গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা বাজার খেয়াঘাটে তিস্তার শাখা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি এখন চরবাসীর দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণের মাত্র ৯ মাসের মাথায় গত বছরের অক্টোবর মাসে বন্যার স্রোতে সেতুটি ভেসে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে উপজেলার বেলকা ও হরিপুর ইউনিয়নের অন্তত ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এডিবির প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কংক্রিটের খুঁটির ওপর এই কাঠের সেতুটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। শুরু থেকেই সেতুটির নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন এলাকাবাসী। এমনকি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল তুলে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ম আর নকশাগত ত্রুটির কারণেই ২০২৪ সালের অক্টোবরে পানির সামান্য স্রোতে সেতুটি ধসে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের মানুষের। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে ভাঙা সেতুটির ওপর বাঁশের চাটাই দিয়ে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই নড়বড়ে সেতুর ওপর দিয়েই প্রতিদিন বেলকা এমসি উচ্চ বিদ্যালয়, বেলকা ডিগ্রি কলেজসহ অন্তত ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শ শিক্ষার্থী যাতায়াত করছে।
বেলকা বাজারের ব্যবসায়ী স্বাধীন মিয়া বলেন, 'বেলকা ও হরিপুর ইউনিয়রে ২০ হাজার চরবাসির র্দীর্ঘ দিনের চাওয়া পাওয়ার এখন কি হবে? এ দায় কার? এ বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।'
বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোলজার রহমান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেতুটি মেরামতের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আপাতত বাঁশ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তা দিয়ে ভারি কোনো মালামাল বা যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ওই স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে আপাতত এলজিইডির পক্ষ থেকে এটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা নেই।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা বাজার খেয়াঘাটে তিস্তার শাখা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি এখন চরবাসীর দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণের মাত্র ৯ মাসের মাথায় গত বছরের অক্টোবর মাসে বন্যার স্রোতে সেতুটি ভেসে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে উপজেলার বেলকা ও হরিপুর ইউনিয়নের অন্তত ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এডিবির প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কংক্রিটের খুঁটির ওপর এই কাঠের সেতুটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। শুরু থেকেই সেতুটির নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন এলাকাবাসী। এমনকি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল তুলে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ম আর নকশাগত ত্রুটির কারণেই ২০২৪ সালের অক্টোবরে পানির সামান্য স্রোতে সেতুটি ধসে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের মানুষের। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে ভাঙা সেতুটির ওপর বাঁশের চাটাই দিয়ে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই নড়বড়ে সেতুর ওপর দিয়েই প্রতিদিন বেলকা এমসি উচ্চ বিদ্যালয়, বেলকা ডিগ্রি কলেজসহ অন্তত ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শ শিক্ষার্থী যাতায়াত করছে।
বেলকা বাজারের ব্যবসায়ী স্বাধীন মিয়া বলেন, 'বেলকা ও হরিপুর ইউনিয়রে ২০ হাজার চরবাসির র্দীর্ঘ দিনের চাওয়া পাওয়ার এখন কি হবে? এ দায় কার? এ বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।'
বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোলজার রহমান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেতুটি মেরামতের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আপাতত বাঁশ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তা দিয়ে ভারি কোনো মালামাল বা যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ওই স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে আপাতত এলজিইডির পক্ষ থেকে এটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা নেই।

আপনার মতামত লিখুন