২০১৬ সালে মিলান ফাইনালের পর ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন যে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালও ৯০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হতে পারে। এক দশক পর বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আবারও দেখল নির্ধারিত সময় পেরিয়ে অতিরিক্ত সময় এবং শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকার। শনিবার (৩০ মে) রাতে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট মাথায় পরল ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ২০২৫ সালের আগপর্যন্ত একটি শিরোপার জন্য হাহাকার করা প্যারিসের ক্লাবটি এখন টানা দুটি ট্রফি জিতে ইউরোপীয় ফুটবলের রাজকীয় মঞ্চে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করল।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য দুর্দান্ত ছিল গানারদের। খেলার মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই পিএসজি ডিফেন্ডার মারকিনিওসের একটি ক্লিয়ারেন্স আর্সেনালের লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে চলে যায় কাই হাভার্টজের সামনে। সেই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান ফরোয়ার্ড বুলেট গতির শটে গোল করে আর্সেনালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনভের তখন চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে হাভার্টজ নিজের দ্বিতীয় গোলটি প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন, তবে মারকিনিওসের দৃঢ়তায় সে যাত্রা রক্ষা পায় পিএসজি।
গত বছরের চ্যাম্পিয়ন দলের ১০ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে মাঠে নামা পিএসজি শুরুতে গোল হজম করলেও অভিজ্ঞতার কারণে মোটেই আড়ষ্ট হয়ে পড়েনি। গোল পাওয়ার পর আর্সেনাল রক্ষণাত্মক কৌশলে চলে গেলে উসমান দেম্বেলে, ফ্যাবিয়ান রুইস ও দিজিয়ের দুয়েরা আক্রমণের ধার বাড়ান।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। বিরতি শেষে মাঠে ফিরতে দুই মিনিট দেরি করায় এবং পরে সময় নষ্ট করার অপরাধে হলুদ কার্ড দেখেন আর্সেনালের ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে এই মস্কেরাই বক্সে ঢোকা পিএসজির কাভারাস্কেইয়াকে ফাউল করে বসেন। পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে পিএসজিকে ১-১ সমতায় ফেরান উসমান দেম্বেলে।
সমতায় ফেরার পর পিএসজির দাপট আরও বাড়ে। তবে কাভারাস্কেইয়ার শট পোস্টে লাগা এবং বারকোলার দুটি সহজ সুযোগ মিসের কারণে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে টিম্বার ও গিওকেরেস আর্সেনালের পক্ষে দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হন। ফলে খেলা শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে রূপ নেয়।
টাইব্রেকারেও নাটকীয়তার শেষ ছিল না। আর্সেনালের দ্বিতীয় শট নিতে আসা এবেরেচি এজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর পিএসজির নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে দেন গানার কিপার দাভিড রায়া। ফলে প্রথম ৪ শট শেষে সমতা বিরাজ করছিল। তবে শেষ শটে পিএসজির লুকাস বেরালদো সফলভাবে জাল খুঁজে পেলেও আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস বল মারেন বারের ওপর দিয়ে।
আর তাতেই ৪-৩ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার অনন্য কীর্তি গড়ল পিএসজি।

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
২০১৬ সালে মিলান ফাইনালের পর ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন যে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালও ৯০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হতে পারে। এক দশক পর বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আবারও দেখল নির্ধারিত সময় পেরিয়ে অতিরিক্ত সময় এবং শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকার। শনিবার (৩০ মে) রাতে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট মাথায় পরল ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ২০২৫ সালের আগপর্যন্ত একটি শিরোপার জন্য হাহাকার করা প্যারিসের ক্লাবটি এখন টানা দুটি ট্রফি জিতে ইউরোপীয় ফুটবলের রাজকীয় মঞ্চে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করল।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য দুর্দান্ত ছিল গানারদের। খেলার মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই পিএসজি ডিফেন্ডার মারকিনিওসের একটি ক্লিয়ারেন্স আর্সেনালের লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে চলে যায় কাই হাভার্টজের সামনে। সেই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান ফরোয়ার্ড বুলেট গতির শটে গোল করে আর্সেনালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনভের তখন চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে হাভার্টজ নিজের দ্বিতীয় গোলটি প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন, তবে মারকিনিওসের দৃঢ়তায় সে যাত্রা রক্ষা পায় পিএসজি।
গত বছরের চ্যাম্পিয়ন দলের ১০ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে মাঠে নামা পিএসজি শুরুতে গোল হজম করলেও অভিজ্ঞতার কারণে মোটেই আড়ষ্ট হয়ে পড়েনি। গোল পাওয়ার পর আর্সেনাল রক্ষণাত্মক কৌশলে চলে গেলে উসমান দেম্বেলে, ফ্যাবিয়ান রুইস ও দিজিয়ের দুয়েরা আক্রমণের ধার বাড়ান।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। বিরতি শেষে মাঠে ফিরতে দুই মিনিট দেরি করায় এবং পরে সময় নষ্ট করার অপরাধে হলুদ কার্ড দেখেন আর্সেনালের ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে এই মস্কেরাই বক্সে ঢোকা পিএসজির কাভারাস্কেইয়াকে ফাউল করে বসেন। পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে পিএসজিকে ১-১ সমতায় ফেরান উসমান দেম্বেলে।
সমতায় ফেরার পর পিএসজির দাপট আরও বাড়ে। তবে কাভারাস্কেইয়ার শট পোস্টে লাগা এবং বারকোলার দুটি সহজ সুযোগ মিসের কারণে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে টিম্বার ও গিওকেরেস আর্সেনালের পক্ষে দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হন। ফলে খেলা শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে রূপ নেয়।
টাইব্রেকারেও নাটকীয়তার শেষ ছিল না। আর্সেনালের দ্বিতীয় শট নিতে আসা এবেরেচি এজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর পিএসজির নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে দেন গানার কিপার দাভিড রায়া। ফলে প্রথম ৪ শট শেষে সমতা বিরাজ করছিল। তবে শেষ শটে পিএসজির লুকাস বেরালদো সফলভাবে জাল খুঁজে পেলেও আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস বল মারেন বারের ওপর দিয়ে।
আর তাতেই ৪-৩ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার অনন্য কীর্তি গড়ল পিএসজি।

আপনার মতামত লিখুন