে পড়লে দেখা যায় কিনতে সমস্যা হয়ে যায়। তবে মোটাদাগে আমরা সবসময় চেষ্টা করি সরকার নির্ধারিত মূল্যের অনুপাতেই দাম দেওয়ার। আবার চামড়ার সাইজ এবং মানও নির্ভর করে দর বিবেচনার ক্ষেত্রে।"
​অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরা জানাচ্ছেন, ব্যবসায়িক মন্দা, দরপতন এবং চীনের ওপর একক নির্ভরতার কারণে আগের সেই উৎসবমুখর পরিবেশ আর নেই। আজমীর লেদারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, "এই দফায় ২০ হাজার পিস চামড়া কেনার লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। এরইমধ্যে পাঁচ হাজারের মতো চামড়া চলে এসেছে। মূলত আমাদের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্কের সূত্রে যারা চামড়া নিয়ে আসছেন, তাদের চামড়াগুলোই কিনছি। কেননা এখনো আমার কারখানায় ৫০ হাজার পিসের ওপরে চামড়া স্টকে রয়েছে।"
ব্যবসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো হলে সেটি সবার জন্যই কল্যাণকর হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এমনকি অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যাদের মূলধন এরইমধ্যে অর্ধেক হয়ে গেছে।"
​তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক ও সমতা লেদারের মালিক মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, "এ বছর কমবেশি এক কোটি পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। এখন পর্যন্ত মার্কেট পরিস্থিতিও ভালো রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে ভলিউম বেচাকেনাটা রাতে হওয়ার কারণে সমস‌্যা। দিনের বেলা যেভাবে একটা চামড়া দেখে নেওয়া যায়, রাতে তো সেটা পারা যায় না। ফলে তখন দর কম হলে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। এবারও ভলিউম বেচাকেনা রাতেই হবে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কেট পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


ন্যায্যমূল্য নিয়ে আক্ষেপের মাঝেই চামড়া শিল্পনগরীতে ঢুকল ৪০ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image

​ঈদুল আজহার প্রথম দিনেই ঢাকার সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে প্রবেশ করতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল ৬টা পর্যন্ত সেখানে ৪০ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া এসে পৌঁছে। তবে চামড়ার দাম নিয়ে বিক্রেতাদের মনে রয়েছে তীব্র আক্ষেপ। বাজারে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন।
​সরেজমিনে চামড়া শিল্পনগরী ঘুরে দেখা গেছে, চামড়া প্রবেশ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। ঈদের বাড়তি চাপ সামলাতে বিসিক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
চামড়া শিল্পনগরীর বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাইয়ান জানান, "দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত মোট ১৯২টি ট্রাকে করে শিল্পনগরীতে ৪৩ হাজার ৮৬৭টি কাঁচা চামড়া এসেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৪৩ হাজার ৫১৪টি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ৩৫৩টি।"
তিনি আরও বলেন, "সার্বিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চামড়া প্রবেশের পরিমাণ আরও বাড়বে।"
মূলত দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম গাড়িটি প্রবেশ করে এবং রক্তমাখা এই চামড়াগুলো আসার পর পরই শ্রমিকরা লবণ মাখানোর কাজ শুরু করেন।
​মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে আড়তদাররা অনেক কম দাম বলছেন।
তবে সিতারা বেগম মাদরাসার প্রতিনিধি জানান, আড়তের তুলনায় ট্যানারিতে ভালো দর মিলছে। অনেকে আবার পূর্ব সম্পর্কের খাতিরে দাম নির্ধারণ ছাড়াই চামড়া রেখে যাচ্ছেন, যা পরে নির্ধারণ করা হবে।
দামের এই তারতম্য নিয়ে হেমায়েতপুরের চামড়ার আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, "সমস্যা হচ্ছে অর্থসংকট। আমাদের প্রচুর টাকা ট্যানারিগুলোতে বাকি পড়ে আছে। নগদ প্রবাহ কম থাকায় এবং যেহেতু আমরা লোন ফ্যাসিলিটিও পাই না, কাজেই চামড়া বেশি এসে পড়লে দেখা যায় কিনতে সমস্যা হয়ে যায়। তবে মোটাদাগে আমরা সবসময় চেষ্টা করি সরকার নির্ধারিত মূল্যের অনুপাতেই দাম দেওয়ার। আবার চামড়ার সাইজ এবং মানও নির্ভর করে দর বিবেচনার ক্ষেত্রে।"
​অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরা জানাচ্ছেন, ব্যবসায়িক মন্দা, দরপতন এবং চীনের ওপর একক নির্ভরতার কারণে আগের সেই উৎসবমুখর পরিবেশ আর নেই। আজমীর লেদারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, "এই দফায় ২০ হাজার পিস চামড়া কেনার লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। এরইমধ্যে পাঁচ হাজারের মতো চামড়া চলে এসেছে। মূলত আমাদের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্কের সূত্রে যারা চামড়া নিয়ে আসছেন, তাদের চামড়াগুলোই কিনছি। কেননা এখনো আমার কারখানায় ৫০ হাজার পিসের ওপরে চামড়া স্টকে রয়েছে।"
ব্যবসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো হলে সেটি সবার জন্যই কল্যাণকর হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এমনকি অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যাদের মূলধন এরইমধ্যে অর্ধেক হয়ে গেছে।"
​তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক ও সমতা লেদারের মালিক মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, "এ বছর কমবেশি এক কোটি পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। এখন পর্যন্ত মার্কেট পরিস্থিতিও ভালো রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে ভলিউম বেচাকেনাটা রাতে হওয়ার কারণে সমস‌্যা। দিনের বেলা যেভাবে একটা চামড়া দেখে নেওয়া যায়, রাতে তো সেটা পারা যায় না। ফলে তখন দর কম হলে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। এবারও ভলিউম বেচাকেনা রাতেই হবে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কেট পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত